প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

হালাল রুজি উপার্জন করা ফরজের পর একটি ফরজ

42
হালাল রুজি উপার্জন করা ফরজের পর একটি ফরজ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

কর্মের মাধ্যমেই মানুষের পরিণতি নির্ধারিত হয়। দুনিয়া ও আখেরাতের সুখ-শান্তি সফলতা-ব্যর্থতা কর্মের ওপরই নির্ভরশীল। সৎ কর্মশীলদের জীবন হয় আলোকিত ও সফল। পক্ষান্তরে অলস ও অসৎ কর্মশীলদের জীবন হয় অন্ধকারাচ্ছন্ন ও ব্যর্থ। পার্থিব জীবনের উন্নতি ও পারলৌকিক কল্যাণ কামনায় কাজের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই ইসলাম কাজের প্রতি সীমাহীন গুরুত্বারোপ করেছে এবং কর্মহীন অলস জীবনযাপনকে পাপ বলে গণ্য করেছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, নিশ্চয় মানুষ তা-ই পায়, যা সে করে। অচিরেই তার কর্ম মূল্যায়ন করা হবে। তারপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করা হবে। (সূরা নাজম, আয়াত ৩৯-৪১)।

মহান রাব্বুল আলামিন আরও ইরশাদ করেন, অতঃপর যখন নামাজ সমাপ্ত হবে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান কর ও আল্লাহতায়ালাকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা জুমুআ, আয়াত ১০)। কাজের প্রতি গুরুত্বারোপ করে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, নিজ হাতে উপার্জনের চেয়ে উত্তম কোনো উপার্জন নেই। হজরত দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। (বুখারি)। প্রিয়নবী (সা.) আরও ইরশাদ করেন, হালাল রুজি উপার্জন করা ফরজের পর একটি ফরজ। (বুখারি ও মুসলিম)।

আরও পড়ুন:  যেসব আমলে মানসিক চাপ কমে

প্রিয় পাঠক! রসুলুল্লাহ (সা.) নিজ পরিশ্রমের উপার্জনকে সর্বোত্তম উপার্জন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাই অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে নয়, বরং নিজ মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে হালাল রুজি অর্জনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করাই হলো ইসলামের অনুপম শিক্ষা। পূর্ববর্তী সব নবী-রসুলগণও পরিশ্রম করে স্বহস্তে জীবিকা উপার্জন করতেন। হজরত আদম (আ.), হজরত শীষ (আ.) ও হজরত ইউনুস (আ.) চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হজরত ইদরিস (আ.)-এর পেশা ছিল কাপড় সেলাই করা। হজরত নুহ (আ.) ও হজরত জাকারিয়া (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। মহাপ্লাবনের সময় হজরত নুহ (আ.) মহান আল্লাহর নির্দেশে সুবিশাল একটি নৌকা তৈরি করেছিলেন; যা ৩০০ হাত দীর্ঘ, ৫০ হাত প্রস্থ ও ৩০ হাত উচ্চতাসম্পন্ন ছিল।

হজরত দাউদ (আ.) রাজ্যের বাদশাহ হওয়া সত্ত্বেও নিজে লৌহবর্ম বানিয়ে বিক্রয় করে জীবিকা উপার্জন করতেন এবং তার ছেলে হজরত সোলাইমান (আ.) সমগ্র পৃথিবীর বাদশাহ ছিলেন। হজরত ইবরাহীম (আ.) ও হজরত ইসমাঈল (আ.) এর পেশা ছিল ব্যবসা ও রাজমিস্ত্রি। তারা উভয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশে পবিত্র কাবাঘর নির্মাণ করেন। হজরত ইউসুফ (আ.) রাজ্যের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতেন।

আরও পড়ুন:  নিজের কাজ সঠিকভাবে করতে যে দোয়া পড়বে মুমিন

এ ছাড়াও হজরত সালেহ (আ.), ইয়াকুব (আ.), শোয়াইব (আ.), হজরত ইলিয়াস (আ.), হজরত মুসা (আ.) ও হজরত হারুন (আ.) পশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আর আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন বিচক্ষণ সৎ ও সফল ব্যবসায়ী। ঘর ঝাড়ু, কাপড় সেলাই, বকরির দুগ্ধ দোহনসহ ঘরের যাবতীয় কাজেও তিনি স্ত্রীগণকে সহযোগিতা করতেন।লেখক : মুফাসসিরে কোরআন ও ইসলামী গবেষক খতিব, মাসজিদুল কোরআন জামে মসজিদ কাজলা (ভাঙ্গাপ্রেস), যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 6
    Shares