প্রচ্ছদ জানা অজানা

কিডনির ইনফেকশন দূর করার ঘরোয়া উপায়

18
কিডনির ইনফেকশন দূর করার ঘরোয়া উপায়
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

লাইফস্টাইল ডেস্ক : আমাদের শরীরের খুব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনিতে সংক্রমণ হওয়া বড় রোগেরই আভাস দেয়। কিডনি অকেজোও হয়ে যেতে পারে এই ইনফেকশন থেকে। আর কিডনি অকেজো হয়ে গেলে পুরো শরীরই অকেজো হয়ে পড়তে পারে। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অবশ্য এই অসুখ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে কিডনির ইনফেকশন হয়। এতে কোমর ব্যথা, ঝাঁঝালো গন্ধের প্রস্রাব, জ্বর বোধ করার মতো কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টি বায়োটিক ওষুধ হয়তো সেবন করতে হতে পারে আপনার। এ সময় ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার ও ফল বেশি খেতে পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। তবে কিডনির ইনফেকশন দূর করতে কিছু ঘরোয়া চিকিৎসাও গ্রহণ করতে পারেন আপনি-

পানি: কিডনির ইনফেকশন হলে আপনাকে শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক রাখতে হবে। কারণ পানির মাধ্যমেই কিডনি থেকে টক্সিন, সংক্রামক উপাদান বের হয়ে যায়। প্রতিদিন তাই অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে আপনাকে।

রসুন: কিডনির ইনফেকশন দূর করতে রসুন বেশ কার্যকর। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রসুন রাখলে বা প্রতিদিন দুই তিন কোয়া রসুন খেলে তা কিডনি ইনফেকশনের উপসর্গ সারিয়ে তুলবে। রসুনে থাকা অ্যালিসিনে ব্যথা নিরসন, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান আছে।

হলুদ: মশলা হিসেবে হলুদ খুব উপকারী। এতে থাকা কারকিউমিনে অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান আছে। আর তা মাইক্রোব তৈরিতে বাধা দেয় যা কিডনি ইনফেকশনের জন্য দায়ী। তাই প্রতিদিনের রান্নায় হলুদ ব্যবহার করা উচিত। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে বেশি পরিমাণে হলুদ খাওয়া উল্টো কিডনিতে পাথর তৈরি করে।

আরও পড়ুন:  আমের গুণের শেষ নেই, নির্ভয়ে খান এই শর্তগুলো মেনে

আদা: কিডনির ইনফেকশন দূর করতে আদাও বেশ কার্যকর। এতে থাকা জিনজেরোলস ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। তাই প্রতিদিন আদা মেশানো চা পান করতে পারেন অথবা কয়েক টুকরো আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। তবে দিনে ৪ গ্রামের বেশি আদা খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা গলব্লাডার স্টোনের রোগীদের আদা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

আপেল: আপেলে থাকা এসিড কিডনিতে এসিডের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে, এতে কিডনিতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না। এছাড়া সংক্রমণের কারণে কোমর বা পেটে ব্যথা দূর করে আপেল। তাই কিডনির ইনফেকশন হলে দিনে দুটি বা একটি আপেল খেতে পারেন অথবা জুস করে খান।

হারবাল চা: কিডনির ইনফেকশন দূর করতে বেশ কার্যকর হারবাল চা। ক্যামোমাইল টি, হিবিসকাস টি, গ্রিন টি কিডনির অন্য রোগও সারিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।

আপেল সিডার ভিনেগার: ম্যালিক এসিড ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে আপেল সিডার ভিনেগারে। তাই এটি কিডনির ইনফেকশন দূর করতে পারে। ইউরিনারি ব্লাডার ইনফেকশনও দূর করে এটি। কিডনির ইনফেকশনের ব্যথা থাকলে প্রতিদিন ২ চামচ এই ভিনেগার এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করতে পারেন। তবে বেশি মাত্রায় এই ভিনেগার খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়তে পারে।

অ্যালোভেরা: কিডনির রোগ নিরাময়ে অ্যালোভেরা ভালো কার্যকর। শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় অ্যালোভেরা। তাই দিনে একবার অ্যালোভেরা জুস পান করতে পারেন। এক্ষেত্রে অ্যালোভেরার নির্যাস নিয়ে দুই গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে মিক্সারে মিক্স করে পান করুন। এর সঙ্গে লেবুর রসও যোগ করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে সব সময় ও বেশি পরিমাণে অ্যালোভেরা খেলে তা উল্টো কিডনি ড্যামেজ করে দিতে পারে।

আরও পড়ুন:  একটানা ৭ দিন ডাবের পানি খেলে কী হয়

বেকিং সোডা: কিডনিতে বাইকার্বোনেট লেভেল বাড়িয়ে দেয় বেকিং সোডা, এর ফলে কিডনির কার্যকারিতা বেড়ে যায়। বেকিং সোডা কিডনি থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দেয় বলেই ধারণা করা হয়। কিডনির ইনফেকশন হলে দিনে একবার এক গ্লাস পানির সঙ্গে আধা চামচ বা এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করুন। তবে খেয়াল রাখতে হবে বেকিং সোডা বেশি গ্রহণ করলে ডিহাইড্রেশন এমনকি কিডনি বিকল হতে পারে।

কিডনির ইনফেকশনে সতর্কতা:* অ্যালকোহল ও কফি পান থেকে বিরত থাকতে হবে।* সিনথেটিক আন্ডারওয়ার ও আঁটসাঁট কাপড় পরবেন না।* কিডনির ইনফেকশনে হলে ফসফরাস সমৃদ্ধ খাবার- দুধ, খাদ্যশস্য, বাদাম, চকোলেট, শিম, ডাল, মাংস এসব কম খাওয়া উচিত।* কিডনির ইনফেকশন বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা দিলে বা কোমর-তলপেট ব্যথা করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

তথ্যসূত্র: বোল্ড স্কাই

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 9
    Shares