প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

দেবহাটায় কবুতর চুরি করে সেনাসদস্য ধরা : শালিসে জুতাপেটা!

31
দেবহাটায় কবুতর চুরি করে সেনাসদস্য ধরা : শালিসে জুতাপেটা!
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

দেবহাটায় কবুতর চুরি করে সেনাসদস্য ধরা : শালিসে জুতাপেটা!

কবুতর চুরি করাই যেন নেশা পাঁচ মাসের সাসপেন্ডে থাকা দেবহাটার সেনাসদস্য রাসেল আহমেদের। সে দেবহাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের বাবলু সরদারের ছেলে।

করোনাকালে বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় মাস দেড়েক আগে সেনাবাহিনী থেকে ৫ মাসের জন্য শাস্তিমুলোক সাসপেন্ড করা হয় রাসেলকে। গত দেড়মাস ধরে বাড়ীতে সাসপেন্ডে থাকার সুযোগে নিজ গ্রাম দাদপুর ও পাশ্ববর্তী টাউনশ্রীপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষদের বাড়ি ও খামার থেকে একে একে চুরি করে নিজের বাড়ীর পরিত্যাক্ত একটি রান্নাঘরে জমিয়েছেন প্রায় আড়াইশ কবুতর। চুরিকরা এসব কবুতর দিয়ে নিজেই গড়ে তুলেছিলেন কবুতরের একটি খামার।

অবশেষে বুধবার সকালে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে সেনা সদস্য রাসেল। পরে দুপুরে দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদে শালিসে এলাকাবাসীর সামনে রাসেলকে জুতাপেটা করে তার বাবা বাবলু সরদার। একপর্যায়ে চাকুরি বাঁচাতে চুরিকৃত প্রায় আড়াইশ কবুতর মালিকদের ফেরত দিয়ে এবং ভরা মজলিসে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে এযাত্রায় রেহাই পেয়েছে শাস্তিমূলোক সাসপেন্ডে থাকা সেনা সদস্য রাসেল আহমেদ।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান বাবলু, আজগর আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও স্থানীয় শতাধিক মানুষ ওই শালিসে হাজির হয়েছিলেন সেনা সদস্যের এ কাণ্ড দেখতে।

আরও পড়ুন:  করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরায় দুই জনের মৃত্যু

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বেশ কিছুদিন ধরে দাদপুর, টাউনশ্রীপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের বাড়ী ও খামার থেকে ব্যাপকহারে পালিত কবুতর চুরি হচ্ছিল। সম্প্রতি টাউনশ্রীপুরের শামছুর রহমান নামের এক দোকানীর ঘেরের খামার থেকে একসাথে ৪২টি কবুতর চুরি হয়। এরপর একই গ্রামের বকুল সরদারের মুল্যবান আরো ৮টি কবুতর এবং আজিজপুরের হান্নানের ভাগ্নে রাকিব হোসেন শামীমের প্রায় ৮ হাজার টাকা মূল্যের সৌখিন দুই জোড়া কবুতর চুরি হয়। পর্যায়ক্রমে চুরি হয় দাদপুরের ফারুক হোসেন, তুহিন হোসেন, সাদেক, ওলিউল্লাহসহ বহু লোকের পালিত সৌখিন কবুতর।

একপর্যায়ের এলাকার মানুষ সম্মিলিতভাবে কবুতর চোর ধরতে সজাগ হয় এবং এলাকায় খোজখবর নিতে থাকে। একাধিক মাধ্যম থেকে ওই সেনা সদস্যের কাছে তাদের কবুতর থাকার খবর পেয়ে বুধবার সকালে চুরি হওয়া কবুতরের মালিকরা একসাথে রাসেল আহমেদের বাড়ীতে হানা দেন। এসময় রাসেলের বাড়ীর পরিত্যাক্ত একটি রান্নাঘরের দরজা খুলে তাদের হারানো কবুতরসহ প্রায় আড়াইশ কবুতর দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে সেনা সদস্য রাসেলকে হাজির করে ওই শালিস অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন:  দেবহাটায় শতাধিক সরকারি গাছের ডাল কেটে সাবাড়!

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী জানান, শালিসে রাসেলকে তার বাবা জুতাপেটা করে। পরে স্ব স্ব চুরির বিষয়টি স্বীকার করে মালিকদের কাছে তাদের কবুতর ফেরত দিয়ে এবং হাতজোড় করে ক্ষমা চায় রাসেল। যেহেতু সে ৫ মাসের সাসপেন্ডে রয়েছে এবং কবুতর চুরি করার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে। সেহেতু তার পিতার অনুরোধে এবং চাকুরী বাঁচানোর স্বার্থে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে তাকে এযাত্রায় ক্ষমা করে ভালো হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন

বাংলা ম্যাগাজিন সাতক্ষীরা ডেস্ক

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 19
    Shares