প্রচ্ছদ জীবন-যাপন

শুধুমাত্র টাকার অভাবেই মালয়েশিয়ায় দাফন এই প্রবাসী বাংলাদেশির

25
শুধুমাত্র টাকার অভাবেই মালয়েশিয়ায় দাফন এই প্রবাসী বাংলাদেশির
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মোহাম্মদ শফিউল আলম শিপন (৩৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে নিজ কক্ষেই এ রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু হয়। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ধনুসাড়া গ্রামে। বাবার নাম মৃত ডা. আলী মিয়া। পরিবারে তার স্ত্রীসহ দুই সন্তান রয়েছে।

পরিবার থেকে সময় সংবাদকে জানায়, পরিবারের হাসি ফুটানোর জন্য শিপন ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ায় যান। প্রথমে কয়েক বছর বৈধভাবে মালয়েশিয়ার কোয়ান্তানে একটি রাবার বাগানে কাজ করেন। পরে দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ হয়ে যান শিপন। এরপর থেকে বছরের পর বছর অবৈধ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেন তিনি। বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় শিপনকে। হঠাৎ গতকাল রাতে প্রচণ্ড বুকে ব্যথা অনুভব করেন। কিন্তু করোনার ভয়ে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে নিজ রুমেই অবস্থান করেন।

পরে আশপাশের লোকজন অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। শিপনের মৃতুতে পরিবারে শোক নেমে আসে।

আরও পড়ুন:  করোনা : আইসোলেশনে থাকলে যে সাতটি কাজ অবশ্যই করবেন

শিপনের স্ত্রী মরিয়ম আকতার স্বপ্না কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রবাস আমার সংসার জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। আমাদের এখনো অনেক ঋণ রয়েছে। কীভাবে পরিশোধ করব? কীভাবে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ চালাব?

এদিকে শিপনের লাশ মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফোন দিয়ে শিপনের পরিবারকে জানায়। কিন্তু অর্থ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

পরে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে মালয়েশিয়ার কোয়ান্তানের একটি গোরস্থানে শিপনের লাশ দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের সহকর্মীরা।

একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মালয়েশিয়ায় কন্সট্রাকশন, ফ্যাক্টরি ও বাগানে নিয়োজিত কর্মীদের মধ্যেই মৃত্যুর হার বেশি। কেননা এসব কাজে যারা মালয়েশিয়ায় এসেছে তাদের বেশির ভাগই অদক্ষ। এখানে আসার পর নতুন পরিবেশে হাড়ভাঙা খাটুনি তারা সহ্য করতে পারেন না। তারপর কাঙ্ক্ষিত বেতন না পাওয়ায় তারা প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হন। এ শ্রেণির কর্মীদের বেশির ভাগই বিদেশে আসার জন্য ঋণ করে বা জমি বন্ধক রেখে আসেন। আসার পর কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী বেতন ও সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে তারা মানসিক চাপে পড়েন। দেশে ঋণের বোঝা আর বিদেশে স্বপ্ন ভঙ্গের হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে তারা দিন দিন নিস্তেজ ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। চাপ সইতে না পেরে তারা ধীরে ধীরে অসুখে মারা যান। আবার অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

আরও পড়ুন:  চরিত্রহীন নারী চেনার ৮ উপায়

এছাড়া গরম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শ্রমিকদের থাকা-খাওয়া ও আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়াতে না পারাও মৃত্যুর অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 14
    Shares