প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

নির্যাতনের পর রক্তাক্ত শিশুটিকে ফেলে দিলেন বাবা-মা

86
নির্যাতনের পর রক্তাক্ত শিশুটিকে ফেলে দিলেন বাবা-মা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাবা-মা সন্তানের জন‌্য পরম মমতা আর চরম ভরসার স্থান। দত্তক নেওয়া সন্তানের প্রতি পালক বাবা-মায়ের পরম মমতা যেমন দেখেছি, তেমনি নৃ’শংসতাও চোখে পড়ে। বরং নৃ’শংসতার মাত্রাই যেনো একটু বেশি।

নাজনিন আক্তারকে (৯) ছয় বছর আগে দত্তক নেন ফেনীর জামাল উদ্দিন ও নাজমা আক্তার দম্পত্তি। নিজেদের চার ছে’লে, মে’য়ে না থাকায় তারা ফুলগাজীর এক দরিদ্র পরিবার থেকে তিন বছর বয়সী নাজনিনকে দত্তক নেন।

বাবা-মায়ের মতো পরম মমতায় সন্তানকে লালন-পালনের কথা থাকলেও মনে মনে ভিন্ন ছক কষেছিলেন ওই দম্পত্তি। তাদের আসলে দরকার ছিলো একজন স্থায়ী গৃহকর্মী। তাই শুরু থেকেই অনাদর অবহেলায় বড় হতে থাকে নাজনিন।

একটু বড় হলে তাকে টুকটাক কাজে লাগানো শুরু হয়। সন্তান হিসেবে বাড়িতে ঢুকলেও ধীরে ধীরে গৃহকর্মীর যায়গা পাকাপোক্ত হয়ে যায় নাজনিনের। মা’রধর, লাঞ্ছনা তার নিত‌্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। মাত্র নয় বছর বয়সে অসংখ‌্য তিক্ত অ’ভিজ্ঞতা হয়েছে তার।

গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) রাতে সর্বশেষ নৃ’শংসতার শিকার হয় নাজনিন। শি’শুটিকে শুধু পি’টিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ওই দম্পত্তি। মুমূর্ষু ও র’ক্তাক্ত অবস্থায় রাতের অন্ধকারে বাড়ির বাইরে ফেলে দিলেন পাষণ্ড মা-বাবা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় ফেনী শহরের রামপুর সৈয়দ বাড়ি সংলগ্ন মোস্তফা কমিশনারের বাড়ির নিচতলা হতে তাকে উ’দ্ধার করে র‌্যা’­ব-৭ ফেনী ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে চিকিৎসার জন‌্য হাসপাতা’লে পাঠায়। এরপর অ’ভিযু’ক্ত গৃহক’র্তা জামাল উদ্দিন ও গৃহকর্তী নাজমা আক্তারকে আ’ট’ক করে র‌্যা’­ব।

বুধবার (৮ জুলাই) রাতে নাজনীনকে উ’দ্ধারকারী প্রতিবেশী রুনা ইয়াসমিন বলেন, ‘শি’শুটিকে নি’র্যাতন করে বাড়ির বাইরে ফেলে রাখে তার বাবা-মা। র’ক্তাক্ত অবস্থায় নাজনিনকে ঘরে আনি। রাতভর তার জ্বর ছিলো। প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ‌্যমে ক্ষতস্থান হতে র’ক্ত পড়া বন্ধ করা হয়েছে।’

অ’ভিযু’ক্ত গৃহকর্তী নাজমা আক্তারের ভাই রিপন হোসেন বলেন, ‘আমা’র বোনের চার ছে’লে। মে’য়ে নেই দেখে নাজনিনকে দত্তক নেন। প্রায়ই মে’য়েটিকে মা’রধর করা হতো। মে’য়েটিকে দত্তক আনা হলেও কাজের মে’য়ে হিসেবেই দেখতেন। রাতে তাকে বারান্দায় রাখা হতো। কিছু হলেই নি’র্যাতন করা হতো।’

অ’ভিযু’ক্ত গৃহক’র্তা জামাল উদ্দিন জানান, ফেনীর ফুলগাজী উপজে’লার দরবারপুর ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামে নাজনিন আক্তারের নানা-নানুর কাছ থেকে দত্তক নেওয়া হয়। তবে তাকে নিজেদের মে’য়ের মতো করেই বড় করছিলাম। বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে একটু আধটু শাসন তো করতেই হয়।

র‌্যা’­ব-৭ ফেনী ক্যাম্পের ভা’রপ্রাপ্ত অধিনায়ক ও সিনিয়র সহকারী পু’লিশ সুপার মো. নুরুজ্জামান জানান, আ’হত নাজনিন আক্তারকে অ’ভিযু’ক্ত পরিবারটি ছয় বছর আগে নেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা বাচ্চাটিকে কাজের মে’য়ে হিসেবে দেখতে শুরু করে। গো’পন তথ্যের ভিত্তিতে নাজনিনকে উ’দ্ধার করা হয়েছে। সে সুস্থ হলে সমাজ সেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 52
    Shares