প্রচ্ছদ আইন-আদালত

‘মাইকোর্ট’ কার্যকরে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন

16
‘মাইকোর্ট’ কার্যকরে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক  :     ‘মাইকোর্ট’ ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা দায়ের করতে প্রায় একমাস আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল হাইকোর্ট প্রশাসন। আইনজীবীরা বলছেন, এই পোর্টালের মাধ্যমে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পরিচালিত হতে পারে। তবে বিজ্ঞপ্তি জারির পর একমাসেও এটি কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় ‘মাইকোর্ট’ পোর্টালটি অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক আইনজীবী প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদনও করেছেন।

বেশ কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘মাইকোর্ট’ ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে মামলার ফাইলিং করা হলে তাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই পোর্টালকে তারা ‘সুন্দর সিস্টেম’ বলে অভিহিত করছেন।

তারা বলছেন, এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। অনলাইনে মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়া যায়। ট্র্যাকিং নম্বর অনুযায়ী মামলাগুলো যথানিয়মে কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অথচ এই সিস্টেমটি কার্যকর না করে ই-মেইলের মাধ্যমে মামলা নেয়া হচ্ছে। এতে মামলা কার্যতালিকায় তোলা নিয়ে দুর্নীতি করার সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান বলেন, আমরা সবাই সংশ্লিষ্ট কোর্টের বিচারপতির কাছে মেইল করি। মাইকোর্ট পোর্টালে আবেদন করতে গেলেও কোনো সমস্যা হয় কি-না তাই আমরা সরাসরি কোর্টেই আবেদন করছি।

আরও পড়ুন:  ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক ৩ দিনের রিমান্ডে

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল বলেন, আমরা মাইকোর্ট পোর্টালে আবেদন করি না, কারণ সেখানে কিছু জটিলতা রয়েছে।

‘মাইকোর্ট’ কার্যকর নয়, অভিযোগ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিকদার মাহমুদুর রাজী বলেন, অনেকবার চেষ্টা করেও ‘মাইকোর্ট’ ব্যবহার করে মামলার ফাইল করতে পারিনি। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্রকে জানানো হলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সে আশ্বাসে কোনো কাজ হয়নি। বরং তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে মামলা ফাইলিংয়ের পরামর্শ দেন।

এদিকে, ‘মাইকোর্ট’ কার্যকর চেয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি আবেদনে বলেন, গত ৯ জুন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘মাইকোর্ট’ ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করার কথা বলা হয়। বিজ্ঞপ্তির আলোকে এই ওয়েব পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করি। ‘মাইকোর্ট’ পোর্টালে মামলা ব্যবস্থাপনা ছিল ব্যবহার উপযোগী ও জবাবদিহিতামূলক। মামলা দায়েরের পর তাৎক্ষণিক ট্র্যাকিং নম্বর ও ভিসি নম্বর পাওয়া যেত। পরে এই ট্র্যাকিং নম্বর অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যতালিকায় মামলাটি প্রদর্শিত হওয়ার ব্যবস্থা ছিল। আমরা নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে মামলার গতিবিধি নির্ণয় করতে পারতাম।

তবে ‘মাইকোর্ট’ পোর্টালের মাধ্যমে মামলা করে ট্র্যাকিং নম্বর পেলেও এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরও পোর্টালে দায়ের করা কোনো মামলা আদালতের কার্যতালিকায় আসেনি বলে অভিযোগ করেন আইনজীবী শিশির মনির।

আরও পড়ুন:  রিজেন্টের প্রতারণা : ভুক্তভোগীদের টাকা ও ক্ষতিপূরণ দিতে রিট

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য গত ২১ জুন তাকে পাঠাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত ‘মাইকোর্ট’ পোর্টালে কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘মাইকোর্ট’ জুডিশিয়াল পোর্টাল কার্যকর করার আবেদন করেন তিনি।

তবে ‘মাইকোর্ট’ কার্যকর না হওয়া নিয়ে আইনজীবীদের অভিযোগ অস্বীকার করেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। যেদিন থেকে প্রজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে, সেদিন থেকেই এটি কার্যকর।’

ভার্চুয়াল হাইকোর্টে যারা মামলা পরিচলনা করতে চান তাদের মাইকোর্ট ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে গত ৯ জুন হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ১১ জুন এই বিজ্ঞপ্তি সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এই বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।