প্রচ্ছদ বাংলাদেশ

হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের টেবিল চুরি করে নিয়ে গেছে কর্মচারীরা

17
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) টেবিল চুরি করে নিয়ে গেছে কর্মচারীরা। পরে ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে কর্তৃপক্ষ চোরদের শনাক্ত করলেও এক কর্মচারী নেতার তদবিরে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যাবস্থা নিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর আগে হাসপাতালটিতে সরকারি টিকিট জালকারীদের হাতেনাতে ধরলেও ওই কর্মচারী নেতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক ওয়ার্ডবয় ও দুই আউট সোর্সিং কর্মচারী মিলে অপারেশন থিয়েটারের টেবিল চুরি করে। এর দাম প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে কিছুদিন যাবৎ অপারেশন থিয়েটারগুলোতে সংস্কার কাজ চলছে। এ কারণে ওটিতে ব্যবহৃত ৫ লাখ টাকা মূল্যের টেবিলটি ১নং বিল্ডিংয়ের নিচ তলার এমআই রুমের সামনে রাখা হয়।

এ সুযোগে গত সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালটির ওয়ার্ড বয় সিরাজ ও আউট সোর্সিং কর্মচারি আবিদ এবং আদি কর্মকার মিলে ওটি টেবিলটি চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা বাধা দিলে তারা ওটি টেবিলটি মেরামত করতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানায়। পরে টেবিলটি পুর্নস্থাপনের জন্য খোঁজাখুঁজি করলে চুরির ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

হাসপাতালের পরিচালক বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ওই তিন কর্মচারীকে ডেকে পাঠালে তারা চুরির ঘটনা এবং ৫০ হাজার টাকায় টেবিলটি বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে কর্তৃপক্ষের চাপে রোববার ওই টেবিলটি হাসপাতালে চোরেরা ফেরত নিয়ে আসে। এ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. সেলিম যুগান্তরকে বলেন, ওটি টেবিলটি চুরি করার সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসা করলে টেবিলটি মেরামত করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। তারা হাসপাতালের কর্মচারী হওয়ায় ওই সময় তাদেরকে সন্দেহ করার কোন অবকাশ ছিল না। পরে টেবিলটি পুনরায় স্থাপনের জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু হলে তখন চুরির বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি। ওই সময় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চোরদের আটক করে অফিসে হাজির করি। এরপর তারা চুরি করার কথা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে। কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলায় আমরা কোনো মামলা করিনি।

গুঞ্জন উঠেছে, ওই চোরদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিতে হাসপাতাল পরিচালকের দফতরে প্রভাবশালী একজন কর্মচারী নেতা তাদের পক্ষে জোড়ালো তদবির করছে। এ কারণে ঘটনার ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও ওই চোরদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর আগেও হাসপাতালটিতে ১০টাকা মূল্যের রোগীর টিকিট জাল করে বিক্রয়কালে হাতেনাতে আটক করার পরও ওই কর্মচারী নেতার তদবিরে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেট

Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Loading Facebook Comments ...