প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিভাগ

কুড়িগ্রামে দীর্ঘায়িত বন্যায় চরম কষ্টে বানভাসীরা

10
কুড়িগ্রামে দীর্ঘায়িত বন্যায় চরম কষ্টে বানভাসীরা

পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক : কুড়িগ্রামে টানা ১ মাসের দীর্ঘ বন্যায় চরম কষ্টে দিন পাড় করছে প্রায় ৪ লাখ বানভাসী মানুষ। হাতে কাজ ও জমানো খাদ্য না থাকায় বন্যা কবলিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো খেয়ে না খেয়ে দিন পাড় করছে। চরম দুর্ভোগে থাকলেও ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ বন্যা দুর্গত মানুষজনের।

শতশত পরিবার ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিলেও দুর্ভোগ বেড়েছে তাদেরও। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বেশির ভাগ মানুষ পানিতে তলিয়ে থাকা ঘর-বাড়িতে বসবাস করে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়েছেন। এসব এলাকায় মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুর কষ্ট দ্বিগুন বেড়েছে।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চরের মনছের আলী জানান, টানা ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্যার মধ্যে পড়ে আছি। কাজ-কাম নাই। ঘরে খাবার নাই। মেম্বার চেয়ারম্যানও কিছু দেয় না। বন্যার আগে ভাইরাসের কারনে তো কোথাও যেতেও পারি না। এক কথায় খুব কষ্টে আছি।

কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কে আশ্রয় নেয়া এনতাজ আলী জানান, ১৫ দিন ধরে এই সড়কে গরু, ছাগল নিয়ে অবস্থান করছি। নিজের খাবারের কষ্ট। তার উপর গরু, ছাগলের খাবার। সবমিলে খুব কষ্টে দিন পাড় করছি।

আরও পড়ুন:  ওষুধ পাচারকারী চক্রের হোতা রিমান্ডে

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, বন্যা কবলিত এলাকায় পানিতে তলিয়ে আছে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি নলকুপ।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো: হাবিবুর রহমান জানান, গত ১ মাসে পানিতে ডুবে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১৭ জনই শিশু।

কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ২ হাজারেরও বেশি পুকুরের সাড়ে ৭ কোটি টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো: মোস্তাফিজার রহমান প্রধান জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল সম্পুর্ণ রপে নষ্ট হয়ে গেছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো: রেজাউল করিম জানান, এ পর্যন্ত জেলায় বন্যার্তদের জন্য ১৯০ মেট্রিক টন চাল, জিআর ক্যাশ ৯ লাখ, শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং ৬ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  পলাশবাড়ীতে মাইক্রোবাসের চাপায় রিকশাভ্যান, ঘটনাস্থলেই নিহত ৩

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সন্ধা ৬ টার তথ্য অনুযায়ী সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন banglanewsmagazine আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

  • 6
    Shares