প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

অজু ছাড়া কোরআন স্পর্শ করা যাবে কি ?

19
অজু ছাড়া কোরআন স্পর্শ করা যাবে কি ?
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

সাধারণ নিয়ম হলো কুরআন তেলাওয়াতের আগে অজু করে নেয়া এবং নিজেকে পরিপূর্ণভাবে পবিত্র করে নেয়া। কেননা কুরআন হচ্ছে মহান আল্লাহপাকের কালাম। আল্লাহপাক পবিত্র, তার কালামও পবিত্র। তাছাড়া আল্লাহপাক পবিত্রতাকে পছন্দ করেন। সুতরাং আমাদের সবারই উচিত হবে আল্লাহর কালাম পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের পূর্বে অযু করে নেয়া। এই বিষয়ে আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, এ তো মহা সম্মানিত কুরআন। একখানা সুরক্ষিত গ্রন্থে লিপিবদ্ধ। পবিত্র সত্তাগণ ছাড়া আর কেউ তা স্পর্শ করতে পারে না। (ওয়াকিয়া:৭৭-৭৯) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় এসেছে যে, পবিত্র সত্তা ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করতে পারে না।

অর্থাৎ শয়তান কর্তৃক এ বাণী নিয়ে আসা কিংবা নাজিল হওয়ার সময় এতে কর্তৃত্ব খাটানো বা হস্তক্ষেপ করা তো দূরের কথা যে সময় লওহে মাহফূজ থেকে তা নবীর (সা.) উপর নাজিল করা হয় সে সময় পবিত্র সত্তাসমূহ অর্থাৎ পবিত্র ফেরেশতারা ছাড়া কেউ তার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। ফেরেশতাদের জন্য পবিত্র কথাটি ব্যবহার করার তাৎপর্য হলো মহান আল্লাহ তাদেরকে সব রকমের অপবিত্র আবেগ অনুভূতি এবং ইচ্ছা আকাঙ্খা থেকে পবিত্র রেখেছেন।

আনাস (রা.), ইবনে মালেক, ইবনে আব্বাস (রা), সাঈদ ইবনে জুবাইর, ইকরিমা, মুজাহিদ, কাতাদা, আবুল আলীয়া, সুদ্দী, দাহহাক এবং ইবনে যায়েদ, এ আয়াতের এ ব্যাখ্যাই বর্ণনা করেছেন। বাক্য বিন্যাসের সাথেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, বাক্যের ধারাবাহিকতা থেকে এ কথাই বুঝা যায় যে, তাওহীদ ও আখেরাত সম্পর্কে মক্কার কাফেরদের ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণার প্রতিবাদ করার পর কুরআন সম্পর্কে তাদের ভ্রান্ত ধারণা প্রত্যাখ্যান করে তারকা ও গ্রহরাজির অবস্থান ক্ষেত্র সমূহে শপথ করে বলা হচ্ছে, এটি একটি অতি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন গ্রন্থ, আল্লাহর সুরক্ষিত লিপিতে তা লিপিবদ্ধ আছে কোন সৃষ্টির পক্ষে তাতে হস্তক্ষেপ করার কোন সম্ভাবনা নেই এবং তা এমন পদ্ধতিতে নবীর ওপর নাজিল হয় যে, পবিত্র ফেরেশতাগণ ছাড়া কেউ তা স্পর্শও করতে পারে না।

আরও পড়ুন:  শান্তি ও নিরাপত্তায় যে আমল করতে বলেছেন বিশ্বনবি

ইবনে কাসীর বলেছেন, ইবনে আব্বাস আয়াতে বলেছেন, পবিত্রতা অর্জন করা ছাড়া কেউ যেন কুরআন স্পর্শ করে না। (তফসীর ইবনে কাসীর )পবিত্র কুরআনে মাহন আল্লাহপাক আরো ইরশাদ করেছেন, এটি এমন সব বইতে লিখিত আছে, যা সম্মানিত। উন্নত মর্যাদা সম্পন্ন ও পবিত্র। এটি মর্যাদাবান। (আবাসা:১৩-১৫) যাইহোক, এটি আয়াত থেকে অনুমিত করা যেতে পারে যে কুরআন স্পর্শ করার আগে অবশ্যই অযু করে পবিত্র হতে হবে।

হযরত সালমান ফারসী (রা.) অযু ছাড়া কুরআন পড়া দুষণীয় মনে করতেন না। তবে তার মতে এরূপ ক্ষেত্রে হাত দিয়ে কুরআন স্পর্শ করা জায়েয নয়। হযরত সাদ (রা.) ইবনে আবী ওয়াককাস এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ও এমত অনুসরণ করতেন। হযরত হাসান বাসরী ও ইবরাহীম নাখয়ী ও বিনা ওযুতে কুরআন শরীফ স্পর্শ করা মাকরূহ মনে করতেন। (আহকামুল কুরআন-জাসসাস)। আতা, তাউস, শাবী এবং কাসেম ইবনে মুহাম্মাদও এই মত পোষন করতেন বলে বর্ণিত হয়েছে (আল -মুগনী-ইবনে কুদামাহ)। তবে তাদের সবার মতে অযু ছাড়া কুরআন শরীফ স্পর্শ না করে পড়া কিংবা মুখস্ত পড়া জায়েয।

নাপাক, হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় কুরআন শরীফ পড়া হযরত উমর (রা), হযরত আলী (রা), হযরত হাসান বাসরী, হযরত ইবরাহীম নাখয়ী এবং ইমাম যুহরীর মতে মাকরূহ। তবে ইবনে আব্বাসের (রা.) মত ছিল এই যে, কোন ব্যক্তি কুরআনের যে অংশ সম্ভাবতই মুখে মুখে পড়তে অভ্যস্ত তা মুখস্ত পড়তে পারে। তিনি এ মতের উপর আমলও করতেন। এ মাসয়ালা সম্পর্কে হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়েব এবং সা’ঈদ ইবনে জুবাইরকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, তার স্মৃতিতে কি কুরআন সংরক্ষিত নেই? সুতরাং পড়ায় কি দোষ হতে পারে? (আল -মুগনী ও আল-মুহাল্লা-ইবনে হাযম)।

আরও পড়ুন:  যে আমল করলে আপনার জ্ঞান বাড়বে

ইবনে কুদামা হাম্বলী মাযহাবের যেসব বিধি-বিধান উল্লেখ করেছেন তা হচ্ছে, নাপাক এবং হায়েজ ও নিফাক অবস্থায় কুরআন কিংবা কুরআনের পূর্ণ কোন আয়াত পড়া জায়েজ নয়। তবে বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ইত্যাদি পড়া জায়েয। কারণ এগুলো কুরানের কোন না কোন আয়াতের অংশ হলেও সেগুলো পড়ার ক্ষেত্রে কুরআন তেলাওয়াতের উদ্দেশ্য থাকে না। তবে কোন অবস্থায়ই বিনা অযুতে হাত দিয়ে কুরআন শরীফ স্পর্শ করা জায়েজ নয়। তবে চিঠিপত্র কিংবা ফিকাহর কোন গ্রন্থ বা অন্যকিছু লিখিত বিষয়ের মধ্যে যদি কুরআনের কোন আয়াত লিপিবদ্ধ থাকে তাহলে তা হাত দিয়ে স্পর্শ করা নিধেষ নয়।

অনুরূপভাবে যদি কোন জিনিসের মধ্যে সংরক্ষিত থাকে তাহলে অযু ছাড়াই তা হাত দিয়ে ধরে উঠানো যায়। তাফসীর গ্রন্থসমূহ হাত দিয়ে ধরার ক্ষেত্রে অযু শর্ত নয়। তাছাড়া তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে অযুহীন কোন লোককে যদি হাত দিয়ে কুরআন স্পর্শ করতে হয় তাহলে সে তায়াম্মুম করে নিতে পারে। আল ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআ গ্রন্থে হাম্বলী মাযহাবের এ মাসয়ালাটিও উল্লেখ আছে যে, শিক্ষার উদ্দেশ্যও শিশুদের বিনা অযুতে কুরআন স্পর্শ করা ঠিক নয়। তাদের হাতে কুরআন শরীফ দেয়ার আগে তাদের অভিভাবকদের কর্তব্য তাদের অযু করানো।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares