‘মাশরাফি চুপ কেন, জবাব চাই’..’ই-অরেঞ্জের দুর্নীতি মানি না মানবো না’

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

অনেকের দাবি এই ক্রিকেটারের কথা শুনে প্রতিষ্ঠানটি থেকে পণ্য কেনার জন্য টাকা দিয়েছেন তারা।

এদিকে, ডেলিভারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু না করা পর্যন্ত অফিস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে অনলাইন শপ ই-অরেঞ্জ। এর পরই ই-অরেঞ্জের গুলশান কার্যালয়ের সামনে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকরা বিক্ষোভ করছেন। তারা বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাংসদ মাশরাফির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন।

তারা বলছেন, আমাদের টাকা আমাদের টাকা দিতে হবে দিতে হবে, মাশরাফি চুপ কেন, জবাব চাই জবাব চাই। ইঅরেঞ্জের দুর্নীতি মানি না মানবো না।

তবে ই-অরেঞ্জ ফেসবুকে ইতমধ্যে জানিয়েছে, মাশরাফির সঙ্গে এখন কোনও সম্পর্ক নেই তাদের।

ই-অরেঞ্জ তাদের অফিশিয়াল ফেসবুকে লিখেছেন , ‘ইঅরেঞ্জ.সপ এর সকল সম্মানিত গ্রাহকদের জানানো যাচ্ছে যে, ইঅরেঞ্জ.সপ এর সাথে পহেলা জুলাই, ২০২১ হতে জনাব মাশরাফি বিন মুর্তজার সাথে চুক্তি শেষ হয়েছে। তাই আমাদের অফিসিয়াল কোন বিষয়ে তিনি কোনোভাবেই অবগত নয় এবং তিনি অফিসিয়াল ভাবে কোন কিছুই আপডেট দিতে পারবেন না। আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি তাদের কাছে যারা পন্য অর্ডার করেছেন, কিন্তু এখনো পন্য হাতে পাননি।’

দ্রুত পণ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি লিখেছে, ‘আশা করি আমরা দ্রুত এই সমস্যা গুলোর সমাধান খুঁজে বের করবো এবং আপনাদের পণ্য আপনাদের বুঝিয়ে দিতে পারবো। আর যেহেতু জনাব মাশরাফি বিন মুর্তজা আমাদের সাথে আর চুক্তিবদ্ধ নেই, সেহেতু সবার কাছে অনুরোধ রইল এই বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ না করার জন্য।’

এদিকে ই-অরেঞ্জ নামের এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে মাশরাফিকে অভিযুক্ত করা হলেও এখন অবধি এই বিষয়ে মাশরাফির কোন বক্তব্য আসেনি গণমাধ্যমে ।

তবে এর আগে গত মাসে (১ জুন ২০২১) তারিখে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি অন্য একতি ই-কমার্স সাইটের সাথে নিজের সম্পর্ক নেই বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন, এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেড নামের এক মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির শুভেচ্ছা দূত থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাংসদ ও বাংলাদেশ ক্রকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ই-কমার্সের নামে প্রতারণা ও এমএলএম ব্যাবসার বিষয়টি জানতে পেরে এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি বলেও জানান।

পোস্টে তিনি জানান, এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেড প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আমাকে যে ধারণা দেওয়া হয়েছিলো তা সঠিক নয়। তাই দুই বছরের চুক্তি থাকলেও সবকিছু জানার পর দুই মাসের মধ্যেই আমি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরে তিনি সবাইকে বিভ্রান্ত না হতেও অনুরোধ করেন।

পাঠকদের জন্য মাশরাফির সেই  স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হল- 

‘গত এপ্রিলে আমি ‘SPC GROUP’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম।

তাদের সঙ্গে আমার চুক্তি ছিল, ‘শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রচারে আমার ছবি ও ধারণকৃত ভিডিও ব্যবহার করতে পারবে। বিনিময়ে তারা নড়াইলে ১০০টি উন্নতমানের সিসিটিভি স্থাপনসহ সামাজিক উন্নয়নের কাজ করবে। কিন্তু সম্প্রতি আমি জানতে পেরেছি, তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যে ধারণা আমাকে দেওয়া হয়েছিলো, তাদের ব্যবসার ধরণ তা নয়।’

‘দুই বছরের চুক্তি থাকলেও দুই মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্কে জানার পরই আমি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যেই আমি তাদেরকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি, আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি শেষ করার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছি। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমার নাম বা ছবি দেখে বিভ্রান্ত হয়ে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে না জড়াতে।’

জানা যায়, এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের প্রধানের নাম আল আমিন প্রধান। গত বছরের নভেম্বরে ই-কমার্সের নামে প্রতারণার মাধ্যমে ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আলামিন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। ওইসময় এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ছয় ব্যক্তিও গ্রেফতার হয়েছিলেন।

একসময় ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডে সক্রিয় ছিলেন আল আমিন। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি একই ব্যবসাপদ্ধতি অনুসরণ করে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা শুরু করেন। মাত্র ১০ মাস সময়ের মধ্যেই উচ্চ কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে ২২ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৮ সদস্যের আইডি থেকে প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আল আমিনসহ বাকি সদস্যরা।

Leave a Comment