গজনি দখল করে কাবুলের দিকে এগোচ্ছে তালেবান

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় লোগার প্রদেশের রাজধানী পুলি-ই-আলিমও দখল করেছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। এর মাধ্যমে কাবুলের ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে গোষ্ঠীটি।

পুলি-ই-আলিমসহ শুক্রবার তিনটি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। অন্য শহর দুটি হলো দক্ষিণের হেলমান্দ প্রদেশের লস্কর গাহ ও জাবুল প্রদেশের কালাত।

এর আগে বৃহস্পতিবার গজনি দখলের মাধ্যমে রাজধানী কাবুলের দেড় শ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছায় তালেবান যোদ্ধারা। একই দিন দখলে নেয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কান্দাহার ও হেরাত শহর।

গত ৯ দিনে ১৫টি প্রাদেশিক রাজধানী দখল করেছে তালেবান। এ নিয়ে দেশের ৩৪টি প্রাদেশিক রাজধানীর প্রায় অর্ধেকই এখন ওই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিরাপত্তাহীনতায় তড়িঘড়ি রাজধানী ছাড়ছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। আফগানিস্তানে অবস্থানরত আমেরিকান কূটনীতিক ও নাগরিকদের দেশে ফিরতে সহযোগিতা করতে স্বল্প সময়ের জন্য কাবুলে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের তিন হাজার সেনার প্রথম দলটি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি তালেবানের সাম্প্রতিক আগ্রাসনে জানিয়েছেন ‘গভীর উদ্বেগ’। কিন্তু গোষ্ঠীটি খুব দ্রুত কাবুল দখল করবে বলে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ৩০ দিনের মধ্যে তালেবান যোদ্ধারা কাবুল দখল করে নিতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ২০ বছর ধরে আফগান সরকারকে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলছেন, আফগানদের দায়িত্ব এখন সরকারকে নিতে হবে। তালেবানের হাতে সরকারের পতনের আশঙ্কাকে এখন দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের কথাবার্তায় এমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে। তার কথায় এটা স্পষ্ট যে, কাবুল নিয়ে উৎসাহে ভাটা পড়েছে ওয়াশিংটনের। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে কোনো অনুশোচনা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এটা পরিস্কার যে, তারা আফগানিস্তান সংকটকে আর আন্তর্জাতিক সমস্যা মনে করছেন না।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের চরম এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইমরান খান বলেছেন, এ ‘বিশৃঙ্খলা’ সামলাতেই তার দেশকে পাশে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কাবুলের বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান কোনো পক্ষেই অবস্থান নেয়নি। তার ভাষ্য, এ মুহূর্তে দেশটিতে রাজনৈতিক সমাধান খুবই কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০ বছর ধরে সংকট সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুফল আসেনি। এখন শুধু জঞ্জাল পরিষ্কার করতেই ইসলামাবাদের কথা মনে পড়ছে ওয়াশিংটনের।

Leave a Comment