প্রচ্ছদ অপরাধ ২ স্কুলছাত্রীসহ ৬ নারী ধর্ষিত

২ স্কুলছাত্রীসহ ৬ নারী ধর্ষিত

35
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

দেশের বিভিন্ন জেলায় দুই স্কুলছাত্রীসহ ৬ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া কুমিল্লার মেঘনায় ধর্ষণের শিকার প্রবাসীর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কিশোরী ধর্ষিত হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক গ্রেপ্তার হয়েছে। শরীয়তপুরের জাজিরায় কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক মেয়রপুত্রকে আটক করেছে পুলিশ। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।

খুলনায় এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর নিয়ামতপুরে ধর্ষণের পর দুই সন্তানের জননী মোসা. রূপেলা (৩৪) নামে এক গৃহবধূকে তার নিজবাড়িতে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ রুপেলার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত রুপেলা উপজেলার বড়াইল দীঘিপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমানের স্ত্রী বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিয়ামতপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দুরুল হুদা জানান, উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের বড়াইল দীঘিপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমানের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মোসা. রূপেলা খাতুনকে তার স্বামীগৃহে শনিবার দিবাগত রাতের যেকোনো সময় কে বা কারা ধর্ষণের পর মাথার ডান পার্শ্বে তালের ঘাটিয়া দ্বারা আঘাত করে হত্যা করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

রূপেলার ছেলে রাজু আহমেদ বলেন, বাবা ঢাকায় চাকরি করেন। আমি রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় পাশের ঘরে শুয়ে পড়ি। এরপর সারারাত কি ঘটেছে কিছু বলতে পারবো না। সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠে পাশের ঘরে দেখি মা মৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে।

থানার উপ-পরিদর্শক দুরুল হুদা আরো বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল আসি। পরিদর্শনে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পারি ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান উপ-পরিদর্শক দুরুল হুদা।

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের রামপ্রাসাদেরচর গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননী ফরিদা আক্তার ধর্ষণের শিকার হয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতা বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে মেঘনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রবাসীর স্ত্রীর অভিযোগ- তার নিকট আত্মীয় সেলিম মেম্বারের কাছে বিদেশ থেকে টাকা-পয়সা পাঠাতেন তার প্রবাসী স্বামী। সেই সুবাদে সেলিম তাদের ঘরে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এই সুযোগে সে আমাকে ফুসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। কয়েকদিন পর আবার ধর্ষণ করতে আসলে রাজি না হওয়ায় আগের ধর্ষণের খবর সাধারণ মানুষের কাছে বলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আবার ধর্ষণ করেন। এভাবে একাধিকবার ধর্ষণের পর তার শ্যালক খবির হোসেনকে দিয়েও আমাকে ধর্ষণ করান। এতে করে আমি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যা খোদেজা বেগমকে জানালে, অভিযুক্তরা তার মাধ্যমে আমাকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গর্ভে থাকা বাচ্চা সিজারের মাধ্যমে ফেলে দেয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখান। এ বিষয়ে মেঘনা থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মজিদ জানান, ধর্ষণে গৃহবধূ ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:  ঈদের পরদিন ঘুরানোর কথা বলে ধর্ষণ

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের ঘটনায় এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ধর্ষকের নাম মো. ইকবাল হোসেন (২০)। সে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। শনিবার দিবাগত মধ্য রাতে দীঘিরপাড় গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে তাহিরপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে ইকবাল হোসেন ও একই গ্রামের এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কয়েকবার দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে কিশোরিটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে। কিশোরী বিষয়টি ইকবাল হোসেনকে বার বার জানালেও সে তাকে ঘরে বউ করে তুলে নেবে বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এরই মধ্যে কিশোরী শনিবার বিকালে তার নিজ বাড়িতে এক ছেলে সন্তান প্রসব করে। কিশোরীর ঘরে সন্তান হওয়ায় এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা ঝর বইতে থাকে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, জাজিরা পৌরমেয়রের ছেলের বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেয়রের ছেলেকে জাজিরা থানা পুলিশ আটক করেছে। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মেয়রের ছেলে ঘটনা অস্বীকার করেছে। পুলিশ বলছে ভিকটিমের অভিযোগে মেয়রের ছেলেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

জাজিরা থানা ও ভিকটিমের বোন জানান, জাজিরা পৌর এলাকার আরাচন্ডি গ্রামের মেয়ে জাজিরা ডিগ্রি কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী ও জাজিরা মডার্ন ক্লিনিকের স্টাফের সঙ্গে একই এলাকার শরীফ সরদারের সঙ্গে প্রেম বিনিময় হয়। একপর্যায়ে শরীফ তাকে বিয়ে করার কথা দেয়। এমনিভাবে দীর্ঘদিন চলার মধ্য দিয়ে শরীফ কলেজছাত্রীকে স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা লুটে নিয়ে কেটে পরে। সে তাকে বিয়ে না করে অন্যত্র বিয়ে করে। এ নিয়ে এলাকায় দরবার শালিস করে কোনো সুরাহা না পেয়ে কলেজছাত্রী বিচারের জন্য প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়। একপর্যায়ে অসহায় কলেজছাত্রীকে শনিবার বিকালে জাজিরা পৌরমেয়র মো. ইউনুছ বেপারীর ছেলে মাসুদ বেপারী শরীফের সঙ্গে তার বিয়ের ফয়সালা করে দেয়ার কথা বলে ফোন করে তার বাড়িতে নেয়। সে সময় মাসুদের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। শনিবার সন্ধ্যা অনুমান ৬টায় বাড়ি ফাঁকা পেয়ে মাসুদ বিচার প্রার্থী কলেজছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার শরীরে রক্তক্ষরণ হয়। এ সময় সে পার্শ্ববর্তী রশিদ বেপারীর বাড়ি গিয়ে আশ্রয় নেয়। আশ্রিত বাড়ির লোকজন মেয়ের মাকে খবর দেয়। খবর পেয়ে কলেজছাত্রীর মা ও ভাবি গিয়ে তার মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শনিবার রাত অনুমান ৩টায় জাজিরা থানা পুলিশ মেয়রের ছেলে মাসুদ বেপারীকে নিজ বাসা থেকে আটক করে। এরপর ভিকটিমকে উদ্ধার করতে গেলে ভিকটিম ও তার পরিবার লোকলজ্জার ভয়ে বাড়ি ছেড়ে উধাও হয়ে যায়। পরে গতকাল দুপুরে ভিকটিম ও তার পরিবারের লোকজন জাজিরা থানায় হাজির হয়ে ঘটনার বর্ণনা দেয়। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযুক্ত মাসুদ বেপারী বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়েছে। কলেজছাত্রী আমার আত্মীয়। সে আমার কাছে তার মাকে নিয়ে আসছিলেন বিচারের জন্য। সেখানে কোনো ঘটনা হয়নি।

আরও পড়ুন:  দুলাভাইয়ের লোলুপ দৃষ্টি কিশোরী শালীর দিকে

জাজিরা পৌরমেয়র ইউনুছ বেপারী বলেন, আমার প্রতিপক্ষের লোকেরা ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা ঘটনা রটনা করা হয়েছে।

জাজিরা থানার ওসি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে মেয়রের ছেলেকে আটক করা হয়। ভিকটিম লোকলজ্জার ভয়ে লুকিয়ে থাকে। রোববার দুপুরে থানায় এসে হাজির হয়ে বর্ণনা দিয়ে বলে তাকে মেয়রের ছেলে খবর দিয়ে বাড়ি নিয়ে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

সুবর্ণচর (নোয়াখালী) সংবাদদাতা : নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী বর্তমানে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এঘটনায় উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর তোরাব আলী গ্রামের আনোয়ারুল হক তোতার ছেলে নুর নবী (৩৫) কে আসামি করে চরজব্বর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভিকটিম। ভিকটিম ও চরজব্বর থানার পুলিশ জানান চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীর শেষ সপ্তাহে একদিন বিকেল বেলায় ভিকটিমের প্রতিবেশী নুর নবীর স্ত্রী বাবা বাড়ি বেড়াতে গেলে গৃহস্থালীর কাজের ভিকটিমকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয়। বাড়িতে লোকজনের উপস্থিতি না থাকায় ভিকটিমকে ঘরের ভিতর নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে নুর নবী। এসময় ভিকটিম চিৎকার করতে চাইলে তাকে গলাটিপে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয় সে। বিষয়টি কাউকে না জানালে ভিকটিমকে বিয়ের আশ্বাস দেয় নুর নবী। এভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ভিকটিমের সাথে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যায় নুর নবী। ঘটনার তিন মাসের মাথায় পরিবারের লোকজন ভিকটিমের শারীরিক পরিবর্তন দেখে ভিকটিমকে জোর প্রয়োগ করে জানতে চাইলে সে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করে। এরই মধ্যে ভিকটিম ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। গর্ভের সন্তানের বিয়ে এবং পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে ২৭ জুন চরজব্বর থানায় ধর্ষণ মামলা করে ভিকটিম।

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, খুলনায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শাহাদাৎ, পরশ, আকাশ ও নুরুন্নবী। গণধর্ষণের সঙ্গে ৭ থেকে ৮ জন জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। গত শনিবার বিকালে ধর্ষিতা ছাত্রীর প্রেমিকের বন্ধুর বাসায় এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গণধর্ষণের অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনকে আসামি করে রোববার নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করা হয়েছে।

কেএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ এহসান শাহ জানান, বান্ধবীর মাধ্যমে নগরীর পল্লীমঙ্গল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় শান্ত নামের এক যুবকের। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শনিবার বিকালে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রেমিক শান্ত নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ জমজম মিষ্টির দোকানের কাছে বন্ধু নুরুন্নবীর বাসায় ওই স্কুলছাত্রীকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর স্কুলছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটির কান্নাকাটিতে ঘটনাটি টের পেয়ে আশেপাশের লোকজন সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দেয়। সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ গিয়ে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট: