ময়মনসিংহ নগরের একটি হোটেলকক্ষ থেকে এক সোনা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ময়মনসিংহ নগরের একটি হোটেলকক্ষ থেকে এক সোনা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কক্ষটি থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, চিরকুটটি ব্যবসায়ীর। এতে তিনি মৃত্যুর জন্য দায়ী কয়েকজনের নাম লিখে গেছেন।

ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিকুল ইসলাম বলেন, হোটেলকক্ষের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমের লাশ উদ্ধারের পর তাঁর পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীর নাম জাহাঙ্গীর আলম (৩৮)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের সোনা ব্যবসায়ী ও গয়না তৈরির কারিগর। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।জাহাঙ্গীরের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার কাঁকনহাটি মহল্লায়। শহরের চরহোসেনপুর এলাকার সুলেমন ভূঁইয়া (এসবি) মার্কেটে তাঁর ‘আপন জুয়েলার্স’ নামে একটি জুয়েলারির দোকান আছে। তিনি নিজেও একজন অলংকার তৈরির কারিগর ছিলেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মুঠোফোন বন্ধ রেখে ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া এলাকার হোটেল হিলটনে অবস্থান করছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। গতকাল শনিবার মধ্যরাতের পর তাঁর ফেসবুক ঠিকানা সচল হয়। ওই সময় তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে মৃত্যুর জন্য দায়ী কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। তাঁদের মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুর রহমানের নাম আছে। হোটেলকক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটেও তাঁদের নাম আছে।

কাউন্সিলর সাইফুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, জাহাঙ্গীর তাঁর মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে জুয়েলারি ব্যবসা করতেন। মিলন নামের অলংকার তৈরির এক কারিগর জাহাঙ্গীরের কাছে ৯৪ হাজার টাকা পেতেন। সেই টাকার জিম্মাদার ছিলেন তিনি। সময়মতো টাকা পরিশোধ না করে জাহাঙ্গীর উধাও হয়ে যান। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মিলন থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন।

এর পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির ফেসবুক মেসেঞ্জারে জাহাঙ্গীর ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে এ ঘটনার জন্য তাঁকে দোষারোপ করেন।সাইফুর রহমান বলেন, এ ধরনের একটি ভিডিও তাঁর নজরে এলে গতকাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কাদের মিয়া মুঠোফোনে কাউন্সিলরের জিডি করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী জায়েদা আক্তারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এক স্বজন ফোন রিসিভ করে বলেন, তিনি (জায়েদা) এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। জাহাঙ্গীরের ভাই আঙ্গুর মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁর ভাই মনমরা অবস্থায় থাকতেন।