প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও আমার দেখা সেরা দুটি মঞ্চ পরিচালনা – মমতাজ উদ্দিন মাস্টার

22
৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও আমার দেখা সেরা দুটি মঞ্চ পরিচালনা – মমতাজ উদ্দিন মাস্টার
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও আমার দেখা সেরা দুটি মঞ্চ পরিচালনা – মমতাজ উদ্দিন মাস্টার

১৯৮৪ ইং সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিভাবক আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে জনাব ময়েজউদ্দিন আহমদ খুন হন। ফলে কালীগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিবাদ সভা এবং ঠিক তার এক দিন পর ওই মঞ্চেই বি এন পি র নেতৃত্বাধীন আরেকটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঞ্চটি করে দিয়েছিলেন মসলিন কটন মিলস এর সৌজন্যে। আওয়ামী লীগের এই প্রতিবাদ সভা শতভাগ সফল করার জন্য নেতা কর্মীদের আগ্রহ, প্রানান্ত চেষ্টাও দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করছিলেন। অপর দিকে অনেকটা অভিভাবক হীন বি এন পি র প্রস্তুতি সভা করি সাবেক মহিলা এম পি শাহীনা খানের তেজগাঁও এর বাসায়। ওই সভায় কালীগঞ্জ থেকে আমরা যোগ দেই বোরহান মাস্টার, রমিজ উদ্দিন আহমদ, আশরাফী হাবিবুল্লাহ, মাসুদুল হক পান্নু, নায়েবুর রহমান মাসুদ, আবদুল মজিদ আর আমি মোঃ মোমতাজ উদ্দিন। ঢাকা থেকে সাবেক খাদ্য মন্ত্রী মোমেন খান, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মতিন চৌধুরী, প্রফসর মান্নান ও মহিলা এম পি শাহীনা খান ( বেগম খালেদা জিয়ার তৎকালীন একান্ত সহকারী), সভার শুরুতেই পোস্টারের কথা আসে, পোস্টারে উল্লেখ থাকবে প্রধান অতিথি খালেদা জিয়ার নাম ও ময়েজউদ্দিন এর রক্তমাখা দেহ। এর মধ্যে আশরাফী হাবিবুল্লাহ সংযোজন করেন খুনিদের উদ্দেশ্য ময়েজউদ্দিন এর শেষ বাক্য –

*আমাকে_মেরো_না_আমাকে_মেরো_না_তোমরা_আমার_ছেলের_মতো

এই বাক্যটি সবার কাছে পছন্দ হয়েছিল। সভা সুন্দর ও সার্থক করার জন্য পরের দিন কালীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে বি এন পি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিয়ে আরেকটি প্রস্তুতি সভা করি। যে সভা শেষে ভুল বসত হুমায়ুন মস্টার নিগৃহীত হয়। সকল দলের প্রস্তুতি শেষ আওয়ামী লীগের চুড়ান্ত প্রতিবাদ সভায় শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে এক ডজন কেন্দ্রীয় নেতা নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হলেন। এই সময় মাঠ ও মঞ্চ উভয়ই কানায় কানায় পূর্ণ। সভা শুরু হলো কালীগঞ্জের গর্ব জ্ঞান ও মেধার লীলাক্ষেত্র ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত জি. এস. আক্তারুজ্জামানের পরিচালনায়। তিনি এমনভাবে মঞ্চ পরিচালনা করলেন কালীগঞ্জের মানুষ অতীতে এমন একটি প্রেক্ষাপট দেখেনি। কালীগঞ্জের মানুষের কাছে এটা ছিল স্বপ্নের মতো। সব মিলিয়ে সভাটি ছিল শতভাগ সফল।

আরও পড়ুন:  সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান: গয়েশ্বর

ঠিক পরের দিন বি এন পি র প্রতিবাদ সভা। আওয়ামীলীগের সভা শতভাগ সফল হয়েছে। বি এব পি র সভা শতভাগ সফল হবে কি না এই রকমের একটা টান টান উওেজানা তখন কালীগঞ্জে বিরাজ করছিল। মনে হচ্ছিল আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বি. এন. পি র প্রতিবাদ সভা। মঞ্চে বেগম খালেদা জিয়া – ব্যরিষ্টার মওদুদ, কাজী জাফর, বি. চৌধুরী, মতিন চৌধুরী,মোমেন খান, শাহীনা খান, প্রফেসর মান্নান, স্থায়ী কমিটির সদস্য সহ ডজন খানেক সাবেক মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নিয়ে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করলে #আশরাফী_হাবিবুল্লাহ র পরিচালনায় সভা শুরু হয়। মাঠ তখন কানায় কানায় ভর্তি তিল ধারনের ঠাই ছিল না। মানুষ তখন মনে করছিল কোন স্বপ্নের রাজ্যে আছে। একজন ভালো উপস্থাপক একটি সভা কতটুকু সুন্দর এবং সার্থক করতে পারে এই সভাটি ছিল তার জ্বলন্ত প্রমান।

প্রতিটি বক্তার বক্তব্যের পূর্বে তিনি যে মনোমুগ্ধকর শব্দ চয়ন, বিশেষণে তাদের ভূষিত করেছিলেন এই ব্যাপারে মঞ্চে উপবিষ্ট প্রধান অতিথি বেগম খালেদা জিয়া বার উপস্থাপকের দিকে তাকাচ্ছিলেন মনে, হচ্ছিল তার দলে এমন একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি রয়েছেন তার জন্যে মনে মনে তিনি গর্ববোধ করছিলেন। সত্য কথা বলতে কী সব দিক বিচার বিশ্লেষণ করলে বি. এন. পি র এই সভাটি ছিল আওয়ামী লীগের চাইতেও সফল।আক্তারউজ্জামান এক সময় শেখ হাসিনার পিতার কঠোর সমালোচক ছিলেন। শেখ হাসিনা এ সবকিছু ভুলে দলের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালীগঞ্জে আওয়ামীলীগের প্রার্থী করে এম পি বানিয়ে জাতীয় সংসদে নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে গাজীপুর জেলার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাকে সম্মানিত করতে ভুল করেননি।

আরও পড়ুন:  রিজভীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে মেডিকেল বোর্ড

অপরদিকে বি. এন. পি আশরাফী হাবিবুল্লাহকে যথাযথ মূল্যয়ণ তো দূরের কথা। জেলা কমিটি, থানা কমিটি, এমনকি পৌর কমিটির একজন সদস্য বানিয়ে তাকে সম্মান করতে পারলেন না। এমনকি তাকে রাজনৈতিক টুকাই বানিয়ে ছাড়লেন। আমি নিকোচি এমন রাজনীতির, এমন নেতৃত্বের এবং এমন মানসিকতার। আমার সন্দেহ হচ্ছে আগামী ১০০ বৎসরে কালীগঞ্জের মায়েরা একজন আক্তারুজ্জামান ও একজন হাবিবুল্লাহকে পেটে ধারণ করতে পারবে কী না। পরিশেষে আমি অনুরোধ করব বিএনপির দায়িত্বশীলদের। মানুষিকতার পরিবর্তন করুন। দলের বৃহওর স্বার্থে ত্যাগী, দায়িত্বশীল, যোগ্যও মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি বর্গকে মূল্যয়ন করে দল গঠন করুন দেখবেন দল তার সোনালী অতীত ফিরে পাবে।

*সাবেক দপ্তর সম্পাদক,কালীগঞ্জ থানা বি. এন. পি ও প্রতিষ্ঠাতা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালীগঞ্জ থানা ছাত্রদল।

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 11
    Shares