প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

তাওবা করলে কি সব গোনাহ মাফ হয়?

23
তাওবা করলে কি সব গোনাহ মাফ হয়?
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

তাওবা আরবী শব্দ। পবিত্র কোরআনে এ শব্দটি ৭ বার বর্ণিত হয়েছে। এর শাব্দিক অর্থ- অনুতপ্ত হওয়া, ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা ইত্যাদি। পারিভাষিক অর্থে তাওবা হল গুনাহ করার পর অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা ও উক্ত গুনাহের কাজ বর্জন ও তা পূনরায় না করার দৃঢ় অঙ্গিকার করা। তাহলে কি এই তাওবার মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামীন সকল প্রকার গোনাহ মাফ করে দিবেন? চলুন এই বিষয়ে জেনে নেই। আল্লাহ তাআলা বান্দার উপর যে সকল ইবাদত ফরজ করেছেন সেগুলো ছেড়ে দেয়া। যেমনঃ নামাজ, রোজা, যাকাত ইত্যাদি। সালাত আদায় না করা কবীরা গুনাহ অনুরূপভাবে সওম এবং জাকাত আদায় না করাও কবীরা গুনাহ।

এ ধরনের গুনাহ হতে মাফ পাওয়ার জন্য করণীয় হল, যে সকল ইবাদত ছুটে গিয়াছে তা যথাসম্ভব কাজা আদায় করা। আর যদি কাজা আদায় করা সম্ভব না হয় তার বিকল্প যেমন রোজার ক্ষেত্রে ফিদয়া আদায় করা। আর যদি তাও সম্ভব না হয় তবে তার জন্য আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করতে হবে। এবং আল্লাহর নিকট হতে মাফ করিয়ে নিতে হবে।

আল্লাহ এবং বান্দার মাঝে সংঘটিত গুনাহসমূহ। যেমন- মদ পান করা, গান বাজনা করা, সুদ খাওয়া ইত্যাদি। এ ধরনের গুনাহের কারণে অবশ্যই লজ্জিত হতে হবে এবং মনে মনে প্রত্যয়ী হতে হবে যে এ ধরনের গুনাহ ও অপরাধ আর কখনো করবে না। তাছাড়া, আরেক ধরণের গুনাহ রয়েছে, যার সম্পর্ক বান্দার সাথে। এ ধরনের গুনাহ সবচেয়ে কঠিন ও মারাত্মক। এ ধরনের গুনাহ আবার কয়েক ধরনের হতে পারে।

আরও পড়ুন:  আয়া সোফিয়ায় জুমআ শুরু ২৪ জুলাই

আল্লাহর সাথে শিরক করা মহাপাপ। কেননা আল্লাহ’তালা পবিত্র কোরআনে বলেন, নিশ্চয়ই শিরক হলো বড় জুলুম। সূরা মায়িদার একটি আয়াতে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবে, আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। সেইসাথে হাদীস শরীফে সাতটি ধ্বংসকারী গুনাহের বিষয়ে বলা হয়েছে। নবী করীম (সা.) বলেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী গুনাহের কাজ পরিত্যাগ করো। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল সা. সেই ধ্বংসকারী গুনাহগুলো কি ? নবী করিম সা. বললেন, তা হলো ১ আল্লাহ তাআলার সাথে কিছুকে শরিক করা, ২ যাদু শিক্ষা করা ও আমল করা ৩ যে প্রাণীকে হত্যা করা আল্লাহ তাআলা নিষিদ্ধ করেছেন, তাকে হত্যা করা, তবে ন্যায়ানুগ পন্থায় করা যায় ৪ সুদ খাওয়া ৫ এতিমের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে আহার করা ৬ যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে আসা ৭ কোনো মুমিনা সতিসাধ্বী মহিলার নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়া।

এসবের বাইরে আরো উল্লেখযোগ্য কতগুলো কবিরা গুনাহ হলো- ব্যভিচার করা, এতিমদের উপর জুলুম করা, আল্লাহ ও রাসুলের ওপর মিথ্যা আরোপ করা, চুরি- ডাকাতি করা, জুলুম করা, মিথ্যা শপথ করা, হারাম খাওয়া ও হারাম উপার্জন করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দান করা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করা, পেশাব থেকে যথাযথ ভাবে পবিত্রতা অর্জন না করা, অন্যকে দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ কাজ করা, বিশ্বাসঘাতকতা করা, মানুষের গোপনীয় দোষ জানার চেষ্টা করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া, ওজনে কম দেয়া, দুর্বল শ্রেণীর দাসদাসী, চাকর-বাকর ও জীবজন্তুর সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করা, প্রাণীর ছবি আঁকা, ওয়াদা খেলাপ করা, বিনা ওজরে জামাত ত্যাগ করা ও একাকী নামাজ পড়া, পুরুষের স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় পড়া, জ্যোতিষীর কথা বিশ্বাস করা, সৎ ও খোদাভীরু বান্দাকে কষ্ট দেয়া, কোনো সাহাবিকে গালি দেয়া, আল্লাহ ছাড়া কারো নামে জন্তু জবাই করা এগুলো সবই কবিরা গুনাহ। এগুলো থেকে অবশ্যই তওবা করতে হবে।

আরও পড়ুন:  হজের মাসের প্রথম দশকের ফজিলত

এ সমস্ত গুনাহ থেকে মাফ পাওয়ার বিষয়ে তাওবা করার কথা বলা হয়েছে। অনেক আলেম শিরক ও বান্দার সাথে করা গুনাহের ক্ষেত্রেও তাওবা করতে বলেন। এ বিষয়ে জানা যায়, মাফ করার মালিক একমাত্র মহান রাব্বুল আলামীন। তিনি চাইলে বান্দার সকল গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন। তাই বান্দার উচিত তাওবা করা এবং বাকি জীবন আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।