প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য

যে সকল খাবারে আপনার শিশুর বুদ্ধি বাড়াবে, জেনে নিন বিস্তারিত।

29
যে সকল খাবারে আপনার শিশুর বুদ্ধি বাড়াবে, জেনে নিন বিস্তারিত।
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

পৃথিবীতে সন্তানকে নিয়ে যারা সব চেয়ে বেশি চিন্তা করেন, তারা হলেন বাবা-মা। বাবা-মা’র এ চিন্তা লেগে থাকে কীভাবে তার শিশুর মেধা ও বিকাশ বৃ’দ্ধি হবে। শিশুর কিছু নিয়মিত পুষ্টিগু’ণ সম্পন্ন খাবার দৈহিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করে থাকে। তবে এটাও ঠিক, সব খাবারে একই পুষ্টিগু’ণ থাকে না, এমন কিছু খাবার আছে যার মধ্যে অনেক বেশি পুষ্টিগু’ণ বিদ্যমান।

যা শিশুর মস্তিষ্ক সক্রিয় ও সতেজ রাখে। আর মস্তিষ্ক সক্রিয় এবং সতেজ থাকলে শিশুর মেধা ও বু’দ্ধি বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। যেহেতু শিশুদের বেড়ে ওঠায় কিছু খাবার অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। সেহেতু আমা’দের মনে রাখতে হবে সেই খাবারগু’লো শিশুদের যাতে বেশি করে দেওয়া যায়।

এই বি’ষয়ও দেখতে হবে যে ছোট বাচ্ছাদের পাকস্থলী ছোট থাকে তাই তাদের পেট অল্পতেই ভরে যায়। এই ক্ষেত্রে আপনাকে চেষ্টা করতে হবে অল্প পরিমাণ খাদ্য দিয়ে কিভাবে বেশি করে পুষ্টি দিতে পারেন। পনির প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিসমৃ”দ্ধ একটি দুধজাতীয় খাবার। এতে আছে প্রচুর আমিষ এবং ক্যালসিয়াম, যা সুস্থ হাড় ও দাঁতের জন্য আবশ্যক। একই সাথে পনির মুখের ভেতর যে অ্যাসিড দাঁতের ক্ষয়ের জন্য দায়ী, সেগু’লোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

সুতরাং এই খাবার শিশুর জন্য অনেক গু’রুত্বপূর্ণ। আর সব চেয়ে বড় কথা মস্তিষ্ক মানবদে’হের অন্যান্য অংশের বিকাশ ও সঠিক পরিচালনা অনেকাংশেই নির্ভর করে। তাই শিশুকালেই এই অতি গু’রুত্বপূর্ণ অ”ঙ্গটির উপযুক্ত বিকাশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চলুন জেনে নেই মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে সন্তানকে কোন খাবারগু’লো খেতে দেয়া বেশি দরকার।

ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল বা কর্নফ্লেকস : কারন বাচ্চারা যে সব সিরিয়াল পছন্দ করে বা খায় তার উপাদানের প্রায় ৫০ শতাংশ জুড়েই থাকে চিনি। এই সিরিয়ালগু’লো অনেক বেশি প্রসেসিংয়ের মধ্য দিয়ে যায়। যার ফলে এগু’লোতে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে খুবই কম আর লবণ থাকে প্রচুর। ওইসব ক্ষ’তিকর সিরিয়াল বাদ দিয়ে কর্নফ্লেকস, উইটাবিক্স, গ্র্যানোলা, মিউজলি এবং পরিজের মতো সিরিয়ালগু’লো খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। আপনার সন্তান যদি তার এই সিরিয়ালের বাটিতে আলাদা চিনি মেশায়, তাও ওই চিনিভরা সিরিয়ালগু’লোর চেয়ে অনেক অনেক কম চিনি থাকবে।

ডিম : ডিম খাওয়া নিয়ে প্রায় শিশুদেরই নাই থাকে। তবে না খেতে চাইলেও শিশুকে প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খাওয়াতে চেষ্টা করতে হবে। কারণ গবেষণায় দেখা যায়, যারা প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খায় তাদের স্মৃ’তিশক্তি অন্যদের তুলনায় অন্তত ৭০% বেশি ভালো থাকে। ডিমে রয়েছে প্রচুর আয়রন। যা লোহিত কণিকা তৈরি করে র’ক্তের উপাদানে সঠিক মাত্রা বজায় রাখে। এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ হয়। যা চিন্তাশক্তি ও বু’দ্ধিমত্তা বাড়াতেও সাহায্য করে।

কিউই : একটি কিউইতে একটি কমলার প্রায় দ্বিগু’ণ ভিটামিন সি থাকে, যা পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের একদিনের ভিটামিন সি’র চাহিদা পূরণে সক্ষম। ভিটামিন সি খাদ্য থেকে দে’হে আয়রন শোষণের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি দে’হে জমা থাকতে পারে না। তাই শিশুদের প্রতিদিনই কিউই বা ভিটামিন সি’তে ভরপুর অন্য খাবার খেতে দিতে হবে।

কলা : কলা এমন একটি ফল, যাতে আছে প্রচুর পরিমাণে বলকারক কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা। সকালে নাস্তার কিছু সময় পর হালকা স্ন্যাক হিসেবে একটি কলা খেলে আপনার বাচ্চাটি পুরোটা সকাল জুড়েই তার শক্তি ধরে রাখতে পারবে। ফলে যে কোনো কাজে তার মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতাও বাড়বে। তাই টুকিটাকি স্ন্যাক হিসেবে সন্তানের ব্যাগে চিপস বা বিস্কিটের প্যাকে’টের বদলে একটি কলা দিয়ে দিন।

আরও পড়ুন:  সত্যিই কী মি’ষ্টি বে’শি খেলে ডা’য়া’বে’টি’স হয়?

শুকনো ফল : যে সব ফল শুকিয়ে রাখা যায় সেগু’লোতে থাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। এগু’লো হলো ব্যাপক শক্তির উৎস। তাই শিশুদের শুকনো ফল খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। তাহলে শিশুর মেধা বিকাশে অনেক প্রসারতা লাভ করবে। তাই মা’দের উচিত চকলেট খেতে না দিয়ে শুকনা ফল দেওয়ার অভ্যাস করানো। এতে শিশুর দাঁতও ভাল থাকবে।

পনির : ফ্যাট কম, ফাইবার বেশি – এ ধরণের খাদ্য গ্রহণের গাইডলাইন বড়দের জন্য, ছোটদের জন্য নয়। শিশুদের বর্ধিষ্ণু দে’হের জন্য দরকার তুলনামূলক বেশি ফ্যাট ও কম শর্করা। এতে তারা দে’হে বেশি শক্তি পায় এবং বিভিন্ন কাজ অনেক ভালোভাবে করতে পারে।

বাদাম : শিশুকে প্রতিদিনই কয়েকটি করে বাদাম খেতে দিন। কারণ বাদামে রয়েছে ভিটামিন ‘ই’ যা মস্তিষ্কের সমন্বয় সাধনের ক্ষমতা বাড়ায়। কাজুবাদাম, পেস্তা বাদাম, চীনাবাদামসহ যে কোনো ধরনের বাদামই শিশুর মানসিক বৃ’দ্ধিতে সহায়ক।

আখরোট : মস্তিষ্কের জন্য আখরোট খুবই উপকারী। এতে বাদামের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এটি শিশুসহ সব বয়সীদেরই মস্তিষ্কের যে কোনো রোগ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

ব্লু বেরি এবং স্ট্রবেরি : ব্লুবেরি এবং স্ট্রবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃ”দ্ধ|এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস বাচ্চাদের দক্ষতা ও চিন্তা করার ক্ষমতা উন্নত করে|এই খাদ্য মেমর’ি ক্ষমতা উন্নত করতে অনেক গু’রুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ভিটামিন সি এর উপস্থিতি ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে থাকে| এককথায় বু’দ্ধির তীক্ষ্ণতা বাড়াতে ব্লু বেরির জুড়ি নেই। তাই ব্লু বেরিকে ব্রেইনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর খাবার বলে ধ’রা হয়। সুতরাং শিশুর স্মৃ’তিশক্তি বাড়াতে এই খাবারগু’লো দেওয়া উচিত।

ডার্ক চকলেট : অ’ভিভাবকরা সাধারণত শিশুদের চকলেট খাওয়া নিয়ে চিন্তিত থাকে। কিন্তু সব চকলেটই শিশুর জন্য ক্ষ’তিকর নয়। ডার্ক চকলেটে থাকে ৭৫% কোকো যা শিশুর মেধা ও বু’দ্ধি বিকাশের জন্য উপকারী। ডার্ক চকলেট মস্তিষ্কে নিউরন তৈরি করে যা নতুন বি’ষয় মনে রাখতে সাহায্য করে। এটি শিশুর পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ায় এবং মস্তিষ্ক সতেজ রাখে।

জাম ও জামজাতীয় ফল : শিশুর প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন জাম, লিচু, স্ট্রবেরি বা আ”ঙ্গু’রের মতো ফলগু’লো। কারণ ফলগু’লোতে রয়েছে এন্টি-অক্সিডেন্ট যা ব্রেইনের কোষের অক্সিডেশন এবং ক্রমাগত ক্ষয়ে যাওয়া রোধ করে ব্রেইনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

মায়ের দুধ : শিশুকে অন্তত ছয় মাস বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। কারণ মায়ের দুধ পান করলে শিশুর বু’দ্ধিমত্তা বাড়ে। ব্রাজিলের একদল গবেষক সাড়ে ৩ হাজার শিশুর ওপর দীর্ঘদিন নজর রাখার পর এ সি’দ্ধান্তে আসেন।

শাকসবজি : কিছু কিছু শাকসবজিও রয়েছে যেগু’লো শিশুর মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। পাতা কপি ও পালং শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন কে এবং বিটা ক্যারোটিন। যা শিশুর স্মৃ’তিশক্তি বাড়ায়। পুষ্টিগু’ণে গু’ণান্বিত টমেটো। এটি মস্তিষ্কের শক্তি বৃ’দ্ধি ও স্মৃ’তিশক্তি বৃ’দ্ধিতে সহায়তা করে। তাই এখন থেকে প্রতিদিন শিশুকে রান্না, সালাদ নানাভাবে টমেটো খাওয়াতে চেষ্টা করতে হবে।

সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেল : মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সামুদ্রিক মাছ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। মস্তিষ্কে থাকা ফ্যাটি এ’সিডের ৪০% হচ্ছে ডিএইচএ, যা সামুদ্রিক ও মাছের তেলে পাওয়া যায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ’সিড হিসেবে। এই ধরনের যৌ’গিক উপাদান অন্য খাবারে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই শিশুর বয়স এবং দে’হের গঠন অনুযায়ী পর্যা’প্ত পরিমাণে সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেল স’প্তাহে অন্তত ৩ দিন খাওয়াতে চেষ্টা করতে হবে।

আরও পড়ুন:  ঘুমে অনি’য়ম কখনোই করবেন না,জেনে নিন তাহলে যে স্বা’স্থ্য ঝুঁ’কি’তে পড়বেন

গম : গমে রয়েছে ভিটামিন-ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস যা মস্তিষ্কের ক্ষয় প্রশমন করে ও হার্টকে ভালো রাখে। এর মধ্যে থাকা ফাইবার র’ক্ত থেকে ক্ষ’তিকারক কোলেস্ট্রেরল কমিয়ে দেয়। তাই প্রায় শিশুর জন্য গম দিয়ে খাবার তৈরি করে দেওয়া উচিত।

আভোকাডো : আভোকাডো আমা’দের দেশে সম্পূর্ণ নতুন একটি ফল। বিদেশি ফল হলেও এর বর্তমান প্রা’প্তি বেশ সুলভ বটে। এই ফল খেলে হার্ট ও মস্তিষ্ক, দুটিরই উপকার করে। মস্তিষ্কে র’ক্ত সঞ্চালন ঠিক রেখে তার মেধার বিকাশ তীক্ষ্ণ করে তোলে। সুতরাং এই ফলটি শিশুর জন্য কম উপকারি নয়।

আমলকি : আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। ভিটামিন-সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া হার্ট ও মস্তিষ্কে র’ক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে। তাই দিনে ১-২টা করে আমলকী শিশুকে খেতে দেওয়া ভালো।

পেঁয়াজ : এটি আমর’া প্রায় সকলেই রোজ খাবারের সাথে রান্না করে বা কাঁচা খেয়ে থাকি। পেঁয়াজ হার্ট ও মস্তিষ্কে র’ক্ত সঞ্চালনকে বাড়িয়ে দেয়। তাই শিশুর খাবারে পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করতে চেষ্টা করবেন।

কালোজিরা : কালোজিরাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস যা হার্ট বা মস্তিষ্ককে ক্ষ’তির হাত থেকে বাঁচায়। উচ্চ র’ক্তচাপ কমাতে, মনোযোগ বাড়াতে কালোজিরা সাহায্য করে। যদি কালোজিরা শুধু না খেতে চাই, তাহলে কিছু বিস্কুট আছে যেগু’লো কালোজিরা দিয়ে তৈরি সেইগু’লো খেতে দিতে চেষ্টা করবেন।

কালোজাম : কালোজামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস যা প্রবল ক্ষ’তির হাত থেকে হার্ট ও মস্তিষ্ককে বাঁচায়। একইসাথে হার্টে র’ক্ত সঞ্চালনও বাড়িয়ে দেয় এই ফলটি। তাই শিশুর প্রতিদিন ১-২টা করে কালোজাম খেতে দিতে চেষ্টা করবেন।

লাল আপেল : আপেলের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। এছাড়া এতে রয়েছে এমন উপাদান যা মস্তিষ্ককে ক্ষুরধার করার পাশাপাশি হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায়। আপেল অনেক শিশু খেতে ভালবাসে, তাই শিশুকে আপেল খেতে দিবেন বেশি করে।

কুমড়োর বীজ : কুমড়ো যেমন উপকারী তেমনই এর বীজে রয়েছে নানা খনিজ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা কোলেস্ট্রেরলের মাত্রা কমায় ও মস্তিষ্ককে ক্ষুরধার করে তোলে। সুতরাং কুমড়োর বীজ না ফেলে দিয়ে শিশুকে ভেজে দিতে চেষ্টা করবেন।

মধু : স্বাস্থ্য সংক্রা’ন্ত উপকারিতায় কোনও খাবার সম্ভবত মধুকে টেক্কা দিতে পারবে না। সব রোগের নিরাময় করতে মধু প্রয়োজন হয়। এতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্য়াগনেশিয়াম ইত্যাদি। ফলে হার্ট ও মস্তিষ্কের জন্যও মধু একইরকম প্রয়োজনীয়।

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 1
    Share