প্রচ্ছদ জীবন-যাপন

সুন্দরী লাল জাতের কাঁঠাল, দেশে যেভাবে চাষ করবেন

28
সুন্দরী লাল জাতের কাঁঠাল, দেশে যেভাবে চাষ করবেন
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ভিয়েতনামের সুপারি, নারিকেল এর পর এবার বাংলাদেশে চাষ হচ্ছে লাল জাতের কাঁঠাল। কাঁঠাল বাংলাদেশ এর জাতীয় ফল। বানিজ্যিক ভাবে আমদের দেশে এই ফল চাষ না হলেও সুমিষ্ট এই কাঁঠাল দেশের সর্বত্রই কম বেশী হয়ে থাকে এবং ছোট বড় সকলের কাছেই জনপ্রিয় সুমিষ্ট এই ফল।

 

তবে বৈচিত্রের কারনে দেশী কাঁঠালের পাশাপাশি বাংলাদেশে ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে ভিয়েতনামের লাল রংয়ের কাঁঠাল। মুলত থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম কাঁঠালের বেশকিছু সংখ্যক উন্নত জাত অবমুক্ত করেছে। তার অন্যমত হলো ভিয়েতনামি আঠাবিহীন রঙ্গিন কাঁঠাল। তবে এই কাঁঠালের সাইজ কিছুটা ছোট হয়।

এসব জাতের কাঁঠালে আঠা, ভোঁতা বা ছোবড়াও নেই। এসব কাঁঠাল কেবল কোয়া বা কোষে ঠাসা। ফল অতি সুস্বাদু, মিষ্টি এবং রং-বেরঙের (গোলাপী, লাল)। সাধারণ মানের কাঁঠালের চেয়ে দাম তিন থেকে চারগুণ বেশি। এর অন্যতম সুবিধা হলো এই জাতের কাঁঠালের বাগানে খরচ কম লাভ বেশি। এর একটা বারোমাসি জাতও আছে।

তা লাগানো হলে বারোমাস ধরে অসময়ে প্রচুর ফল বেশি দামে বিপনন সুবিধা নিশ্চিত হতে পারে। প্রতিকুল অবস্থায়ও বাংলাদেশ কাঁঠাল উৎপাদন কারি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ভারত রয়েছে প্রথম স্থানে। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এবং নেপালের অবস্থান ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম।

আরও পড়ুন:  মূত্রনালির কিছু সমস্যা ও সমাধান

বাংলাদেশে অতি প্রাচীন কাল থেকে সাধারণত- খাজা, আদারসা ও গালা নামের তিন ধরণের কাঁঠাল চাষ হয়। কিন্তু বর্তমানে উচ্চ ফলনশীল জাতের ২টি কাঁঠাল, বারি কাঁঠাল-১ এবং বারি কাঁঠাল-২ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবন করেছে। তবে এসবের বাইরেও বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের যেসব কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে ভিয়েতনামি লাল কাঁঠাল গাছ অন্যতম। এর ইংরেজী নাম Gac Babyজমিতে, ছাদে বা ড্রামে লাল কাঁঠাল লাগানোর নিয়ম:

জমি নির্বাচন:

বর্ষায় বা বৃষ্টিতে পানি জমে না এমন উঁচু ও মাঝারি সুনিষ্কাষিত উর্বর জমি কাঁঠালের জন্য উপযোগী। ছাদে বা ড্রামে কাঁঠালের চারা লাগাতে চাইলে মাঝারি থেকে মোটামুটি বড় মাপের একটি ড্রাম নির্বাচন করতে হবে। তারপর সেখানে মাটি ভরে চারা লাগানোর উপযোগী করে মাটি প্রস্তুত করতে হবে।

কাঁঠালের চারা তৈরি:

কাঁঠালের বীজ থেকে কাঁঠালের চারা তৈরি করা হয়। কিন্তু কলম এর চারাতে ফলন ভালো হয়। গুটি কলম, ডাল কলম, চোখ কলম, চারা কলমের মাধ্যমেও চারা তৈরি করা যায়। এছাড়া আপনি বিভিন্ন নার্সারী থেকেও ভিয়েনামী লাল কাঁঠালের চারা কিনতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি নিশ্চিত হয়ে নিবেন দোকানী আপনাকে ভালো মানের কলম চারা দিচ্ছে কিনা।

আরও পড়ুন:  প্রবাসীদের জেনে নেওয়া উচিত যাত্রীদের যেসব আচরণে বিমানবালারা বিরক্ত হন

চারা রোপণ:

বাড়ির আঙিনায়, ছাদে ড্রামে, পুকুরপাড়ে, বাণিজ্যিক বাগানে এই লাল কাঠাল লাগানো যায়। বসতবাড়িতে শখ করে দু-একটা গাছ লাগানো যেতে পারে। সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত চারা বা কলম মধ্য জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য শ্রাবণ মাসে রোপণ করতে হয়। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১২ মিটার করে রাখলে ভালো হয়। চারা রোপনের পর নিয়মতি পরিচর্যা ও দেখভাল করা ছাড়া আর কিছু করার প্রয়োজন নেই।

ফল সংগ্রহ:

কাঁঠাল গাছে ফুল আসার পর মুচি থেকে কাঁঠাল বড় হয়ে সেই কাঠাল পাকতে ১২০-১৫০ দিন সময় লাগে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares