ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলীকে চাকরি থেকে অপসারণ

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আ হ ম আবদুল্লা হারুনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। সংস্থার সচিব করামুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক দপ্তর আদেশে এই প্রকৌশলীকে গতকাল সোমবার চাকরিচ্যুত করা হয়। আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য জানা গেছে।

দপ্তর আদেশে বলা হয়, এ কর্মকর্তার নানা কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং করপোরেশন ও জনস্বার্থবিরোধী কাজে জড়িত ছিলেন। এতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি  করপোরেশনের আর্থিক ক্ষতি ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এ জন্য তাঁকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মচারি চাকরি বিধিমালা ২০১৯–এর ৬৪ (২) বিধি অনুসারে জনস্বার্থ ও করপোরেশনের স্বার্থ রক্ষায় চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো। তিনি কেবল বিধি মোতাবেক ৯০ দিনের বেতন পাবেন।

দক্ষিণ সিটির সচিব দপ্তর সূত্র বলছে, আবদুল্লা হারুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ও একই বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাজ চালিয়ে নেওয়ার সময় অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ শেষ না করে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল দিয়েছেন। এতে করপোরেশনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ডিপোজিট ওয়ার্কের আওতায় কমলাপুর টিটিপাড়া থেকে কদমতলী পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার রেললাইনের দুই পাশে জমানো বর্জ্য, মাটি ও রাবিশ অপসারণ এবং ডাম্পিং করার কাজেও ২৮ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।

এ কাজেও তিনি অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। যেমন দরপত্রে রেললাইনের দুই পাশে মোট বর্জ্য, মাটি ও রাবিশ ধরা হয়েছিল ১ লাখ ২০ হাজার টন, যার মধ্যে বর্জ্যের পরিমাণ হবে ৫ হাজার টন। বাকি ১ লাখ ১৫ হাজার টন মাটি ও রাবিশ, যা বিক্রয়যোগ্য।

অথচ মাটি ও রাবিশ সরানো বাবদ ওই দরপত্রে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। প্রকৃতপক্ষে মাটি ও রাবিশ বিক্রয়যোগ্য হওয়ায় এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা নয়।এদিকে দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, প্রায় ১২ কোটি টাকা আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে এই প্রকৌশলীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।