প্রচ্ছদ উপজেলা অধ্যক্ষের হাত পা ভেঙে নদীতে ফেলার হুমকি উপজেলা চেয়ারম্যানে

অধ্যক্ষের হাত পা ভেঙে নদীতে ফেলার হুমকি উপজেলা চেয়ারম্যানে

54
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জিএম রফিকুল ইসলামকে হাত পা ভেঙে কাঁকশিয়ালী নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী। এ ঘটনার ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা। তারা বৃহস্পতিবার কলেজ ক্যাম্পাসে সাঈদ মেহেদীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।

অবিলম্বে হুমকিদাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কলেজ অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করায় উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জিএম রফিকুল ইসলাম বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে অফিসিয়াল কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে ই্উএনও সরদার মোস্তফা শাহিন ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন সরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ভারতে যাচ্ছেন উল্লেখ করে উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া চান এবং তাৎক্ষণিক অন্য একটি প্রোগ্রামে যোগদানের জন্য কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান।

আরও পড়ুন:  ব’ন্দুকযু’দ্ধে ২ ছাত্রলীগ কর্মী নি’হত

এর পরপরই আকষ্মিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী কলেজের অধ্যক্ষ জিএম রফিকুল ইসলামের সাথে অসৌজন্যমূলক কথাবার্তার সূত্রপাত করেন। এক পর্যায়ে সাঈদ মেহেদী অধ্যক্ষ জিএম রফিকুল ইসলামকে হুমকি প্রদান করে বলেন, আজ আমি ঢাকায় যাচ্ছি। ঢাকা থেকে এসে যেন দেখি তুই চাকুরি থেকে পদত্যাগ করেছিস। তা না হলে তোর হাত-পা ভেঙে কাঁকশিয়ালী নদীতে ফেলে দেব। সাঈদ মেহেদীর হাত অনেক লম্বা যা তোর ধারণা নেই। এ সময় অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে উদ্যত হওয়ার পাশাপাশি অনেক কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। জীবননাশের হুমকি ও অশ্লীল গালিগালাজের ঘটনা অধ্যক্ষ তার মোবাইল ফোনে রেকর্ডিং করছেন এমন ধারণা থেকে সাঈদ মেহেদী মোবাইল কেড়ে নিয়ে পরীক্ষা করেন। রেকর্ডিং করা হয়নি নিশ্চিত হয়েও সাঈদ মেহেদী মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত মেমরি কার্ড সম্পূর্ণ ফরম্যাট করে দেন। এতে মেমরি কার্ডে সঞ্চিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ডিলিট হয়ে যায়। কলেজের কয়েকজন শিক্ষক এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের এক নেতার নিকট অধ্যক্ষকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদানের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের নিকট এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন:  শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার শুরুতে দেবরের পুরুষাঙ্গ কেটে দিল ভাবী

কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জিএম রফিকুল ইসলাম আবেগাপ্লুত হয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, কোন কারণ ছাড়াই উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী জনসস্মুখে চিৎকার করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেছে। আমি চাকরি থেকে পদত্যাগ না করলে তিনি আমার হাত-পা ভেঙে কাঁকশিয়ালী নদীতে ফেলে দেবেন বলে হুমকি প্রদান করেছেন। মোবাইল কেড়ে নিয়ে মেমরি কার্ড ডিলিট করায় সেভ করা অনেক প্রয়োজনীয় নাম্বার ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে গেছে। একজন জনপ্রতিনিধি কোন মানুষের সাথে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে পারেন তা অকল্পনীয়।

এ দিকে কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জীবননাশের হুমকি ও চাকুরি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশের বিষয়টি জানাজানি হলে কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী বলেন, কলেজে অনেক সমস্যা রয়েছে। সেসব বিষয়ে আমি কথা বলেছি। প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি জানান।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট: