প্রচ্ছদ কৃষি, প্রাণী ও পরিবেশ ঢাকা ওয়াসার পানিতে ব্যাকটেরিয়া ও মলের জীবাণু

ঢাকা ওয়াসার পানিতে ব্যাকটেরিয়া ও মলের জীবাণু

12
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ঢাকা ওয়াসার ১০টি মডস জোনের মধ্যে চারটি জোন এবং সায়েদাবাদ ও চাঁদনিঘাট এলাকা থেকে সংগৃহীত পানির ৮টি নমুনাতে দূষণ পেয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটি। এসব এলাকার পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও উচ্চ মাত্রার অ্যামোনিয়া পাওয়া গেছে। এছাড়াও কিছু-কিছু নমুনাতে মলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জুলাই) এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

আগামী রবিবার (৭ জুলাই) হাইকোর্টে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এর আগে গত ২১ মে হাইকোর্ট ঢাকা ওয়াসার পানির উৎস, ১০টি বিতরণ জোন, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেন। পরে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৩৪টি স্থান থেকে। সেগুলো আইসিডিডিআরবি, বুয়েট ও ঢাবি অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে পরীক্ষা করার পর আটটি নমুনাতে দূষণ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:  ছয় ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত তরল দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া

প্রতিবেদনে বলা হয়, আটটি নমুনায় মিলেছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। রয়েছে মলের জীবাণুও। সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা সায়েদাবাদ ও চাঁদনীঘাটে। শুকনো মৌসুমে পাওয়া যায় উচ্চ মাত্রার অ্যামোনিয়া। ক্ষতিকর এসব ব্যাকটেরিয়া রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ঢাকার অন্য এলাকার পানিতে কোনো ধরনের দূষণ আছে কিনা তা খুঁজে বের করার পরামর্শও দিয়েছে কমিটি। প্রতিবেদনটির ওপর আগামী রবিবার হাই কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ জানান, আমি এখনো প্রতিবেদনটি হাতে পাইনি।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর অন্য এলাকার পানি পরীক্ষার আবেদনও করব। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ অনিরাপদ উৎসের পানি পান করে। ৪১ শতাংশ পানির নিরাপদ উৎসগুলোতে রয়েছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। ১৩ শতাংশ পানিতে রয়েছে আর্সেনিক।

আরও পড়ুন:  ছয় ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত তরল দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া

পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৮২ শতাংশ। ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে সে প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। এরপর ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পরে ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধির সমন্বয়ে ওই কমিটি গঠিত হয়। এরপর ওই কমিটিকে ২০১৯ সালের ২১ মে পানি পরীক্ষার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট: