ডাক্তার আমাকে বলেছে ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যেতে : পাপন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের একাদশ নির্বাচন থেকে শুরু করে টসের সিদ্ধান্ত- সবকিছুতেই বোর্ডপ্রধান নাজমুল হাসান পাপনের আগ্রহ অনেক বেশি। সংবাদমাধ্যমে খোলাখুলিই এ বিষয়ে অনেকবার কথা বলেছেন তিনি।

এমনকি দলের সিদ্ধান্ত মনঃপুত না হলে সেই সমালোচনাও প্রকাশ্যেই করে থাকেন বিসিবি সভাপতি। কিন্তু নাজমুল হাসান পাপনের চিকিৎসকের পরামর্শ হলো, তিনি যেন ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যান। কেননা এটি তার অনেক বেশি সময় নিয়ে নিচ্ছে।

ক্রিকেট নিয়ে নিজের আবেগ-প্রবণতার কথা জানিয়ে পাপন বলেন, ‘আমার একটা খারাপ দিক হচ্ছে হারলে হারটা আমি মেনে নিতে পারি না। বাংলাদেশ হারলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, হারলে আমার বউ-বাচ্চা সামনে আসে না। ডাক্তার আমাকে বারবার বলেছে ক্রিকেট থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দূরে সরে যেতে।’

বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতা বা পরাজয় মেনে নিতে পারেন না জানিয়ে গণমাধ্যমের সামনে পাপন বলেন, ‘আমার মত অনেকেই আছে যারা হার মেনে নিতে পারে না। ক্রিকেট আমার এত বেশি সময় নিয়ে নিচ্ছে যে ধারণা আগে আমার ছিল না। মাঝখানে ১ বছর কিন্তু আমি কিছুতে ছিলাম না, ভালোই ছিলাম। আবার যখন আগের মত হলাম তখন দেখলাম এটা অনেক সময় নিয়ে নিচ্ছে। আপনারা অনেকেই কিন্তু আমাদের মত আছেন, হার মানতে পারেন না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে ৪-১ এ জিতলাম অনেকে ভাবছে একটা হারলাম কেন। এই হল অবস্থা, এটা আমাদের সবারই। কি করব এখন, ক্রিকেট এমন একটা জায়গায় এসেছে…’

ক্রিকেটে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন বলে মনে করছেন ২০১২ সাল থেকে বিসিবি প্রধানের দায়িত্ব পালন করা পাপন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটে অনেক সময় দিলাম। আমাদের বোর্ড থেকে জালাল ভাই গেল নিউজিল্যান্ড, ববি ভাই গেলো জিম্বাবুয়ে। তারা জানেন, অবাক হয়ে গেছেন। ভোর থেকে তো খেলা দেখেছিই, তাদের ওখানে ৭ টা বাজলে ফোন দিয়েছি, ব্রেকফাস্টের আগে সবার সাথে কথা বলা, তারপর টিম নিয়ে কথা বলা। আসলে ক্রিকেট ইজ টেকিং টু মাচ টাইম।’

আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে ভিন্নতা দেখা যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেন, ‘আসলে এবার বোর্ড মিটিংয়ে ১ তারিখ বা ২ তারিখ যখনই হয় সেদিন একটু ধারণা পাবেন আপনারা ইলেকশন নিয়ে, এটাতে কোনো সন্দেহ নেই। এবারের ইলেকশনটা একটু আলাদা হবে। অন্যান্যবারের মতো নাও হতে পারে। আশা করি এটা এক্সেপ্টেড হবে, যেমনটা আমি প্রপোজ করেছি।’

Leave a Comment