প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

সাহেদদের ঘটনা আওয়ামী লীগের জন্য দুর্ভাগ্যজনক: নানক

46
সাহেদদের ঘটনা আওয়ামী লীগের জন্য দুর্ভাগ্যজনক: নানক
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক মনে করেন যে, ‘রিজেন্ট হাসপাতা’লের মালিক মোহাম্ম’দ সাহেদকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িয়ে যে কথা হচ্ছে তা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জন্য খুবই দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক। এই সাহেদদেরকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে তাঁদের চিহ্নিত করা উচিত এবং অ’তি দ্রুত তাদের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

একটি গনমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র এই নেতা।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘সাহেদরা কিভাবে দলের ভিতর কোন দরজা দিয়ে ঢোকে? সেই দরজা অবশ্যই বন্ধ করে দিতে হবে। আজকেও আম’রা পার্টি কার্যালয়ে কিছু নেতৃবৃন্দ বসেছিলাম। আম’রা এ নিয়ে কথা বলেছি। এ নিয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর। সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন জীবন-জীবিকার সংগ্রামে, তখন এই সমস্ত ব্যক্তিদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং নিজেদের স্বার্থ উ’দ্ধার ছাড়া আর কোন লক্ষ্য নেই। তাই এদের বি’রুদ্ধে অ’তি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এদের যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ বছর আগে দলের অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদেরকে বের করতে হবে এমন নির্দেশনা দিলেও তা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এটা আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বারবার নেত্রী এ কথা বলেছেন এটা সত্য। অনুপ্রবেশ বন্ধ করার জন্য দলকে বারবার তিনি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপরও তার নির্দেশনা যেহেতু বাস্তবায়ন হয়নি বা প্রতিফলন হয়নি বা কার্যকর হয়নি, সেই দায় আম’রা কোনভাবেই এড়াতে পারি না।’

গত ১১ বছরে হাইব্রিড বা যাদেরকে অনুপ্রবেশকারী বলা হয় তারাই বিভিন্ন দু’র্নীতি করছে, যারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছে সেই তালিকাতেও অনুপ্রবেশকারীরা ত্রাণের টাকা চু’রি করছে, সাহেদের মতো ঘটনা ঘটছে-এটা পরিক’ল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে যেমন তিনি মনে করেন, ‘তেমনি দলের সিনিয়র এই নেতার ভাষ্য,‘ সবকিছুর ভিতরে আমি ষড়যন্ত্র দেখি না। এখানে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে এ কথা অস্বীকার করলে চলবে না। হ্যা এটাও ঠিক পরিক’ল্পিতভাবে দলে ঢুকে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। কিন্তু এ ব্যাপারে যে সতর্কতা অবলম্বন করার কথা ছিলো মাননীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য। তার কার্যকর ভূমিকা পালনে আম’রা অবশ্যই ব্যর্থ হয়েছি।’

জাহাঙ্গীর কবির নানক আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রতিটি সিড়ি দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে উঠেছেন। ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, যুবলীগের নেতা ছিলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। আওয়ামী লীগে প্রবেশের জন্য একজন মানুষের কি যোগ্যতা দেখা হয়, কেউ আসলেই তাকে নিয়ে নেওয়া হয়?- তিনি বলেন, ‘আম’রা যারা পুরনো মানুষ আছি, বলতে কোন দ্বিধা নেই আম’রা বুক চাপরাচ্ছি। এরা কিভাবে ঢুকে পরে এই ফট’কটাই আম’রা বুঝতে পারছি না। সে কারণে বারবার বলছি এই ফট’কটাই বন্ধ করতে হবে। যে ফট’ক দিয়ে ঢোকে তার বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতা’লের সাহেদের ছবি আছে। দীর্ঘদিন যাবত নিজেকে আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচয় দিয়ে টেলিভিশন ট’ক শোতে উপস্থিত হলেও এতদিন কেন নজড়ে আসেনি – প্রতিবেদকের করা এমন প্রশ্নের উত্তরে নানক জানান, আওয়ামী লীগ একটি বিশাল সংগঠন। দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনের কোথায় গিয়ে বা কোন অংশে সাহেদ আশ্রয় নিয়েছে বা প্রশ্রয় পেয়েছে, সে স’ম্পর্কে আম’রা অবগত ছিলাম না। আমি এটা জেনে হতবাক হয়েছি যে, হাওয়া ভবনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার কারণে যে সাহেদ ২ বছর জে’ল খেটেছে, সেই সাহেদ কিভাবে আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিল, প্রশ্রয় পেল! এই হসপিতালটিকে সে একটা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। ছবিগুলো দেখে আমি হতবাক হইনি। আমা’র পাশে একজন দাড়াতে পারে। কিন্তু এরা গেটপাস কিভাবে পায় সেটি হলো বিষয়।’

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগের আদর্শিক মান কমে গেছে- এমন কথার সঙ্গে একমত নন আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম কমিটির সদস্য। তিনি বলেন যে, আমাদের আদর্শ স্থিরই রয়েছে। আওয়ামী লীগের আদর্শিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে নেত্রী যে গতিতে চলছেন, যে নির্দেশনা দিচ্ছেন সেগুলো বাস্তবায়ন করা যাচ্ছেনা বলেই সাহেদের মতো এই অনুপ্রবেশকারীরা দলে প্রবেশ করে শুধু দলের ভাবমূর্তিই নষ্ট করছে না, দলের আদর্শকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কাজেই দলের আদর্শ যখন প্রশ্নবিদ্ধ হয় তখন আমাদের মতো কর্মী যারা আ’ন্দোলন সংগ্রাম করেছি, কঠিন দু:সময় পাড় করেছি তাদের মনোক’ষ্ট পাওয়া ছাড়া আর কোন গতি নেই।’

শুধুমাত্র আওয়ামী লীগে নয়, প্রশাসনেও স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার পুত্র বা আত্মীয়দের পদোন্নতি পাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রাখাকে আওয়ামী লীগের জন্য এক অশনি সংকেত হিসেবে মনে করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন যে, এরা সুদূরপ্রসারী একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি কঠিনভাবে বলতে পারি, সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকা উচিত। আম’রা এই বিষয়গুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খুব স্পষ্টই বলবো।- বাংলা ইনসাইডার

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 132
    Shares