প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

ভালো হয়ে যান, না হয় বন্দুকের গুলি রেডি আছে

103
ভালো হয়ে যান, না হয় বন্দুকের গুলি রেডি আছে
ছবি : সংগৃহীত
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা ইবলিশ শয়তানের চেয়ে ভয়ঙ্কর। এখনও সময় আছে ভালো হয়ে যান, না হয় পুলিশের বন্দুকের গুলি রেডি আছে।’ এ কথা বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।

মাদক ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এখনও সময় আছে ভালো হয়ে যান, না হয় পুলিশের বন্দুকের গুলি রেডি আছে। মাদক ব্যবসায়ী আমার দলের হলেও ছাড় পাবে না। সন্ত্রাস-মাদক ব্যবসায়ী আমার দরকার নেই। খারাপ লোক নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না। খারাপ লোক একশ না হয়ে ১০ জন ভালো মানুষ আমার দরকার।

শনিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে একাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাইলট স্কুল মাঠে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে পুলিং এজেন্ট হওয়ার অপরাধে আমার এক নারী কর্মীকে ধর্ষণ করেছিল তারা। আমার অনেক নেতাকর্মীর ওপর হামলা এবং হত্যা করেছে বিএনপির লোকজন।

আমার ভাই সেলিম ওসমানের কারখানায় হামলা করেছে, খামারের গরু লুট করেছে এবং আমার বাড়িতে আগুন দিয়েছে তারা। অথচ আমাদের সরকারের আমলে বিএনপির লোকজন শান্তিতে বসবাস এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি অতীতের মতো কর্মকাণ্ড করেন তাহলে ছাড় দেয়া হবে না। এমন কিছুর চিন্তা করবেন না, যাতে পরিস্থিতি খারাপ হয়।

আমরা বিএনপির কাউকে হয়রানি করিনি, কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করিনি বরং বিএনপির লোক নিয়ে কাজ করছি। বিএনপি চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করে গেছেন। এরপরও যদি ভিন্ন চিন্তা করেন, পুরনো কথা মনে করিয়ে দেন, তাহলে পরিণতি ভালো হবে না।

শামীম ওসমান আরও বলেন, টাকার বিনিময়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমি ভোট চাই না। না বুঝে কাউকে সমর্থন করবেন না। নির্বাচনে অনেকে নাটক করবেন, মসজিদ-মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা অনুদান দেবেন। কিন্তু আমার অনুরোধ; কারও ধোঁকাবাজিতে পা দেবেন না। মনে রাখবেন আপনার এলাকার জনপ্রতিনিধি ভুল ব্যক্তি হলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে এবং উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন আমার দলের এমপি সারাহ বেগম কবরী মসজিদের টাকা খেয়ে ফেলেছেন। আওয়ামী লীগ করলেই ভালো হবে তা আমি বলতে পারব না। ভালো-মন্দ সবার মধ্যে রয়েছে। প্রতীকের চিন্তা না করে আগে ব্যক্তিকে চিনুন। ধানের শীষের চিন্তা বাদ দিয়ে এলাকার উন্নয়নের কথা ভাবুন।

ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সানাউল্লাহ, সাংগঠনিক সস্পাদক মীর সোহেল, মহিলা লীগের সভাপতি শিরিন আক্তার, জেলা জজ কোর্টের পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এমএ আউয়াল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সস্পাদক আনোয়ার হোসেন ও থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সস্পাদক এমএ মান্নান প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেট