প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

এত টাকা দিয়ে এরা কী করবে, প্রশ্ন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর

119
এত টাকা দিয়ে এরা কী করবে, প্রশ্ন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘করো’নার এই সংকট’কালে যারা ভু’য়া রিপোর্ট করছেন, তারা জঘন্য অ’প’রাধ করছেন। এরা পশুর চেয়েও অধম। এদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কোনো কিছু নেই।’

করো’না পরিস্থিতি নিয়ে একটি গনমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিদিনের আলাপচারিতায় ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যে কোনো রোগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে একটা রিপোর্ট সঠিক হওয়া প্রয়োজন। একজন করো’নায় আ’ক্রান্ত ব্যক্তি যদি নেগেটিভ রিপোর্ট পান, তাহলে তিনি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াবেন। তার মাধ্যমে করো’না আরও ছড়িয়ে পড়বে। কাজেই এটি যেমন উদ্বেগজনক এবং ভ’য়াবহ, ঠিক তেমনি একজন নেগেটিভকে যদি পজিটিভ বলা হয় সেটাও সমস্যার সৃষ্টি করবে। তাকে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় করা হতে পারে। তার মানসিক বিপর্যয়ও ঘটতে পারে। এটিও একটি উদ্বেগজনক দিক।’

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘রিপোর্ট যদি সঠিক না হয়, তাহলে একজন চিকিৎসা দেবেন কিসের ভিত্তিতে? রিপোর্ট যদি সঠিক না হয়, তাহলে তো চিকিৎসাও সঠিক হবে না। ফলে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাতেই একটা গলদ সৃষ্টি হবে। ভু’য়া রিপোর্টের ফলে করো’না চিকিৎসায় এই গলদগুলো সৃষ্টি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে জেকেজি, তারপর রিজেন্ট হাসপাতা’লের যে ঘটনা, তা ভ’য়াবহ। আমা’র তো মনে হয় যে, শর্ষের মধ্যেই ভুত আছে। কারণ একা রিজেন্ট বা একা জেকেজির পক্ষে এরকম অনিয়ম করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যারা উর্ধ্বতন কর্মক’র্তা আছেন, তাদের সাথে যোগসাজশ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি। এ কারণেই এ ধরনের মানুষরূপী নরপিশাচদের বি’রুদ্ধে যেমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, তেমনি এর সঙ্গে জ’ড়িত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যারা আছেন, তাদের চিহ্নিত করে তাদেরকেও শা’স্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে।’

তিনি বলেন, ‘করো’না কালে পুরো বিশ্ব যখন লণ্ডভণ্ড, তখন এদের অর্থলো’ভ আমাকে অ’বাক করেছে। এরা মানুষরূপী পিশাচ বলেই আমা’র মনে হয়। কারণ এত টাকা দিয়ে এরা কী’ করবে? এরা টাকা কোথায় নিয়ে যাবে? শুনেছি অনেকে নাকি বিদেশে টাকা পাচার করছে। বিদেশে পাচার করে এই টাকা কি তারা মৃ’ত্যুর পর নিয়ে যেতে পারবে? এত সর্বনাশা লো’ভ কেন, এই প্রশ্ন আমাকে পীড়িত করে।’

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘অবিলম্বে সরকারকে এবং প্রশাসনকে এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। যারা এই ভু’য়া রিপোর্টের সাথে জ’ড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি দেওয়া হবে। এমন দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি যেন সবার মধ্যে একটা ভীতির সঞ্চার হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘৃণ্য জঘন্য কাজ করার যেন কেউ সাহস না পায়।’

তিনি বলেন, ‘যারা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের প্রতি কোনোরকম সহানুভূতি দেখানোর কোনো কারণ নেই।’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একা কত করবেন। তিনি একাই কি সব দেখবেন? প্রধানমন্ত্রীকেই যদি সবকিছু দেখতে হয়, তাহলে অন্যরা কী’ করেন? তাহলে এত লোক লস্কর রাখার দরকার কী’?’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এখনই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে যে রিপোর্টগুলো আসছে, যেগুলো যাচাই বাছাই করার জন্য একটা কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তবে কমিটির চেয়েও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যারা অ’পকর্মের সঙ্গে যু’ক্ত, তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি প্রদান। তাদের শা’স্তি দেখে ভবিষ্যতে যেন অন্য কেউ এ পথে হাঁটার সাহস না পায়।’

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এ ধরনের ভু’য়া রিপোর্টের ফলে বিদেশে বাংলাদেশে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশের লোকদেরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সার্বিকভাবে করো’না চিকিৎসাই ঝুঁ’কির মধ্যে পড়ছে। কাজেই অনতিবিলম্বে এই নরপশুদেরকে চিহ্নিত করা দরকার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ের যারা এর সঙ্গে জ’ড়িত আছে, তাদেরকেও চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক শা’স্তি দেওয়া দরকার।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 358
    Shares