প্রচ্ছদ সম্পাদকের কলাম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ভয়াবহ নোংরা ষড়যন্ত্র

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ভয়াবহ নোংরা ষড়যন্ত্র

292
পড়া যাবে: 2 মিনিটে
advertisement

খবরটা খুব ছোট্ট কিন্তু সায়ানাইডের চরম ক্ষমতার ইংগিতবাহী। উন্নয়নের বুলেট ট্রেনে যখন বাংলাদেশ তার দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে চরম সফলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে তখন এমন একটা খবরে অনেকেই পুলকিত হয়েছেন তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু আতঙ্কে আরেক শ্রেণির মানুষের হাত পা জমে ঠাণ্ডা বা হীম হয়ে যাবার যোগাড়। মার্কিন কংগ্রেসে মিয়ানমারের রাখাইনকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব উঠেছে। সম্প্রতি কংগ্রেসে পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বাজেট বিষয়ক শুনানিতে এ প্রস্তাব ওঠে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের এশিয়া প্রশান্ত-মহাসাগরীয় উপকমিটির চেয়ারম্যান ব্রাড শেরম্যান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে দেশটি থেকে আলাদা করে দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্র দফতরের প্রতি আহ্বান জানান।

advertisement

ব্রাড শেরম্যান একটা মজার টপ ফেলেছেন তাঁর এবং তাঁর মিত্র যুদ্ধবাজ বন্ধু দেশের জন্য। তিনি বলেন, সুদান থেকে দক্ষিণ সুদানকে আলাদা করে একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে যুক্তরাষ্ট্র যদি সমর্থন করতে পারে, তাহলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কেন একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না?

তখন শেরম্যান বলেন, খার্তুম সরকার যখন সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করেছিল তখন সুদান থেকে দক্ষিণ সুদানকে আলাদা করে একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিয়েছিল। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংগঠিত করারও অভিযোগ আছে। অথচ সুদান সরকার দক্ষিণ সুদানের মানুষের নাগরিকত্ব কখনো অস্বীকার করেনি। মিয়ানমার যদি রাখাইনের রোহিঙ্গা নাগরিকদের দায়িত্ব নিতে না পারে, তাহলে যে দেশ তাদের দায়িত্ব নিয়েছে, সেই বাংলাদেশের সঙ্গে রাখাইনকে জুড়ে দেওয়াই তো যৌক্তিক পদক্ষেপ। চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:  রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জিয়াউর রহমানের হাত ছিল

অন্যদিকে এ বিষয়ে ট্রাম্প সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী অ্যালিস জি. ওয়েলস বলেন, সব দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করা আমাদের ঐতিহ্যগত পররাষ্ট্র নীতি। কী চমৎকার বানী! আমি জল আর ডাঙ্গায় দুইখানেই আছি।

এ প্রস্তাবের বিষয়ে ট্রাম্প সরকারের অবস্থান স্পষ্ট না করে ওয়েলস বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে জোর দিচ্ছি। যাতে করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার তৈরি হয় এবং তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। সেখানকার পরিবেশ মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ হলে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে।

জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিত্বকারী কূটনীতিকেরা অবশ্য কংগ্রেসম্যান শেরম্যানের বক্তব্যকে সমর্থন বা নাকচ কোনোটিই করেননি। মানে হচ্ছে এটা একটা মাখন মার্কা টোপ। বাংলাদেশ তা গিললেই, আমেরিকা বাংলাদেশের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। বলবে আমাকে সেন্ট মারটিন দাও আমি মার্কিন সৈন্যের ঘাটি করে তমাদের সাহায্য করবো যদি মিয়ানমার তোমার কথা না শোনে। এটা একটা ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত। যাতে পরে জড়িয়ে যাবে চীন। চলবে দীর্ঘ সময়। রোহিংগা হবে বাংলাদেশের জন্য স্থায়ী বিষফোঁড়া।

আরও পড়ুন:  ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় রোহিঙ্গা তরুণী

এতে কার লাভ? লাভ হবে তাঁদের যারা অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রি করে। যারা চীনের আর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চান, তাঁদের। বাংলাদেশ যুদ্ধে জড়ালেই উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা সব টাকা চলে যাবে যুদ্ধাস্ত্র কিনতে। দেশের তাবৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পড়বে মুখ থুবড়ে। কারণ আমাদের বাংলাদেশের উন্নয়ন বরাদ্দের প্রায় ৯০ ভাগ আসে নিজস্ব তহবিল থেকে। এটা পরিণত হবে আরেকটি আফগানিস্তানে।

অনেকেই বলছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের যে গ্রুপটি বাংলাদেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে। তাঁরা বাংলাদেশী কিছু দালালের পরামর্শে সতর্ক এই প্রস্তাব এনেছে মার্কিন কংগ্রেসে, ‘যদি লাইগ্যা যায়’, এই আশায়। তাঁদের টাকা তো আর এদেশে থাকে না, থাকে সুইচ ব্যাংকে, কিংবা বিদেশে। বাংলাদেশের উন্নয়ন হওয়া না হওয়া তে কিছুই আসে যায় না তাঁদের। কিছু সরল মানুষ যারা খুব ধর্মপ্রাণ তাঁরাও মার্কিন কংগ্রেসের এই প্রস্তাব সমর্থন করবেন, এর ভয়াবহতা না বুঝে।

এটা বুঝার জন্য খুব বড় বিশেষজ্ঞ হবার দরকার নেই যে, একটা যুদ্ধই বাংলাদেশের তন সম্ভাবনাময় একটা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে তাঁর উন্নয়ন নস্যাৎ করতে যথেষ্ট। তাই এটা যে বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটা ভয়াবহ নোংরা ষড়যন্ত্র তাতে কোন সন্দেহ নেই বলে অভিজ্ঞজনেরা মনে করছেন।

বাংলা ইনসাইডার

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

advertisement