প্রচ্ছদ সম্পাদকের কলাম

ধ*র্ষককে ন*পুংসক করার আইন

18
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

শিশু ও নারী ধ*র্ষণের পাশাপাশি ছেলে শিশুদের উপর বলা*ৎকার অনেকটাই মহামারী আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিন পত্রিকা আর সোশ্যাল মিডিয়ায় যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেশে মেয়েশিশু আর নারী নি*র্যাতন চরম আকারে বেড়ে গেছে। অনেকে বলছেন মানসিক অসুস্থ মানুষের সংখ্যা চরম আকারে বেড়ে চলেছে দেশে। বিশ্ব, গ্রাম তথা গোটা দেশে এখন এক একটি ঘন বসতির গ্রাম, যারা একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠভাবে থাকে। তাই আইটি’র এই যুগে অ*পকর্ম করে আগের মতো আর লুকানো সম্ভব হচ্ছে না। যেখানেই যা ঘটছে তা সাথে সাথেই চলে আসছে মিডিয়ায়, জানছে মানুষ, জানতে পারছেন সবাই কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তৈরি হচ্ছে জনমত, প্রচণ্ড ঘৃ*ণা দেশের মানুষ, প্রশাসন ও সরকারের প্রতি।

স্কুল, মাদ্রাসা, বাসা প্রায় সবখানেই শিশু ও নারী শিশু ধ*র্ষণের পাশাপাশি ছেলে শিশুদের উপর হচ্ছে বলা*ৎকার। এতে পুরো বাঙালি জাতি ক*লঙ্কিত হচ্ছে। নানাবিধ কারণে এটা হচ্ছে। কারণ অনুসন্ধানে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও ধ*র্ষকদের কঠিন শাস্তির ব্যাপারে কিছু কু*ৎসিত মানসিকতার মানুষ ছাড়া সবাই একমত।

বাংলাদেশের মতো দেশ যেখানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় অন্যতম নেতা, স্পিকার আর সংসদের বাইরের প্রধান শক্তিশালী বিরোধীদলের নেতাও মহিলা। সেই দেশে নারী, মহিলা ও শিশুরা ধ*র্ষিত হয় অহরহ, তাও মিডিয়ায় খবর প্রকাশ পায়। সেই দেশে তেমন কোনো কার্যকর আইন নেই, যা আছে নেই তার প্রয়োগ। কি অভাগা দেশের মানুষ আমরা! আমরা শুধুই দৃশ্যমান উন্নতির জন্য কসরত করছি, দেশের আপামর জনগণের উন্নতির আশায়।

ধ*র্ষণ বন্ধ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আইন-কানুন রয়েছে। কোনো কোনো দেশে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃ*ত্যুদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে শিশু ধ*র্ষণ রুখতে এক ব্যতিক্রমী আইন পাস করা হয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে, ১৩ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়েকে ধ*র্ষণ করলে ধ*র্ষককে ইনজেকশন দিয়ে বা ওষুধের মাধ্যমে ন*পুংসক করে দেওয়া হবে।

আইনটি মূলত শিশুদের ধ*র্ষণের হাত থেকে বাঁচাতেই করা হয়েছে। এই ইনজেকশন একবার পুশ করলে ধ*র্ষকের আর কারো সঙ্গে শা*রীরিক সম্পর্ক স্থানের সামর্থ্য থাকবে না। তাকে সারাজীবন এই পাপের শা*স্তি বয়ে বেড়াতে হবে। আইন অনুযায়ী, কোনো অ*পরাধী যদি জেলে থাকেন, তাকে তখন ইনজেকশন দেওয়া হবে না। তবে প্যারোলে ছাড়া পাওয়ার পর তার শরীরে এটি পুশ করা হবে। আইনটিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো কারণে ধ*র্ষক যদি ইনজেকশন নিতে রাজি না হন, তাহলে আ*জীবন তাকে জে*লেই থাকতে হবে ৷ কখনোই বাইরে আসতে পারবেন না।

এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় যৌ*ন অ*পরাধ পুরোপুরি নির্মূল হতে পারে বলে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো মনে করেন। সম্প্রতি বিবিসি বাংলা এমন একটা খবর দিয়েছে।

বাংলাদেশে যেমন সবসময় খু*নি, স*ন্ত্রাসী ও টাকাওয়ালা জঘন্য অ*পরাধীদের পক্ষ নেয়,  মানবাধিকার কর্মীরা ঠিক একইভাবে ইন্দোনেশিয়ায় মানবাধিকার কর্মীরা ধ*র্ষকদের পক্ষ নিয়েছিল। তাই সে দেশের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মানবাধিকারকে সম্মান করে, তবে যেন নি*র্যাতনকারীদের শাস্তির বিষয়ে কোন আপোষ হতে পারে না’। ইন্দোনেশিয়ায় ১৪ বছর বয়সী এস কন্যাশিশুকে গণধ*র্ষণ ও হত্যার পরে ২০১৬ সালে মেয়েশিশু নি*র্যাতনকারীদের রা*সায়নিকভাবে ন*পুংসক করার একটা আইন পাশ করে। যদিও তাদের সংসদে এটা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিলো। কিন্তু এই ঘটনার পরে ইন্দোনেশিয়ায় নারী ও শিশু নি*র্যাতনের হার অনেক কমে গেছে।

আমাদের মতো দেশে ধ*র্ষক ও তাদের সহযোগীরা ধ*র্ষণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তাদের অ*পকর্মকে বৈধ করতে নানা কারণ দেখান, সেখানে প্রয়োজনে ধর্মকে ব্যবহার করে। পোশাক নিয়ে কথা বলে তাদের অ*পকর্মকে বৈধতা দিতে চায়। দেশটাকে তারা ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’র যুগে নিয়ে যেতে চায়। ইসলামে চু*রি-ডা*কাতি-ম*দ্যপান-খু*ন-জ*খম-মা*নহানি-জেনা (এগুলো হুদুদ মা*মলা) যার প্রমাণ চারজন পুরুষ সাক্ষী লাগে, নারী সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া ‘হুদুদ মা*মলায় পারিপার্শ্বিক প্রমাণ চলিবে না।’ (চাক্ষুষ সাক্ষী থাকতে হবে)। ফলে ইসলামী আইনে বাংলাদেশে ধ*র্ষণের বিচার সম্ভব নয়।

জানিনা আমাদের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় বড় নেত্রী, স্পিকার আর ক্ষমতার বাইরে থাকা প্রধান শক্তিশালী বিরোধীদলের নেতা এটা নিয়ে কতটা চিন্তিত। মিডিয়ার খবর তাঁদের কাছে নিয়মিত পৌঁছে কি না। নারীর ক্ষমতায়ন যে সরকার ও দেশের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা সেই দেশে নারী ও শিশুদের ধ*র্ষণ বলা*ৎকারের মত চরম অ*ন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা করার কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না। এই সব পশুদের লা*লসায় লাগাম দিতে ফিলিপাইনের মতো এ*নকাউন্টার বা ক্র*সফায়ার দিতে আমাদের দেশের একটা উচ্চশ্রেণীর খুব আপত্তি। আমাদের দেশের মহামান্য আদালত বিচার বহির্ভূত হ*ত্যাকাণ্ডে (এ*নকাউন্টার নয়) তাইতো কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ আওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক বলতে বাধ্য হয়েছেন আমরা বিচার বহির্ভূত হ*ত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না। কিন্তু দেশে যা হচ্ছে তা এ*নকাউন্টার।

এমতাবস্থায় যুক্তরাজ্য বা ইন্দোনেশিয়ার মতো ধ*র্ষকদের রাসায়নিকভাবে ন*পুংসক করার একটা আইন পাশ করার কথা সরকার ও বিরোধীদলের অনেকেই সিরিয়াসলি চিন্তা করছেন বলে সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে। আমরা শুধুই দৃশ্যমান উন্নতির জন্য দিন-রাত কসরত করছি, দেশের আপামর জনগণের উন্নতির আশায়। আমাদের জিডিপি উঠে দাঁড়িয়েছে কম বেশী ৭ এর উপরে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের মানসিকতার বা নৈতিকতার উন্নতি না হলে এই টাকা দিয়ে কি হবে? কি হবে উন্নত দেশ দিয়ে যদি দেশের মানুষের জীবন না বাঁচে, যদি সম্মানের সঙ্গে না বাঁচা যায়! যদি আমাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানেরা সম্মানের সঙ্গে বেড়ে উঠতে না পারে!

বাংলা ইনসাইডার

সর্বশেষ আপডেট