প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

দুবাইয়ে ৪টি হোটেলের মালিক, হাজারো তরুণী পাচার, দেহব্যবসা!

46
দুবাইয়ে ৪টি হোটেলের মালিক, হাজারো তরুণী পাচার, দেহব্যবসা!
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

নাম তাঁর মোহাম্ম’দ আজম খান। ডাকনাম মজাহার। ছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভ’য়ংকর স’ন্ত্রাসী ওসমান বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। ছিলেন শি’বির নেতা।

পরে জামায়াত হয়ে বিএনপিতে আনাগোনা করেন। এমপি প্রার্থী হওয়ারও চেষ্টা করেন। দেশে ছয়টি হ’ত্যাসহ ১৫টি মা’মলা রয়েছে তাঁর বি’রুদ্ধে।

ওসমান বাহিনীর প্রধান ওসমান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘ব’ন্দুকযু’দ্ধে’ মা’রা গেলে দুবাই পাড়ি জমান তিনি। কিন্তু তাঁর অ’পকর্ম এরপর আরো বাড়ে। দুবাইয়ে চাকরির কথা বলে দেশ থেকে গত আট বছরে সহস্রাধিক কি’শোরী-তরুণীকে তিনি দুবাই পাচার করেছেন বলে জানা গেছে।

তাদের অনেককে বাধ্য করেছেন যৌ’নকর্মী হিসেবে ও ডান্স ফ্লোরে কাজ করতে। এই বছরের শুরুর দিকে দুবাই কর্তৃপক্ষ তাঁর বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসকে সতর্ক করে।

এই আজম খানকে দুই সহযোগীসহ গত শনিবার রাতে রাজধানী থেকে গ্রে’প্তার করেছে সিআইডি। তাঁর সঙ্গে পাচার হওয়া বেশ কিছু অডিও-ভিডিও ক্লিপও সিআইডি পেয়েছে, যেগুলোর একটিতে এক তরুণী অনুনয়-বিনয় করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ভাইয়া আমা’র নাম…। ভাইয়া বাড়িতে আমা’র মা খুব অ’সুস্থ। আমি ছাড়া মাকে দেখার আর কেউ নেই। আমা’র ভিসার মেয়াদ তিন মাস হয়েছে। আমা’র ভিসার মেয়াদ আর বাড়াবেন না। আমাকে দেশে ফিরতে দেন।’

আজম খানকে গ্রে’প্তারের পর গতকাল রবিবার দুপুরে মালিবাগের সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, আজম খানের দুবাইয়ে তিনটি ফোর স্টার ও একটি থ্রি স্টার হোটেল রয়েছে। দুবাইয়ে চাকরির কথা বলে দেশ থেকে গত আট বছরে সহস্রাধিক তরুণীকে তিনি দুবাই পাচার করেছেন বলে অ’ভিযোগ রয়েছে। দেশে ছয়টি হ’ত্যাসহ ১৫টি মা’মলার আ’সামি তিনি।

ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, তাঁর হোটেলে কাজ দেওয়ার নাম করে দেশ থেকে ১৫-২০ বছরের মে’য়েদের অর্থের লো’ভ দেখিয়ে দুবাই পাচার করা হতো। তাদের প্রথমে কিছুদিন কাজে রাখার পরই শুরু হতো নি’র্যাতন। নিয়ে যাওয়া হতো ডান্স বারে। পরে জো’র করে দেহব্যবসায় নামানো হতো। অনেক মে’য়ে দেশে ফেরত আসার জন্য পাচারকারীদের কাছে কাকুতি-মিনতি করে। সেই সব অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে। কি’শোরীদের ট্রাভেল এজেন্সি ও দুটি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে দুবাই নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইমতিয়াজ আহমেদ আরো জানান, আজম খানের বিষয়ে এ বছরের প্রথম দিকে দুবাই সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানানো হয়। দূতাবাস তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে। পরে তিনি এক্সিট পাসের মাধ্যমে দেশে চলে এসে আত্মগো’পনে চলে যান। খবর পাওয়ার পর সিআইডি তাঁকে গ্রে’প্তারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তিনি বারবার স্থান পরিবর্তন করছিলেন। নতুন পাসপোর্ট করে সীমান্ত দিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা ছিল তাঁর।

প্রশ্নের উত্তরে সিআইডির এ কর্মক’র্তা বলেন, ‘তার সিন্ডিকে’টের সবাইকে শনাক্ত করেছি। দুজনকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রে’প্তার করা হবে।’ আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সে যে দেশে এসেছে—এই তথ্য শুরুতে আম’রা পাইনি। পরে পেয়েছি। তার অ’পকর্মের ইন্ধনদাতা হিসেবে তার ভাইও আছে। পা’কিস্তানি নাগরিক রয়েছে তার চক্রে।’

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, তার বি’রুদ্ধে মানি লন্ডারিং মা’মলাও হবে। প্রশ্নের জবাবে তিনি এ-ও বলেন, ‘ট্যুরিস্ট ভিসায় ১৫-২০ বছরের একটি মে’য়ে কোনো এয়ারলাইনসে বিদেশে গেলে বিষয়টি সেই এয়ারলাইনসের দেখা উচিত। আম’রা দুটি এয়ারলাইনসের নাম পেয়েছি, যে দুটি দিয়ে ওই মে’য়েদের পাচার করা হয়েছে। ওই এয়ারলাইনস দুটির বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ আজম খান স’ম্পর্কে তিনি আরো বলেন, তার বাবা আগে থেকেই দুবাই থাকতেন। ১৯৯৬ সালে আজম খান দুবাই যায়। মাঝেমধ্যেই দেশে আসতেন।

একটি সূত্রের দাবি, আজম খান প্রথমে শি’বিরের রাজনীতি করতেন। এরপর জামায়াতে ইস’লামীর রাজনীতি করেন। ওই সময় খু’নখারাবির সঙ্গেও জড়ান তিনি। তিনি পরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়ান এবং এমপি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেন।

জানা গেছে, গ্রে’প্তারকৃত আজম খানের সহযোগী ডায়মন্ডসহ আরো অনেক দালাল ওই সব তরুণীকে সংগ্রহ করে নাচের প্রশিক্ষণ দিত। এরপর তাদের মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি পাওয়ার কথা বলে দুবাই পাঠানো হতো। এ ক্ষেত্রে লো’ভে ফেলার জন্য ২০-৩০ হাজার টাকা অগ্রীমও দিত পাচারকারীরা। অগ্রিম টাকা দেওয়াসহ তাদের দুবাই যাওয়ার খরচও বহন করত পাচারকারীরা। কিন্তু দুবাইয়ের হোটেলে নেওয়ার পরই বদলে যায় দালালদের চেহারা।

দেশে ফেরত আসতে সক্ষম হওয়া শতাধিক তরুণীর কাকুতি-মিনতির অডিও-ভিডিও রেকর্ড পেয়েছে সিআইডি। আজম খানের মোবাইল ফোন থেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে যে মে’য়েরা কা’ন্নাকাটি করে তাঁকে ফোন করেছিল তাদের কী’ অবস্থা, সেটা নিশ্চিত করতে পারেনি সিআইডি। জানতে চাইলে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে সব খোঁজ নেওয়া যায়নি। আম’রা এখন জানার চেষ্টা করব।’

জিজ্ঞাসাবাদে আজম খান আট বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে নারী নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি তরুণীকে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সিআইডি বাদী হয়ে গত ২ জুলাই রাজধানীর লালবাগ থা’নায় একটি মা’মলা দায়ের করেছে। মা’মলা’টি সিআইডি ত’দন্ত করছে।

এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল—এ ঘটনার সঙ্গে রিজেন্টের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না? জবাবে সিআইডি কর্মক’র্তা বলেন, ‘খতিয়ে দেখা হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফটিকছড়ি পৌরসভা’র ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাহালিয়া টিলা এলাকার মৃ’ত মাহাবুবুল আলমের ছে’লে আজম খান। গ্রামের বাড়িতে তিনি তৈরি করেছেন আলিশান বাড়ি। বিএনপির কিছু নেতার সঙ্গে তাঁর সুস’ম্পর্ক থাকার তথ্য এবং ছবিও পাওয়া গেছে।

ফটিকছড়ি থা’না থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হ’ত্যা, চাঁদাবাজি, ডা’কাতিসহ পাঁচ মা’মলার আ’সামি আজম খান একজন স’ন্ত্রাসী। তাঁর বি’রুদ্ধে দায়ের করা মা’মলাগুলোর ত’দন্ত শেষে ওই সময়ই আ’দালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এর মধ্যে একটি হ’ত্যা মা’মলায় তিনি সাজা’প্রাপ্ত পলাতক আ’সামি। দুবাইয়ে অসামাজিক কাজে যু’ক্ত আজম খানের তিনটি পাসপোর্টের তথ্য আছে পু’লিশের কাছে।

আজম খানের অ’প’রাধ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি থা’নার অফিসার ইনচার্জ বাবুল আক্তার বলেন, ‘আজম খান দুবাইয়ে কী’ অ’প’রাধ করেছেন, সেই তথ্য ফটিকছড়ি থা’নায় নেই। শুনেছি, তিনি সিআইডির হাতে গ্রে’প্তার হয়েছেন। তাঁর বি’রুদ্ধে ফটিকছড়ি থা’নায় দায়ের করা মা’মলার সর্বশেষ অবস্থা স’ম্পর্কে নথি দেখে বলতে হবে।’ সুত্র: কালেরকন্ঠ

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 21
    Shares