প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

যার ছত্রছায়ায় জালিয়াত সাহেদের উত্থান, সেই গডফাদারের পরিচয়

197
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রিজেন্ট হাসপাতালের জালিয়াতি। ভ’য়ংকর সব ঘটনার মূল হোতা ঐ হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদ। ক’দিন আগেও মূলধারার গণমাধ্যমে যাকে নিয়ে স্তুতি চলতো, মূলধারার গণমাধ্যমে যিনি সুশীল হিসেবে এসে জাতিকে জ্ঞান দিতেন, এখন একের পর কাহিনী বের হচ্ছে সেই সাহেদের। তার নানা অ’পকর্মের কথা বলা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এতদিন আমাদের গণমাধ্যম কোথায় ছিল?

আজ যখন এই অ’পকর্মগুলোর খবর গণমাধ্যমে আসছে, তখন দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন যাবত মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি করা এই ঠগ সুশীল হিসেবে পরিচিত হয়েছেন এবং সমাজে সুশীল হিসেবে তাকে পরিচিত করেছে আমাদের গণমাধ্যম, বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এখন সৃষ্টিশীলতার অকাল দুর্ভিক্ষে ভুগছে, প্রায় সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেলই কিছু গৎবাঁধা ছকে আটকে আছে। তাদের মধ্যে নেই কোন সৃজনশীলতা। আর এজন্যেই সাহেদের মতো জালিয়াতদের ভাড়া করে নিয়ে আসা হচ্ছে বিভিন্ন টক শো তে। বাংলাদেশে এই টক শোগুলোতে নাকি অনেকেই টাকা-পয়সা দিয়ে আসে এরকম খবর আগে কানে-কানে শোনা হতো, এখন তা প্রকাশ্য হচ্ছে।

এসব আমাদের আলোচনার বিষয় নয়, মানুষ এখন টেলিভিশন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মানুষ এখন ইউটিউব বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। সেটাও ভিন্ন বিষয়। তবে সাহেদের উত্থানের পেছনে রয়েছে কিছু গডফাদার। দেখা যাচ্ছে, র‍্যাব যেখানে অভিযান চালিয়েছে সেখানে সাহেদের সঙ্গে বাংলাদেশের সকল ভিআইপি বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ছবি পেয়েছে। এই জালিয়াতদের মূল লক্ষ্য থাকে ভিআইপিদের সঙ্গে যে কোনোভাবে ছবি তুলে সাধারণ মানুষের সাথে জালিয়াতিতে তা ব্যবহার করা। সাহেদ এই কাজটিই করেছে।

আরও পড়ুন:  নারী নির্যাতনের আন্দোলন ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে : তথ্যমন্ত্রী

কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাহেদেরও গডফাদার ছিল এবং এই গডফাদাররা সাহেদকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে সাহেদকে বিভিন্ন জেলার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কক্ষে নিয়মিত থাকতেন সাহেদ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিতেন। ঐ কর্মকর্তা প্রায় ৫ বছর যাবত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ছিলেন এবং তার পৃষ্ঠপোষকতা এবং তার আপ্যায়ণে সাহেদ বিকশিত হয়েছে, বেড়ে উঠেছে।

প্রশ্ন হলো, যে লোকটি হাওয়া ভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যে খাম্বা মামুনের বিজনেস পার্টনার ছিল এবং যে লোকটি তারেক জিয়ার চাকর পর্যায়ের ছিল, সে কীভাবে একজন সৎ-মেধাবী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন? শুধু ঘনিষ্ঠই নয়, তাকে দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের মতো সেনসেটিভ কাজও কীভাবে করা হয়? তাকে কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নেওয়া হয়?

তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যারা বসছেন তারা কার সাথে মিশছেন বা কাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়না। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক এই কর্মকর্তা এক সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সেই দায়িত্ব পালনের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর তার একটি নজরদারি আছে। ঐ কর্মকর্তার কারণেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একের পর এক বিপ’র্যয় ঘটেছে বলে মনে করেন অনেকে।

আরও পড়ুন:  আন্দোলনে ব্যর্থ হলে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার রেকর্ড নেই: সেতুমন্ত্রী

কারণ এম এম নিয়াজউদ্দিনের বিদায়ের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাকে সচিব করা হয় তিনিই আবার মিঠুকে পুনর্বাসিত করেছেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং সেখানে মিঠুর সঙ্গে তাদের গোপন লেনদেনের কথা বাজারে চাউর রয়েছে। সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের পর আসাদুল ইসলামকে সচিব করার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সেই কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে অনেকেই ধারণা করেন।

২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় সাহেদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সেই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার কী সম্পর্ক ছিল তা যাচাই-বাছাই করা দরকার। কারণ শুধুমাত্র নিজের ভূয়া পরিচয় দিয়ে কেউ জালিয়াতি করতে পারেন না। প্রত্যেকটি অপ’কর্মের পেছনে একজন গডফাদার থাকে। তাই খুঁজে বের করতে হবে, এই জালিয়াত সাহেদের গডফাদার কে?

বাংলাইনসাইডার

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক !

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।