তিস্তার ভাঙনে জমি-বাড়ি নদীগর্ভে, পানিবন্দি ৪ হাজার পরিবার

ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারতের গজল ডোবা তিস্তা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে শুক্রবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬ টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার এবং রংপুরের গঙ্গাচড়া পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সকাল ৯ টায় পানি কিছুটা কমে ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, নীলফামারীর ডালিয়া ও রংপুরের গঙ্গাচড়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনার চরের ৪০ একর ফসলি জমি, ৫০টি ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পশ্চিম বিনবিনার পাকার মাথা এলাকার কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। আর তিন ফুট রাস্তা ভাঙলেই নদী লোকালয়ে ঢুকে ফসলি জমি, ঘর-বাড়িতে হানা দেবে।

এতে করে পুরো বিনাবিনার চর গ্রামের ফসলি জমি ও শত শত ঘরবাড়ি তিস্তা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে তাদের বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিয়েছে। এদিকে নদী ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করলেও তাতে কাজের কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ভুট্টু মিয়া বলেন, দফায় দফায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদী ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ একর ফসলি জমি এবং অর্ধ শতাধিক বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তবিবুর রহমান জানান, বিনাবিনার চরের ভাঙনরোধে যা বরাদ্দ ছিল সেই অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তারপরেও ভাঙনরোধ করা  যাচ্ছে না। এর মধ্যে নতুন করে কোনও বরাদ্দ পাওয়া না গেলে শত শত বাড়ি-ঘর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গঙ্গাচড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রাম দুই থেকে তিন ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের গ্রামসহ উপজেলার ৩৫টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারিভাবে বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য ১০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, চরইচলী, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, চর মটুকপুর ,বিনবিনা এলাকায় প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাড়িঘরে পানি উঠে যাওয়ায় বিনবিনা এলাকায় কিছু লোক গবাদিপশু, বাড়ির আসবাবপত্রসহ রাস্তায় কিংবা উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বাড়ি-ঘরে রান্না করার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় শতাধিক পরিবার শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

পানি বৃদ্ধি ও নদী ভাঙনের বিষয়ে কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু বলেন, ইউনিয়নের চিলাখাল, উত্তর চিলাখাল, মটুকপুর, বিনবিনা মাঝের চর, সাউদপাড়া ও বাবুরটারি বাঁধেরপাড়, বিনবিনা এলাকায় এক হাজার ৩০০ পরিবার পানিবন্দি। ইতোমধ্যে অনেক ফসলি জমি ও বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পানিবন্দি মানুষদের জরুরি ভিত্তিতে খাবার সরবরাহ করা প্রয়োজন। অনেকেই অনাহারে আছে বলে জানান তিনি।

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ইউনিয়নের শংকরদহ, ইচলি, জয়রামওঝা ও বাগেরহাট এলাকায় এক হাজার এবং নোহালী ইউনিয়নের ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়াও উপজেলার কোলকোন্দ. আলমবিদিতর, মর্নেয়া , সদর ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষ মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

Leave a Comment