প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

দলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন যারা

26
দলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন যারা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

করোনা সঙ্কটের সময় দলে যারা অনেকটাই বঞ্চিত এবং অপাংক্তেয়, তারাই দলের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন এবং দলের নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করে এবং দলের সভাপতির সঙ্গে বিভিন্নরকম সমন্বয় সাধন করে সারাদেশে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে কাজ করে কিছু নেতা দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। এরাই এখন দলের প্রধান চালিকাশক্তি বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। করোনা সঙ্কটের সময় যখন অনেক নেতাই হাত-পা গুঁটিয়ে বসে আছেন, যখন অনেকেই স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি হয়ে আছেন সেই সময় এই সমস্ত নেতাদের উদ্যোগ এবং তৎপরতা আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। কর্মীরা এখন তাঁদের সঙ্গেই যোগাযোগ করছে। যারা এই করোনা সঙ্কটের সময় গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন তাঁরা সকলেই নানাভাবে বঞ্চিত। তাঁরা সকলেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বিভিন্ন সময় বঞ্চিত ছিলেন এবং এই কারণে সংকটকালে তাঁরা কর্মীদের সংস্পর্শে এসে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছেন। এই সংকটকালীন সময়ে যারা বিভিন্নভাবে আলোচিত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছে-

বেগম মতিয়া চৌধুরী

আওয়ামী লীগের চার মেয়াদের মধ্যে তিন মেয়াদেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবারের চতুর্থ দফায় যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো তখন তিনি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেন। মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে যারা এখনো দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তাঁদের মধ্যে বেগম মতিয়া চৌধুরী অন্যতম। মতিয়া চৌধুরী শুধু এই সঙ্কট নয়, ওয়ান ইলেভেনের সঙ্কটের সময়েও নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। সঙ্কটের নেতা হিসেবে ইতিমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর এই করোনা সঙ্কটেও তিনি দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত থাকছেন, বিভিন্ন রকম সাংগঠনিক তৎপরতায় তাঁর উৎসাহের কোন কমতি নেই।

আরও পড়ুন:  জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাসাস এর মানববন্ধন (ভিডিও)

জাহাঙ্গীর কবির নানক

জাহাঙ্গীর কবির নানক গত নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হওয়া এবং তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর নৈকট্য থাকার পরেও তিনি মাত্র একবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কিছুদিনের জন্যে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু সেই বঞ্চনার জবাব দিচ্ছেন এবার করোনার সময়ে। এই করোনা সঙ্কটের সময়ে যারা সবথেকে বেশি সক্রিয় নেতা তাঁদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক অন্যতম। বিশেষ করে, জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে তৃণমূলের গভীর যোগাযোগ হচ্ছে। সারাক্ষণই তিনি তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে তৃণমূলের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করছেন। এর ফলে তিনি কর্মীদের আস্থার জায়গা দখল করেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম

আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। তিনিও গত নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন। কিন্তু এই সঙ্কটে তিনি কর্মীদের আশা-ভরসার জায়গায় স্থান করে নিয়েছেন। কর্মীরা বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তাঁর পরামর্শ নিচ্ছে। সারাদেশের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, তাঁদেরকে উদ্বুদ্ধ করা, চাঙ্গা রাখা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে বাহাউদ্দিন নাছিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

আরও পড়ুন:  রাজনীতিকে নষ্ট করেছিল বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

মির্জা আজম

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমও শুধুমাত্র এক মেয়াদে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কর্মীবান্ধব এই নেতার ব্যাপক জনসংযোগ রয়েছে। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকার কারণে তরুণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সবসময় তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল এবং বর্তমানে আছে। এই বাস্তবতার কারণেই মির্জা আজমও করোনা সঙ্কটের সময় নিজেকে আরো সক্রিয় করেছেন এবং নেতাকর্মীদের আস্থার জায়গায় স্থান পেয়েছেন।

এই সমস্ত নেতারা ছাড়াও যারা কেন্দ্রীয় নেতা নন এমন অনেক নেতারাও সঙ্কটে উজ্জ্বল হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন শামীম ওসমান, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনসহ আরো অনেকে। অথচ এরা কেউই দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন। অথচ এই সঙ্কটের সময়ে আওয়ামী লীগের অনেক গুরত্বপূর্ণ নেতাকে হাত-পা গুঁটিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।