প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

গাজীপুর কালীগঞ্জে বিএনপি বনাম আওয়ামীলীগ, একটি নির্বাচনি সমীক্ষা – হাবিবুল্লাহ আশরাফী

26
গাজীপুর কালীগঞ্জে বিএনপি বনাম আওয়ামীলীগ, একটি নির্বাচনি সমীক্ষা – হাবিবুল্লাহ আশরাফী
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

গাজীপুর কালীগঞ্জে বিএনপি বনাম আওয়ামীলীগ, একটি নির্বাচনি সমীক্ষা – হাবিবুল্লাহ আশরাফী

স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর।  গাজীপুরের কালীগঞ্জ বরাবরই একটি আওয়ামী ওরিয়েন্টেড এলাকা, সংখালঘু ভোটাররা এখানে একটা বড় ফেক্টর যা আওয়ামীলীগের জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট। কিন্তু তথাপি ২০০১ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ডাকসাঁইটে প্রার্থী আন্তর্যাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাজনীতিবীদ ডাকসুর সাবেক ভি পি, নির্বাচিত এম পি জনাব আক্তারুজ্জামান ৩৮২ ভোটে বি এন পি প্রার্থী জনাব ফজলুল হক মিলনের নিকট হেরেযান। এর পরই সাংঠনিক দক্ষতাপূর্ন দল আওয়ামীলীগ নড়েচড়ে বসে সমীক্ষা চালায় পরাজয়ের কারন নির্নয়ের। তারা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে আসে যে সংখালঘুরা অধিকাংশই তাদের রিজার্ভ ভোট, আর মুল কালীগঞ্জ সহ ছয়টি ইউনিয়ন তাদের অরক্ষিত কারন এখানে তাদের স্থানীয় প্রার্থী নাই বিধায় এই এলাকার বিশাল অংকের ভোট তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।

তারা একটা বড় রকমের রিস্ক নেয় মরহুম ময়জুদ্দীন সাহেবের মেয়ে রাজনীতিতে একরকম নতুন এবং নারী প্রার্থী জনাবা মেহের আফরোজ চুমকিকে মনোনয়ন দিয়ে, যার সুফল তারা ঘরে তোলে বিজয়ের মধ্যদিয়ে। সম্পূর্ণ সুষ্ঠ নির্বাচনে তিনি প্রায় ৫২ হাজার ভোটের ব্যাবধানে বি এন পি প্রার্থী জনাব ফজলুল হক মিলনকে শোচনীয় ভাবে পরাস্থ করে এম পি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ পরাজয়ের পর পরাজয়ের কারন নির্নয়ে সমীক্ষা চালালেও বি এন পি এত বড় পরাজয়ের পরও কারন নির্নয়ের বিন্দু মাত্র চেস্টা করেনি। ২০০১ এর নির্বাচন ছিল আওয়ামীলীগ বনাম সর্বদলীয় নির্বাচন।

যেখানে শরিক দল জামায়াতের বড় ভুমিকা সহ শেষ ভাগে জাতীয় পার্টির আযম খানের বি এন পির পক্ষে ঘোষণা দিয়ে প্রত্যাহার ছিল বিজয়ের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। অপর দিকে বি এন পির সাংগঠনিক কাঠামো ছিল যুগশ্রেষ্ঠ। প্রতিটি ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের মান ছিল থানা পর্যায়ের। কিন্তু নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই সব কিছু বদলে যেতে থাকে। নানা কায়দায় ক্ষমতার জোরে সম্পূর্ণ অসাংগঠনিক ভাবে একের পর একেক জনকে নেতৃত্ব থেকে অপসারন, ৪/৫ জনের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গঠন সহ সব দল বিরুধী গনবিরুধী সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন নেতা।

থানা ইউনিয়ন কমিটি গুলি মনমতো ভেঙ্গে তার পছন্দের লোক গুলিকে পদায়ন করতে থাকেন যা আজও চলমান। দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে এমন আচরন করতে থাকেন যেন তিনি কোন রাজাধিরাজ সকলেই তার অধিনস্ত প্রজা। দলে তিনি নিজে গ্রুপিং তৈরী করে পরস্পর থেকে পরস্পরকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে নিজের নেতৃত্ব নিরঙ্কুস করেন। থানার সাধারন সম্পাদককে জেলার সদস্য না করে তার কাজের লোককে, ইউনিয়নের তৃতীয় পদের লোককে জেলা সদস্য বানিয়ে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করেন এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে এইভাবে অপমানিত করেন।

আরও পড়ুন:  সময় এসেছে প্রতিবাদ করার : ফখরুল

নেতাদের কি নোংড়া ভাবে অপমান করতেন তার একটা উদাহরন দিচ্ছি। পৌর যুবদলেরকমিটি হবে তাঁর বাড়িতে, দূর্ভাগ্য বসত সেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। এক সময় কমিটির পদপদবী বন্টনে দলের সিনিয়র নেতা হুমায়ূন মাস্টার জোড়ালো আপত্তি জানায়, আমিও তার প্রস্তাব সমর্থন করি কারন তার প্রস্তাবিত প্রার্থী ছিল তুলনামুলক অনেক যোগ্য ও জনপ্রিয়। তার বিরোধিতাকে কোন আমল না দিয়ে কমিটিতো ঘোষনা দিলোই পরবর্তিতে হূমায়ূন মাস্টার যখন তার বাড়ি থেকে বের হতে যাবে তখন ফরিদকে উস্কে দিয়ে মাস্টারকে মারতে উদ্ধত হয় অশ্রাব্য সব নোংড়া গালি দিয়ে। লজ্জার ব্যাপার হলো তিনি ছাদে থেকে এ দৃশ্য দেখছিলেন ও হাসছিলেন।

অতঃপর আমি ওনাকে ছাদ থেকে সরে যেতে বললে উনি সরে যান। শুধু তাই নয় গত ২০ বছরে তার নির্বাচন সহযোগী একজন ব্যাক্তিকেও সৌজন্যতা বসতও অফিসে ডেকে এককাপ চাও খাওয়ার আমন্ত্রনও জানান নি। এদের মধ্যে জামায়াতের একজন ক্লিন ইমেজের সিনিয়র নেতা, ইসলামী স্কলার, কালীগঞ্জবাসীর গর্ব জনাব মওলানা জায়নুল আবেদীন, জাতীয় পার্টির নেতা আযম খান, দূর্বাটি গ্রামের অধিবাসী, সাবেক বি টি এম সির সিনিয়র কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রফেসার ওসমান গনি সাহেব অন্যতম।

মিলন সাহেব যখন কালীগঞ্জ বি এন পির কোন্দলের কারনে কমিটি করতে পারছিলেননা তখন এই ওসমান সাহেব আমাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে তৎকালীন বি এন পি মহাসচিব মান্নান ভুইঁয়ার কাছ থেকে মিলন সাহেবকে আহ্বায়ক করে কমিটি অনুমোদন করিয়ে দেন। অথচ এই লোকটিকে সামান্যতম সম্মান উনি দেখাতে পারেন নি। তার একমাত্র কারন কর্মিরা যেন এসব ব্যাক্তিকে চিনতে না পারে যাতে তারা আাবার কখনো মনোনয়ন চেয়ে না বসে। এমনি এক অকৃতঞ্জ ব্যাক্তি কালীগঞ্জ বি এন পিকে তার চানক্য চালাকি দিয়ে চেটে পুটে খেয়ে নিজের স্বার্থ ঠিকই উদ্ধার করছে সংগঠনকে রসাতলে দিয়ে।

আরও পড়ুন:  রাজনীতিকে নষ্ট করেছিল বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

এখন মেহের আফরোজ চুমকি তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলী সফল নেতৃ্ত্ব দিয়ে কালীগঞ্জে তাঁর ভীতই শুধু মজবুত করেন নি কালীগঞ্জের বৃহত্তর ভোটার এলাকার অধিবাসী হিসাবে মানুষের আবেগকেও নিজের অনুকুলে আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং বি এন পির ভোট ব্যাংক তছনছ করে দিয়ে নিজে তার নিয়ন্ত্রন নিয়েছেন। আগামীতে চুমকি কে হারাতে হলে একা মিলন না সঙ্গে মেডাম নাহয় তারেক জিয়াকেও প্রার্থী করতে হবে। কালীগঞ্জের মূল ভুখন্ড তথা দীর্ঘদিন যাবত বঞ্চিত ইসলামী জনতা অধ্যুসীত উত্তরাঞ্চল থেকে প্রার্থী না দিলে বি এন পি আর কোনদিন কালীগঞ্জে বিজয়ের মুখ দেখতে পারবেনা।কারন যে লোকটি নিজ ইউনিয়নেই ভোটে জামানত রক্ষা করতে পারেনা তার উপর গত ১৫ বছরে দলের যোগ্য পরিক্ষিত নেতৃবৃন্দকে বাদ দিয়ে দলে চাঁদাবাজ চামচাদের রাজত্ব কায়েম করেছেন, একদিন দল যাদের সহায়তায় বিজয়ী হয়েছিলো তাদের সামান্যতম সম্মান পর্যন্ত দেখাতে পারেন নি তাদের ছাড়া ঐ পদলোভী দুচারজন জিন্দাবাদ আর প্রসংশা ওয়ালারা বিজয় তো দুরে থাক ধারেকাছেও যেতে পারবেনা।

দলের বিজয় চাইলে অবশ্যই কালীগঞ্জ, জামালপূর, মোক্তারপূর, জাঙ্গালিয়া এবং বক্তার পূর এই অঞ্চল থেকে প্রার্থী বাছাই করে মনোনয়ন দিতে হবে। একাধিক যোগ্য জনপ্রিয় পরিচিত মুখের প্রার্থী রয়েছেও যারা বি এন পির মনোনয়ন পেলে শুধু এলাকার টানে একটা ভোট বিপ্লব ঘটে যেতে পারে যা মিলন সাহেবের পক্ষে কোনদিনই সম্ভব হবেনা,। কারন দল এখন খন্ড খন্ড, অনৈক্য, অসন্তোষ এখন তীব্র আকার ধারন করেছে । যা মিলন সাহেবকে প্রার্থী রেখে সমাধান করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। অন্যথায় অপমানজনক পরাজয় অবধারিত।ঐ কয়েকজন চামচা নেশাখোর চাঁদাবাজরা বিজয়ী করতে পারবেনা, কারন অতীতে অপমানিতরাও এবার বসে থাকবেনা, পরাজিত করেই প্রতিশোধ নেবে। দলের সাবেক সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়ীত্ব নিয়েই কথাগুলু বললাম সিদ্ধান্ত হাই কমান্ডের রায় দিবে জনগন। লেখক-হাবিবুল্লাহ আশরাফী।

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 18
    Shares