প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

‘মানুষ করোনা পরীক্ষায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে’

31
‘মানুষ করোনা পরীক্ষায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে’
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

তৌফিক মারুফ : বেশ কিছু কারণে করোনা পরীক্ষার প্রতি মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। সংক্রমণ শনাক্ত করার পর পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ মহল থেকে পরামর্শ এসেছে বারবার। এরপর পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছিল। সে জন্য পরীক্ষাগারও বাড়ানো হচ্ছিল। কিন্তু গত দুই সপ্তাহের বেশি দিনেই পরীক্ষার সংখ্যা কমে আসতে দেখা যাচ্ছে। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে দুটি দিক নজরে এসেছে। এর মধ্যে বড় দিকটি হলো পরীক্ষার প্রতি আস্থাহীনতা। অন্য দিকটি হলো পরীক্ষার ফি, হয়রানি ও ঝামেলায় না যাওয়া এবং কল সেন্টার থেকে সাড়া না পেয়ে হতাশার কারণে বিমুখ হওয়া।

পরীক্ষা করানো নিয়ে বেশ কয়েকজন করোনা রোগীর সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের বেশির ভাগই যেমন বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতির খবরে তারা দেশের করোনা পরীক্ষার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। কেউ বলেছে, ফি বেশি হওয়ায় খরচের কথা চিন্তা করে পরীক্ষা করায়নি। আবার কেউ কেউ বলেছে, যেহেতু পরীক্ষা ছাড়াই নিজ থেকে উপসর্গ বুঝে ওষুধ খেয়ে ভালো হয়েছে তাই আর পরীক্ষার ঝামেলায় যেতে হয়নি। অবশ্য কেউ কেউ পরীক্ষার ফলাফলে দীর্ঘসূত্রতা এবং পরীক্ষার সিরিয়াল পেতে হয়রানির কথাও জানিয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আস্থাহীনতার বিষয়টি স্বীকার করার পাশাপাশি বলেছেন, সংক্রমণ কমে আসায় এবং অপ্রয়োজনে পরীক্ষা করানোর প্রবণতা কমে আসায় পরীক্ষার সংখ্যা কমেছে। যদিও এভাবে পরীক্ষার সংখ্যা কমে আসার বিষয়টিকে সংক্রমণ বিস্তারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ।

গতকাল শনিবার পর্যন্ত দেশে ৮০টি পরীক্ষাগারে করোনা পরীক্ষার তথ্য থাকলেও নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে আসছে তুলনামূলকভাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত মাসের শেষ দিকেও যেখানে ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার সংখ্যা ১৭-১৮ হাজারে উঠেছিল, চলতি মাসের শুরু থেকে সেটা ক্রমেই নেমে আসছে। গত ৪ জুলাই থেকে টানা ১৫ দিনের মধ্যে মাত্র দুই দিন (৮ ও ৯ তারিখ) ১৫ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। বাকি দিনগুলোতে পরীক্ষার সংখ্যা ছিল এর নিচে। আর গতকাল সর্বনিম্ন ১০ হাজার ৯২৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১০ লাখ ১৭ হাজার ৬৭৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক লাখ ৩০ হাজার ৯৩৩টি পরীক্ষা করেছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবেরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেন্স সেন্টার (এনআইএলএমআরসি)। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার পরীক্ষা করেছে। অথচ গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করেছে মাত্র ৩৭৬টি। আর এটাই ছিল গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো একক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষা।

আরও পড়ুন:  মাহবুব কবীর মিলনের বদলি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কেন হৈচৈ?

এনআইএলএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আগের মতো আর নমুনা পাচ্ছি না। যা পাই তা পরীক্ষা করে দিচ্ছি। শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য যেসব এলাকা থেকে আমাদের এখানে নমুনা পাঠানো হতো এখন ওই সব জায়গা থেকেও নমুনা কম আসছে।’

সংক্রমণের শুরু থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনায় বাংলাদেশ পরীক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। সে অবস্থার উন্নতি হয়নি। এখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের পরে আমাদের অবস্থান। এর মধ্যে এ মাসের শুরুতে সরকার পরীক্ষা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এর আগে গত ২৮ জুন এসংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। পরিপত্র অনুযায়ী, পরীক্ষার জন্য বুথ ও হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করলে ২০০ টাকা এবং বাসা থেকে সংগ্রহ করলে ৫০০ টাকা ফি দিতে হবে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, ফি নির্ধারণের কারণে অনেকে করোনা পরীক্ষা থেকে দূরে থাকছে। এর মধ্যে দিনে আনুমানিক ২১০ জন করোনায় আক্রান্ত মানুষ রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা থেকে বাদ পড়ছে। মাস শেষে বাদ পড়াদের সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়াতে পারে। এর ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে। করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণের লাভ-ক্ষতির প্রাথমিক পর্যালোচনায় এ রকম তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ, জনস্বাস্থ্যবিদ ও ডেটা বিশ্লেষকদের একটি দল এই পর্যালোচনা করেছে।

প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন কল সেন্টারে যেসব কল আসে তা নিয়েও অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা যায়। তারা মনে করে, যারা কল করছে তাদের হয়তো উপসর্গ আছে বা পরীক্ষার জন্যই তারা কল করছে। দেশে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন কল সেন্টারে মোট ফোন কল আসে এক কোটি ৬৮ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৮টি। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কল আসে ৯৭ হাজার ২০৩টি।

আরও পড়ুন:  হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু

প্রথম দিকে কল সেন্টার থেকে সাড়া না পাওয়ার অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়। পরীক্ষাগার বাড়ার পর ধীরে ধীরে এ ধরনের অভিযোগ কমে আসে। তবে পরীক্ষা করাতে গিয়ে নতুন করে হয়রানি ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা, মানুষের দুর্ভোগ-কষ্ট নিয়ে সংবাদ হয়েছে। মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পরীক্ষা করাতে না পেরে উত্তেজিত স্বজনরা জড়িয়েছিল অপ্রীতিকর ঘটনায়।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘এটা ঠিক যে বিভিন্ন কারণেই মানুষের কনফিডেন্স কমে গেছে। তবে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অনুসারেই আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে, ঢাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় সংক্রমণ কমে গেছে।’ তিনি মনে করেন, আগে বিনা মূল্যে পরীক্ষা করাতে পারায় যথেচ্ছভাবে মানুষ বারবার পরীক্ষা করিয়েছে। এখন ফি ধার্য হওয়ায় সেই প্রবণতা কমেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আগের মতো নেই। মানুষ এখন করোনার সঙ্গে বসবাসের মতো মানসিকতা তৈরি করে নিয়েছে। যেখানে লকডাউন চলছে সেখানেও মানুষকে পরীক্ষা করাতে আনা যাচ্ছে না।’ কল সেন্টারের বিষয়ে তিনি বলেন, কতগুলো কল কী কারণে আসছে সেটা আলাদা করা কঠিন ব্যাপার। অনেকে অনাকাঙ্ক্ষিত কলও করে।  সূত্র : কালের কণ্ঠ

., . .।. : বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares