আসিফ নজরুলকে গণপিটুনি দিয়ে বিতাড়িত করা হবে: লেখক ভট্টাচার্য

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল শিক্ষক নামের কলঙ্ক। গণপিটুনি দিয়ে আসিফ নজরুল গংদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি থেকে বিতাড়িত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘তিনি (আসিফ নজরুল) এক বক্তৃতায় বলেছেন, কেউ শিবির করলে কী হয়েছে? শিবির হলেই তাকে মারতে হবে? আমরা বলতে চাই, কোনো ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে না। শিবির করলেই তাকে মারতে হবে।’

বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে কালো পতাকা মিছিল ও একমিনিট নীরবতা পালন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

মধুর ক্যান্টিনে একমিনিট নীরবতা পালন শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

এসময় লেখক ভট্টচার্য বলেন, ‘শিক্ষক জাতির বিবেক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে আমরা দেশপ্রেম, প্রগতিশীলতার চর্চা শিখেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই অগণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্রলীগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাজপথে থাকেন। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল শিক্ষক নামের কলঙ্ক। তিনি বিভিন্ন সময় জামায়াত-শিবির এবং জঙ্গিবাহিনী নিয়ে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেন। তালেবানি আদর্শপুষ্ট বিএনপি-জামায়াতের দালালি করার জন্য এই শিক্ষক ফেসবুকে দুঃসাহস দেখিয়েছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে এই আসিফ নজরুলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করার ব্যবস্থা করুন। আপনারা যদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তাহলে আমরাই দায়িত্ব হাতে তুলে নিব। আমরা জানি কীভাবে এদের শায়েস্তা করতে হয়। এর থেকে অনেক বড় রাঘব-বোয়ালরা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। সুতরাং দুঃসাহস দেখানোর কোনো অবকাশ নেই। আমরাই তাদের রুখে দাঁড়াবো।’

সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পর থেকে আমরা দেখেছি এই আগস্ট মাস আসলেই স্বাধীনতা বিরোধী, রাষ্ট্রদ্রোহী ও বিদেশি এজেন্টদের তৎপরতা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

‘২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলার সঙ্গে জড়িতদের নির্মূল করার জন্য তৎকালীন প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তৎকালীন প্রশাসন বাংলা ভাইকে মিডিয়ার সৃষ্টি বলে হাস্যরস করেছিল। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের মাটি থেকে জঙ্গি গোষ্ঠীর মূলোৎপাটন সম্ভব হয়েছিল।’

সমাবেশে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আপনারা জানেন ২০০৫ সালের এই দিনে বিএনপি জোট সরকারের আমলে সারাদেশের প্রত্যেকটি জায়গায় একযোগে বোমা হামলা করেছিল জেএমবি ও জঙ্গিগোষ্ঠীরা। আজকে আমরা সেই দিনের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে কালো পতাকা মিছিল করেছি। জঙ্গিরা কেউ বাংলাদেশের জনগণ নয়। তাদের বাড়ি পাকিস্তান, তারা তালেবানের বন্ধু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে উদ্দেশ্য করে জয় বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের সম্মান করি। কিন্তু আপনি বারবার সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য বাসায় বসে ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দেন। আপনার যদি পাকিস্তানে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে পাসপোর্ট করে পাকিস্তান চলে যান। দেশের উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে নুরু গং,শিবির গং ও জঙ্গিগোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নেন তাহলে মনে রাখবেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ৫০ লাখ নেতাকর্মীর সংগঠন। বাংলাদেশে অবস্থান করে দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মেনে নেবে না। আমরা যদি ধাওয়া করি তাহলে পাকিস্তান পালানোর জায়গা পাবেন না।’

Leave a Comment