প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

‘গরিবের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে ভ্যাকসিন’

27
'গরিবের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে ভ্যাকসিন'
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও করো’না ভাই’রাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি, ‘অন্ধকারে আশার আলো’ দেখাচ্ছে। এবার নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সফল হয়ে কবে আসবে কাঙ্ক্ষিত ভ্যাকসিনটি, সেই দিন গুনছে মানুষ।

এরইমধ্যে পদে পদে যেসব প্রতিবন্ধকতা আসবে, সেগুলো সমাধান করতে পারলে চলতি বছরের বিজয়ের মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বরেই এই ভ্যাকসিন বাজারে আনা সম্ভব হবে জানিয়েছে গ্লোব বায়োটেক। শুধু তা-ই নয়, বাজারে এলে সেটি দেশের ১৬ কোটি মানুষের কেনার সক্ষমতার মধ্যেই থাকবে বলেও জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ড. আসিফ মাহমুদ।

সম্প্রতি তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আম’রা আপাতত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় নিচ্ছি আমাদের রেগুলেটেড এনিমেল ট্রায়াল করতে। এরপর আম’রা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রটোকল বিএমআরসিতে (বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ) জমা দেব।

বিএমআরসির অথোরাইজেশন বোর্ড আমাদের অনুমতি দিলে সিআরও দিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাব। এরপর আম’রা মা’র্কেট অথোরাইজেশনের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে যাব। এখানে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের হাতের নাগালে নেই।

যেহেতু এই ভ্যাকসিনটা আমাদের দেশে প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছে, সেহেতু এটা সবার জন্যই নতুন একটি অ’ভিজ্ঞতা। এখানে পদে পদে যেসব প্রতিবন্ধকতা আসবে, সেগুলো আম’রা যদি একে একে সমাধান করতে পারি, তাহলে আমি আশা করছি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই করো’না ভাই’রাসের এই ভ্যাকসিন আম’রা বাজারে আনতে পারব।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. আসিফ বলেন, দামের বিষয়টি নিয়ে আসলে এখনই এভাবে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে আমা’র যেটা মনে হয়, যেহেতু এই টিকা বাংলাদেশে তৈরি করতে পারব, তাই দাম বিদেশ থেকে আনা ওষুধের চেয়ে অবশ্যই অনেক কম হবে।

তবে সার্বিক খরচটা নির্ভর করছে হিউম্যান ট্রায়ালের ওপরে। কারণ আপনারা জানেন ফেস-১, ফেস-টু, ফেস-৩ সহ আরও বিভিন্ন ধাপে এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে হয়। যেহেতু একটা থার্ডপার্টি দিয়ে সিআরও করাতে হয়, তাদের খরচ কেমন, সার্বিকভাবে সবকিছু বিবেচনা করে একটি ড্রা’গের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে আম’রা বাংলাদেশে করো’না ভাই’রাসের ভ্যাকসিন তৈরি করেছি একটা উদ্দেশ্য নিয়েই, যেন বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনটা দিতে পারি। সুতরাং সাধারণ মানুষের কেনার সক্ষমতার মধ্যে দাম থাকবে বলে আশা করছি।

ভ্যাকসিনটির প্রাথমিক পর্যায়ের ট্রায়াল, অগ্রগতি, সামনে কী’ কী’ কাজ হবে, আরও কয় ধাপ পেরোতে হবে, কার্যকারিতা কেমন হতে পারে, এমনকি ডেলিভা’রি মেকানিজম কী’ভাবে হতে পারে, এ সংক্রান্ত সার্বিক বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন ড. আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিনটি প্রাথমিক পর্যায়ে আম’রা পাঁচটি খরগোশের ওপরে ট্রায়াল করি। আম’রা যেহেতু তিনটা ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট নিয়ে কাজ করছি, সে কারণে তিনটা ক্যান্ডিডেট আম’রা তিনটি খরগোশের শরীরে প্রয়োগ করি।

এরপর একটা খরগোশ কন্ট্রোলড থাকে, যেটাতে আম’রা কোনো ভ্যাকসিন প্রয়োগ করিনি। আরেকটি খরগোশের শরীরে আম’রা প্লাসিবো দিই, সেখানে ভ্যাকসিনের অ্যাক্টিভ ম্যাটারিয়াল ছিল না, শুধু ফর্মুলেশন বাফার দেওয়া হয়। কন্ট্রোলে যেটা ছিল, সেটাতে কোনো কিছুই ইনজেক্ট করা হয়নি। আর যে খরগোশটিকে প্লাসিবো দেওয়া হয়, সেটি নরমাল ছিল। এরপর ১৪তম দিনে আমাদের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা তিনটি খরগোশের শরীর থেকে র’ক্ত সংগ্রহ করি। র’ক্ত থেকে সিরাম আলাদা করে আম’রা দেখতে পাই তিনটি খরগোশের শরীরেই যথেষ্ট পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

‘আম’রা মোট চারটি ক্যান্ডিডেট এবং তিনটি ডিফারেন্ট ডেলিভা’রি মেকানিজম নিয়ে কাজ করছি।‌ আমাদের বর্তমান ট্রায়ালে তিনটি টার্গেট। একটি ডেলিভা’রি মেকানিজম নিয়ে। আম’রা আরও ব্যাপকভাবে এনিমেলের ওপর ট্রায়াল করব। সেখানে আরও নয়টি ক্যান্ডিডেটের ট্রায়াল হবে। সার্বিক ফলাফল পর্যালোচনা করে যে ক্যান্ডিডেটের রেজাল্ট বেশি সুইটেবল হবে, আম’রা সেটা নিয়েই হিউম্যান ট্রায়ালে যাব।’

ড. আসিফ মাহমুদ এও বলেন, আমি প্রথমেই বলেছি, আম’রা একটি বায়ো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। বায়ো ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি হিসেবে বায়োলজিকস প্রডাক্ট বিষয়ে কাজের অ’ভিজ্ঞতা আমাদের আছে। সেই অ’ভিজ্ঞতা আম’রা এখানে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছি। বায়োলজিকস প্রডাক্ট কোয়ালিটি অ’ত্যন্ত কঠিনভাবে মেইনটেইন করতে হয়। আম’রা করো’না ভাই’রাসের ভ্যাকসিন তৈরি করতে গিয়েও সেই কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করেছি।

টোটাল প্রসেসিং কোয়ালিফাইড করেই আমাদের ফাইনাল ফর্মুলেশন প্রোডাক্টটা তৈরি করতে পেরেছি। সে কারণে আম’রা ইনিশিয়াল ট্রায়ালে কোনো ধরনের ট’ক্সিসিটি পাইনি। সুতরাং আম’রা বলতে পারি এটা মানুষের শরীরেও কোনো ধরনের ট’ক্সিসিটি তৈরি করবে না। এখন মূল কথা, মানুষের শরীরে করো’না ভাই’রাসের বি’রুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারবে কি-না, সেটা শরীরে প্রয়োগ করলেই জানা সম্ভব।

আমাদের আত্মবিশ্বা’সের জায়গাটা হচ্ছে, বিশ্ববিখ্যাত যত ভ্যাকসিন কোম্পানির নাম শুনবেন, যেমন আ’মেরিকার ম’র্ডানা, তারা একটিমাত্র ক্যান্ডিডেট এবং একটি ডেলিভা’রি সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে। কিংবা যু’ক্তরাজ্যের ড. সারাহ গিলবার্ট টিমের কথা শুনবেন, তারাও ভাই’রাল ফ্যাক্টর ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। তবে আম’রা একইসঙ্গে ১২টি ক্যান্ডিডেট নিয়ে কাজ করছি। তাই আমাদের টিকার সফলতার হার নিয়ে আম’রা গভীর আত্মবিশ্বা’সী।

গবেষক আসিফ মাহমুদ বলেন, করো’না ভাই’রাসের ভ্যাকসিন প্রজেক্টটা তৈরি করেছি বায়োটেক লিমিটেডের পক্ষ থেকে। এটা একটা বায়ো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। আম’রা বায়োলজিকস ড্রা’গ তৈরি করি। কিন্ত গত ০৮ মা’র্চ যখন দেশে প্রথম করো’না আ’ক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়, তখন আম’রা দৃষ্টি দিই কোভিড-১৯ রোগের দিকে।

আম’রা একসঙ্গে তিনটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করি। রিসার্স এবং ডেভেলপমেন্ট টিমের নেতৃতে আমি রয়েছি। আর আমাদের ওভা’রঅল সবগুলো প্রোজেক্টের প্ল্যানিং এবং তত্ত্বাবধান করেন গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মক’র্তা (সিইও) ও গবেষক দলের প্রধান ড. কাকন নাগ এবং প্রতিষ্ঠানের সিওও ড. নাজনীন সুলতানা। এছাড়াও আমাদের কোম্পানির আরও অনেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। এবং করছেন।

ড. আসিফ আরও বলেন, আম’রা কিন্তু পুরো ভাই’রাসকে ভ্যাকসিনের টার্গেট হিসেবে গ্রহণ করিনি। টার্গেট হিসেবে আম’রা করো’না ভাই’রাসের একটি পোর্শন নিয়েছি। কোন পোর্শন নেব, সেটার জন্য আমাদের কিছু বায়োইনফরমেটিক্স সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়েছে।

আম’রা যেটা করেছি, যখন টার্গেট সিলেক্ট করি, তখন ডাটাবেজে যতগুলো সিকোয়েন্স সাবমিটেড হয়েছিল, এরমধ্যে বাংলাদেশের সিকোয়েন্সও ছিল, সবগুলো সিকোয়েন্স এনালাইসিস করেই আম’রা টার্গেট করি। প্রতিনিয়ত যত নতুন নতুন সিকোয়েন্স আসছে, সেগুলোকেও আম’রা কনসিডার করছি। আম’রা যে টার্গেট সেট করেছি, সেটা কতটা অ্যাপ্রোপ্রিয়েট হলো, সেটাও দেখছি। ওই টার্গেটের মাঝখানে কোনো মিউটেশন হলো কি-না, সেটাও দেখছি। এসব আবার আমাদের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি তৈরিতে কোনো ধরনের বাধা দেবে কি-না, সেটাও খেয়াল রাখছি। এরপরেও ভ্যাকসিন প্রতিনিয়ত আপডেট করার সুযোগ রয়েছে।

সৌজন্য : বাংলানিউজ

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares