প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

৩০০ আসনে পাঁচ হাজার মনোনয়ন প্রত্যাশী

109
৩০০ আসনে পাঁচ হাজার মনোনয়ন প্রত্যাশী
ছবি : সংগৃহীত
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

তিনশ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। এদের মধ্যে অন্তত দুই হাজার সম্ভাব্য প্রার্থী আছেন, যাঁরা যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। পাঁচ শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী আছেন, যাঁরা মনোনয়ন না পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতির নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত মাঠ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হলো মনোনয়ন নিয়ে দলীয় কোন্দল। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ নিজেই। জরিপ থেকে উঠে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চাঁদপুরের একটি আসনে সাবেক একজন মন্ত্রী এবং বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাঠ গরম করছেন কেন্দ্রীয় কমিটিরই একজন নেতা। ঢাকায় আরেকজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার মহানগরের এক নেতা। এরকম প্রায় সবখানে।

জরিপে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, মাত্র ২৩ টি আসনে দ্বিতীয় প্রার্থী নেই। আর ৬৭ টি আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও মনোনয়ন নিয়ে তেমন বিরোধ নেই। কিন্তু বাকি আসনগুলোতে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে রাখছেন। এটা আওয়ামী লীগের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একারণেই, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল মঙ্গলবার পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব সফরে যাবেন। সেখান থেকে ফিরে এসেই তিনি মনোনয়নের অবশিষ্ট কাজটুকু শেষ করবেন। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, এমন ৫০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচন করবেই। এমনকি স্বতন্ত্র কিম্বা অন্যদলে যোগদান করেই নির্বাচন করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এই ৫০০ জনকে প্রথমে বসতে বলা হবে। ইতিমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যাঁদের মনোনয়ন পাবার একদমই সম্ভাবনা নেই, তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে যেতে বলেছেন। কিন্তু তাঁর কথায় কাজ হয়েছে সামান্যই।

একারণেই, আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ওমরাহ থেকে ফিরে এই অবুঝ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শেষ সতর্ক বার্তা দিবেন। এই বার্তার পরও যদি তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে না যায়, তাহলে, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর অন্যান্য যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী কিন্তু মনোনয়ন পাবেন না, তাঁদের বুঝিয়ে শুনিয়ে বসিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

তবে, আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, দলের সভাপতি মনে করছেন, শুধু তাঁদের বসিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং তাঁরা যেন আওয়ামী লীগের টিকেট পাওয়া প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন, সেজন্য উদ্যোগ নিতে হবে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, শেখ হাসিনা মনোনয়ন বঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বললেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে, মাঠ জরিপ বলছে, দলীয় কোন্দল ঠেকাতে না পারলে আওয়ামী লীগের ফল বিপর্যয় ঘটা অসম্ভব নয়।

সর্বশেষ আপডেট