প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিভাগ

সিরিয়াল ধর্ষকের ঝাঁঝরা লাশ

20
সিরিয়াল ধর্ষকের ঝাঁঝরা লাশ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামীর শান্তিনগর এলাকায় ছিল তাঁর বাস। পুলিশ নথির তথ্য অনুযায়ী তাঁর নামে ধর্ষণ মামলার সংখ্যা ৯। এ ছাড়া অস্ত্র ও মাদকসহ আরো চারটি মামলার আসামিও তিনি। ১৩ মামলার এই আসামির নেশাটাই ছিল ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ধর্ষণ করা। বেলাল হোসেন দফাদার (৩৭) নামের এমন সিরিয়াল ধর্ষকের মৃত্যু হয়েছে গত বুধবার রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’। তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ডাবলুগঞ্জ গ্রামের মো. দেলোয়ার দফাদারের ছেলে। বাস করতেন চট্টগ্রাম মহনগরীতে। পেশা অটোরিকশাচালক। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে একই কায়দায় শিশু ধর্ষণ করেই যাচ্ছিলেন।

এই ধর্ষকের মৃত্যুর খবরে স্বস্তি ফিরেছে ধর্ষিত এক শিশুর পরিবারে। ওই পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া ওই ছাত্রীকে টোপ ফেলে অটোরিকশায় তুলে নির্জন এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করেন বেলাল। পরে বাড়ির কাছে এনে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় ওই শিশুকে। এই ঘটনায় ওই পরিবার বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করে। তবে আদালতের বিচার পাওয়ার আগেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অভিযুক্ত ধর্ষকের প্রাণ গেল।

আরও পড়ুন:  চট্টগ্রামের গ্রামে এ কেমন ‘মহিলা গ্যাং’!

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি প্রিন্টন সরকার বলেন, বেলাল ছিলেন সিরিয়াল ধর্ষক। বায়েজিদ এবং আকবর শাহ থানায় তাঁর নামে ৯টি ধর্ষণের মামলা আছে। ২০১৬ সালে এক শিশুকে ধর্ষণের জন্য নির্জনে নেওয়ার পথে জনতার হাতে ধরা পড়েছিলেন তিনি। এরপর কারাগারে গিয়েছিলেন। শেষে জামিনে মুক্তি পেয়ে একের পর এক ধর্ষণে মেতে ওঠেন তিনি।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, সর্বশেষ ১২, ১৭ ও ২০ জুলাই অভিন্ন কৌশলে তিন শিশুকে ধর্ষণ করেন তিনি। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছিল। এরই মধ্যে খবর পাওয়া যায়, আসামি নগরীর বায়েজিদ বোস্তামীর সমবায় আবাসিক এলাকায় সহযোগীসহ অবস্থান করছেন। এই তথ্যের পর গত বুধবার রাতে অভিযান শুরু হলে আসামি ও তাঁর সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এই সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে সেখানে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে জানা যায়, নিহত ওই ব্যক্তি ধর্ষণের আসামি বেলাল।

আরও পড়ুন:  কুমেকে উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু

শিশুদের পরিবার ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ মাসে পাঁচ শিশুকে একই কায়দায় তুলে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজন ধর্ষণের শিকার হয়। সবশেষ ৫ জুলাই ধর্ষণের শিকার এক শিশু চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন আছে। ভুক্তভোগীদের বয়স ১০ বছরের কম। তাদের মধ্যে তিনটি পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। এসব মামলার তদন্ত পর্যায়ে পুলিশ এলাকার কিছু সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজের ছবি পর্যালোচনা করে। সেখানে দেখা গেছে, শিশুদের অটোরিকশায় চালকের আসনের পাশে বসিয়ে নিয়ে যায় ওই ব্যক্তি। পরে নামিয়েও দিয়ে যায়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares