প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

শেখ হাসিনার ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিচ্ছে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতিবাজরা?

24
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বিশেষ প্রতিবেদন:

আমরা জানি, শেখ হাসিনা ধৈর্য্যশীল, ক্ষমাশীল এবং তার সহ্য ক্ষমতা অ’পরিসীম। আর এই করোনাকালে তার সহ্য ক্ষমতার আমরা নতুন মাত্রা দেখছি, তিনি ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাইছেন। কিন্তু শেখ হাসিনার এই ধৈর্য্য এবং সহ্য ক্ষমতাকে অনেকে দূর্বলতা মনে করছে কি না সেই ব্যাপারে জনগণের মনে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষ করে মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্যক্তির জন্য জনদুর্ভোগ যে চরম সীমায় পৌঁছে গেছে সেজন্য মানুষ অপেক্ষা করছে, শেখ হাসিনার ধৈর্য্যের বাঁধ কখন ভা’ঙবে, কখন তার সহ্যের সীমা অতিক্রম করবে?

কারণ করোনা পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে ন্যা’ক্কারজনক, নজিরবিহীন, অক’র্মণ্যতা, অ’যোগ্যতা এবং দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে তাতে তাদের বিরু’দ্ধে বহু আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য্যশীল ও ক্ষমাশীল; তিনি মনে করেছেন, করোনা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই নতুন অভিজ্ঞতা। তাই তাদের হয়তো বুঝে উঠতে সময় লাগছে। তারা হয়তো খাপ খাওয়াতে পারেনি। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে, আসলে সমস্যা তাদের আন্তরিকতায়, তারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তারা জনগণ এবং সরকারের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করছে। এখন প্রধানমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নেন সেদিকে তাকিয়ে আছে আপামর জনগণ। শেখ হাসিনা এই সমস্ত অ’পকর্মকারী, দুর্নীতিবাজদের বিরু’দ্ধে কী সিদ্ধান্ত নেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ এটার সঙ্গে মানুষের জীবন-মৃ’ত্যুর প্রশ্ন জড়িত।

আরও পড়ুন:  ইউটিউব চ্যানেল-আইপি টিভি সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে না

করোনা সং’কটের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একের পর এক অ’পকর্ম করেছে। চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে যেমন তারা অ’পকর্ম করেছে, তেমনি করোনা পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব এমন সব জালিয়াতদের হাতে তুলে দিয়েছে যারা নমুনা পরীক্ষা না করেই মানুষদের ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমন কর্মকাণ্ড করেছে- যা কোনো মানুষের পক্ষে করা অ’সম্ভব। এই করোনাকালেও দুর্নীতিবাজদের উল্লাসের নৃত্য দেখা গেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। প্রত্যেকটা কেনাকাটায় নজিরবিহীন দুর্নীতি হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য যে মেশিন কেনা হয়েছে সেই মেশিন কেনা হয়েছে ২০০৯ এর মডেলের। সারাদেশে মেশিন বসানোর ক্ষেত্রে সীমাহীন উদাসীনতা দেখা গেছে। যে হাসপাতালগুলোকে করোনা চিকিৎসার জন্য করা হয়েছে সেই হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা কখনোই দেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একমাত্র চিন্তা কোন কাজ দিলে কে কত টাকা দেবে। এরকম ভাবনা থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি এখন রুপকথাকেও হার মানিয়েছে।

আরও পড়ুন:  রিজভীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি

সর্বশেষ রিজেন্ট হাসপাতালের যে ঘটনা, তাতে মানুষ বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে। যেই হাসপাতালটির অনুমোদন নেই, সেই হাসপাতালটির সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী কীভাবে চুক্তি করেন? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কক্ষে পায়ের ওপর পা তুলে দিয়ে ওই জালিয়াত প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কীভাবে বৈঠক করেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে মানুষ অ’সহিষ্ণু হয়ে ওঠে।

আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী অনেক ধৈর্য্যশীল, তিনি স্থির এবং ঠান্ডা মাথায় সব সিদ্ধান্ত নেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করে বলতে হয়, এখন বোধহয় দেরী হয়ে যাচ্ছে। এখনি যদি এ সমস্ত অ’পকর্মকারী এবং অ’মানবিক দুর্নীতিবাজদের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে জনগনের মধ্যে হতা’শা বাড়বে। কারণ জনগনের শেষ আশ্রয়স্থল আপনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাধারণ মানুষের তাই এখন একটাই কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর হতে হবে। যারা জনগণের প্রতিপ্রক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, তাদের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক !

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 8
    Shares