প্রচ্ছদ অপরাধ ২০-এর অধিক ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষককের কুকর্ম

২০-এর অধিক ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষককের কুকর্ম

158
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আপত্তিকর ছবি তুলে অসংখ্য ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা এক স্কুলের দুই শিক্ষককে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে র‌্যাব ও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। পরে শিক্ষকের সাথে ছাত্রীদের আপত্তিকর একাধিক ছবি উদ্ধার করে। বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবসী লম্পট ঐ দুই শিক্ষকের ফাঁসি দাবি করে র‌্যাব ও পুলিশের সামনে স্লোগান দিতে থাকে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়ার বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড হাইস্কুলে এঘটনা ঘটে। এলাকাবসী বলছেন, এ শিক্ষকসহ এর পাশের আরেকটি স্কুলের এক লম্পট শিক্ষকসহ অন্যন্যা লম্পট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করলে কোন লম্পট শিক্ষক এমন কাজ করার সাহস পাবে না।

এলাকাবাসী জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম গত ৮ বছর ধরে স্কুলটিতে গনিত ও ইংরেজী বিষয়ে শিক্ষকতা করে আসছে। তার চাকুরীজীবনে আরিফুল ইসলাম অসংখ্য ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে আপত্তিকর ছবি তুলে ধর্ষণ করতে বাধ্য করে। ছাত্রীদের কোচিং পড়নোর জন্য তার বাসা ছাড়াও স্কুলের পাশে বুকস গার্ডেন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়।

আরও পড়ুন:  মায়ের পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে

তার স্ত্রী, সন্তান না থাকলেও ঐ ফ্ল্যাটে তিনটি খাটছিল বলে জানায় ঐ ফ্ল্যাটের দারোয়ান। গত তিনদিন যাবত তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড এলাকায় প্রচার হতে থাকে। পরবর্তীতে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বেলা ১১টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঐ স্কুলে গেলে আরিফুল ইসলামের মোবাইলে থাকা আপত্তিকর ছবি গুলো মুছে ফেলে। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ঐ মোবাইল উদ্ধার করে এলাকার একটি মোবাইল দোকানে একটি সফটওয়ারের মাধ্যমে ছবিগুলো উদ্ধার করে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঐ স্কুলে হামলা চালায়। এসময় স্কুলের লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে গণধোলাই দেয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে সহযোগীতা করে আসছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানায়, তার মেয়ে ৫ম শ্রেণীতে পড়ার সময় ঐ শিক্ষকের যৌন লালসার শিকার হয়। ঐ মেয়ে এখন ৯ম শ্রেণীতে পড়ছে। এখনও লম্পট ঐ শিক্ষক থেকে রক্ষা পায়নি আমার সন্তান। কিন্তু ঘটনার এত বছর পেরিয়ে গেলেও আমার সন্তান আমাকে না বলায় আমি এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি।

গত ২-৩ দিন পূর্বে এ ব্যাপারটি জানতে পেরে এলাকার যুব সমাজকে বলেছি। এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সালে একই এলাকার বাড়ি ভাড়া করে ছোট্ট একটি কেজি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এ প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার। পরবর্তীতে ঐ স্কুলের লাভের টাকা দিয়ে বর্তমান স্কুলের জমিসহ ৪ তলা ভবনটি কিনে নেয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

আরও পড়ুন:  পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে স্তন ও গোপাঙ্গে ছুড়ি ঢুকিয়ে গৃহবধূকে হত্যা!

৮ বছর পূর্বে এ স্কুলে গনিত ও ইংরেজীর শিক্ষক হয়ে আসেন আরিফুল ইসলাম। এলাকাবাসী জানায়, তার অপরাধগুলোকে সহযোগীতা করতো স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার। গত তিনমাস পূর্বে স্কুলের এক শিক্ষিকার সাথেও ঐ শিক্ষক যৌন হয়রানি করেছিল। ঐ শিক্ষিকা এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষক তাকে থানা থেকে ছড়িয়ে আনেন বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক।

র‌্যাব-১১ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন জানায়, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে তার মোবাইল থেকে ছাত্রীদর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের অনেক ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেছি। তার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ জনের অধিক ছাত্রীর সাথে ঐ শিক্ষক ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করেছে। যা প্রথামকিভাবে ঐ শিক্ষক আমাদের কছে স্বীকার করেছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট: