প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিভাগ

কুড়িগ্রামে পানিতে ডুবে ২০ জনের মৃত্যু, নদী ভাঙনে গৃহহীন প্রায় দেড় হাজার পরিবার

14
কুড়িগ্রামে পানিতে ডুবে ২০ জনের মৃত্যু, নদী ভাঙনে গৃহহীন প্রায় দেড় হাজার পরিবার
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:  কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপূত্র ও ধরলা নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টানা ২৫দিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: হাবিবুর রহমান জানান, ‘বন্যার পানিতে ইতোমধ্যে ডুবে মারা গেছে ২০জন। তাদের মধ্যে ১৫জন শিশু।’

মারা যাওয়া শিশুরা হলেন-আরাফাত আলী (৭), শান্ত মিয়া (১০), বেলাল হোসেন (৫), মুক্তাসিন (১৪ মাস), কথা রায় (২), জাহিদ (১২),সুচরিতা (২), মাহিন (১৭মাস), লামিয়া খাতুন (২), কেয়া আক্তার মীম (১০), রাকু (১৫), মুন্নি (১৮মাস), লাদেন (৭), বায়েজিদ (৮) ও ইয়াছিন আলী (৮)। মৃত অন্যরা হলেন-জামাল ব্যাপারী (৫৫), সৈয়দ আলী (৭০), আব্দুল আবুয়াল (৪০), নুরুল আমিন (৭০) ও সুরুজ্জামান (৪৩)।

তিস্তা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে প্রচন্ড ভাঙন। একদিকে ভাঙন আর অন্যদিকে পানিবন্দি  হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

মাঝখানে কয়েকদিন বন্যার পানি কমে গেলেও গত এক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদীর পানি আবারও হু হু করে বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ধরলা নদীর পানি ৯২ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অপরদিকে ব্রহ্মপূত্র নদের পানি চিলমারীতে ৬৯ ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

আরও পড়ুন:  এবার পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক করোনা আক্রান্ত

টানা বন্যায় জেলার ৯টি উপজেলার পাঁচ ভাগের তিনভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ৬০ ইউনিয়নের প্রায় ৫শতাধিক গ্রামের সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। ৫০ হাজার বাড়িঘর ও ১০ হাজার হেক্টর ফসলী জমির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ৫টি স্কুল ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৩৯টি।

এছাড়াও ৩৭ কিলোমিটার সড়কপথ ও ৩১ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে প্রায় দেড় হাজার পরিবার।

দীর্ঘ ২৫দিন ধরে ঘরবাড়ি ছাড়া পানিবন্দী মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নিরব খাদ্যাভাব। মানবেতর জীবন যাপন করছে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের লোকজন।

জেলার চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হানিফা জানান, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী আমরা ত্রাণ পাচ্ছি না। এই মুহূর্তে শুকনো খাবার, স্যানিটেশন, পানি ও ওষুধের ভীষণ প্রয়োজন।

এই বন্যার মধ্যেই তিস্তা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ এবং উলিপুর উপজেলার থেতরাই ও বজরা ইউনিয়নের কাসিমবাজারে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিস্তার পানির প্রবল স্রোতে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়ির হাট এলাকায় ক্রস বারের মাটির ৫০ মিটার পানিতে ভেসে গেছে। ভাঙন দেখা দিয়ে রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতিরাম এলাকার ক্রসবারেও। এতে করে দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম ভাঙনের হুমকীতে পড়েছে। গত ৫ দিন ধরে জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

আরও পড়ুন:  প্রেমিকের কাছ থেকে প্রেমিকাকে ছিনতাই করে সংঘবদ্ধধর্ষণ

ভাঙন কবলিত এলাকার আব্দুল আজিজ জানান, তিস্তার ভাঙনে ছয়বার নিঃশ্ব হয়েছি। এবার আর জায়গা না থাকায় চর বিদ্যানন্দ থেকে পার্শ্ববর্তী গাবুর হেলানে জামাই নুর মোহাম্মদের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছি।

এই এলাকার হক্কানী মিয়া জানান, এখানে গত ৮দিন ধরে ভাঙন চলছে। আজও ৫টি বাড়ি ভেঙেছে।  যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে হুমকীর মুখে রয়েছে গাবুর হেলান মসজিদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাজাপাড়া বালিকা বিদ্যালয়, সোলাবাড়ি সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তৈয়ব খাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাসানিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রাঘব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থান।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় দফা বন্যায় ৪৫লক্ষ ৫০হাজার টাকা বিতরণ করেছি। শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য ছাড়াও ৫ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেছি।

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 7
    Shares