প্রচ্ছদ আইন-আদালত

দুই নাইজেরিয়ানসহ তিনজন রিমান্ডে

19
দুই নাইজেরিয়ানসহ তিনজন রিমান্ডে
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক  :     ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার দুই নাইজেরিয়ানসহ তিনজনকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। পল্লবী থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং প্রচুর ব্যাংকের স্লিপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- আলবার্ট ইকেচুকূ ওরফে ইয, ওকে চুকু ওরফে চুকওয়ামা এবং বাংলাদেশি মোছা. নুপুর খাতুন।

সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেফতারদের মধ্যে আলবার্ট প্রথমে ফেসবুকে ভুয়া আইডি থেকে অপরিচিতদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতেন। টার্গেট ব্যক্তি যখন ফেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করতেন তখন তার সঙ্গে মেসেঞ্জারে মেসেজ আদান-প্রদান শুরু করতেন। এরপর নিজেকে বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে পরিচয় দিতেন। এভাবে ঘনিষ্ট হওয়ার এক পর্যায়ে বলতেন, বন্ধু আমি তোমার জন্য কিছু গিফট পাঠাতে চাই। তোমাকে গ্রহণ করতে হবে। কারণ, তুমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।’

আরও পড়ুন:  আউয়াল দম্পতির আগাম জামিন আপিলেও বহাল

তিনি বলেন, ‘গিফট পাঠানোর কথা বলে কৌশলে তার কাছ থেকে ই-মেইল অ্যাড্রেস এবং নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতেন আলবার্ট। তার কয়েকদিন পর ভুয়া গিফটের ছবি তুলে মেসেঞ্জারে ছবি পাঠিয়ে বলা হতো, বন্ধু তোমার জন্য একটি পার্সেল পাঠিয়েছি। তুমি ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করো।’

সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের এ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতার নুপুর নিজেকে ‘কাস্টম অফিসার সালমা’ বলে পরিচয় দিয়ে ভিকটিমকে ফোন করতেন। ফোনে বলতেন, ‘স্যার, আপনার নামে একটি পার্সেল এসেছে। আমরা আপনার ঠিকানা যাচাই করার জন্য ফোন করেছি। আপনার ঠিকানা মিলিয়ে নিন।’

তারপর বলতেন, ‘স্যার, আপনার ঠিকানায় পার্সেলটি পৌঁছে যাবে।’ তারপর কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে বলতেন, ‘স্যার আমরা আপনার পার্সেলটি স্ক্যান করে অনেক ডলার ও সোনা পেয়েছি। এগুলো অবৈধভাবে বাংলাদেশে এসেছে। এগুলো বৈধ করতে হলে আপনাকে ডলার ও সোনার জন্য সরকারি ট্যাক্স বাবদ টাকা জমা দিতে হবে। আর যদি টাকা জমা না করেন তাহলে মানি লন্ডারিং মামলা হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:  এনু-রুপনকে কেন জামিন দেয়া হবে না : হাইকোর্ট

এভাবে তিনি ভয় দেখাতেন আর ভিকটিমকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতেন টাকা পাঠানোর জন্য।

গ্রেফতার ওকেচুকুর প্রধান কাজ ছিল অ্যালবার্টকে মোবাইল সিম সরবরাহ করা। তাছাড়া বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে আলবার্টের মতো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতেন এবং আলবার্টকে সরবরাহ করতেন। তিনি নুপুরকে সব ধরনের সহযোগিতা করতেন। চক্রটি গত দুই বছরে কোটি টাকার অধিক হাতিয়ে নিয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।