প্রচ্ছদ বিশ্ব সংবাদ

কতজনকে খু'ন করেছি, পঞ্চাশের পরে তা গোনা ছেড়ে দিয়েছিলাম!

25
কতজনকে খু'ন করেছি, পঞ্চাশের পরে তা গোনা ছেড়ে দিয়েছিলাম!

পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ঠিক কতজন মানুষকে খু’ন করেছে; ভা’রতের একজন সিরিয়াল কিলার নিজেও তা জানে না। কারণ সংখ্যাটা পঞ্চাশ পেরোনোর পরে সে গোনাই ছেড়ে দিয়েছিল!

দেবেন্দ্র শর্মা নামের ওই ব্যক্তি পেশায় ডাক্তার। পু’লিশের দাবি ৬২ বছরের দেবেন্দ্র অন্তত ১০০ মানুষকে খু’ন করেছে। অবশেষে দিল্লির বাপরোলা এলাকা থেকে তাকে গ্রে’ফতার করেছে পু’লিশ।

দিল্লি পু’লিশের ডিসি (ক্রা’ইম) রাকেশ পাওয়েরিয়াকে উদ্ধৃত করে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠিক নিজের হাতে খু’ন হয়তো নয়, তবে খু’নি দলের পাণ্ডা ছিল দেবেন্দ্র। শিকার ছিল মূলত ট্যাক্সিচালক ও ট্রাকচালকেরা।

ডিসি রাকেশ দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জে দেবেন্দ্রর দলের লোকেরা যাত্রী সেজে ট্যাক্সিতে উঠত। নিরিবিলি কোনও জায়গায় ট্যাক্সি থামাত। তারপর চালককে খু’ন করে ট্যাক্সিটা নিয়ে পালাত। মৃ’তদেহটা ভাসিয়ে দেওয়া হত হাজারা খালে।

ট্যাক্সিচালকের মৃ’তদেহ খেয়ে ফেলতো খালে থাকা কুমিরের দল। আর ট্যাক্সিগুলো বেচে দেওয়া হত ২০-২২ হাজার টাকায়। এলপিজি সিলিন্ডার বোঝাই আস্ত ট্রাকও লুট হতো একইভাবে। চালককে মা’রা হতো, ডাক্তারের ভু’য়া গ্যাস এজেন্সিতে নামানো হত সিলিন্ডার। ট্রাকগুলোকে নিয়ে গিয়ে ভেঙে ফেলা হত।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, আয়ুর্বেদ ও সার্জারির ডিগ্রি রয়েছে দেবেন্দ্রর নামের পাশে। মাঝে মাঝে ক্লিনিকও চালিয়েছে। কিন্তু ডাক্তার হিসেবে সুনামের বদলে তার পরিচিতি ‘বদনামে’। দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো রাজ্যে তার নামে মোট কতগুলো মা’মলা ঝুলছে, পু’লিশও ঠিক জানে না। খু’ন, অ’পহ’রণ, কিডনি পাচার চক্রের সদস্য, ভুয়ো এলপিজি এজেন্সির ব্যবসা— অ’ভিযোগ অজস্র। তেমনই এক খু’নের মা’মলায় গত ১৬ বছর ধরে সে যাব’জ্জীবন জে’ল খাটছিল জয়পুরের সেন্ট্রাল জে’লে।

আরও পড়ুন:  স্কুলের হোস্টেলের মধ্যে সন্তানের জন্ম দিলেন এক ছাত্রী!

গত জানুয়ারিতে ২০ দিনের প্যারোলে বেরিয়ে পু’লিশের নাগালের বাইরে চলে যায় দেবেন্দ্র। মঙ্গলবার দিল্লির বাপরৌলা এলাকা থেকে ‘ফেরার আ’সামি’ দেবেন্দ্রকে গ্রে’ফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের টেবিলে আনা হয়েছিল রাতে। সেই পর্ব শেষ হতে হতে ভোর। ঠান্ডা মা’থায়, ‘ত’দন্তকারীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা’ করেছে সে। নিজের অ’প’রাধের কথা বলতে গিয় বলেছেন, ‘কত জনকে মে’রেছি, পঞ্চাশের পরে তা গোনা ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

দেবেন্দ্রের প্রথম স্ত্রী’ ও সন্তানেরা তার সঙ্গে স’ম্পর্ক চুকিয়ে দিয়েছিলেন প্রায় ১৬ বছর আগে। পু’লিশ জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে এসে প্রথমে মোহন গার্ডেনে এক পরিচিতের বাড়িতে উঠেছিল দেবেন্দ্র। তারপর আত্মীয়া এক বিধবা নারীকে বিয়ে করে থাকতে শুরু করে বাপরৌলায়। দেবেন্দ্রর দাবি, নতুন করে জীবন শুরুর চেষ্টা করছিল সে। শুরু করেছিল জমি-বাড়ির কারবার। পু’লিশের দাবি, দেবেন্দ্রের অন্ধকার জগতের খবর তার দ্বিতীয়া স্ত্রী’ জানতেন।

আলিগড়ের পুরেনি গ্রামে দেবেন্দ্রের আদি বাড়ি। বিএএমএস ডিগ্রি বিহারের সিওয়ানের। ১৯৮৪ সালে জয়পুরে গিয়ে সে একটা ক্লিনিক খোলে। কয়েক বছর পর ১৯৯২-এ গ্যাসের ডিলারশিপ নিতে গিয়ে ১১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ঠকে যায় দেবেন্দ্র। সেই বিপুল ক্ষতি সামলে নিতেই তিন বছর পরে আলিগড়ে ছারা-য় নিজেই ভু’য়া এলপিজি সংস্থার ব্যবসা খুলে বসে সে। আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, সম্ভবত সেই প্রথমবার দেবেন্দ্র পা বাড়ায় অন্ধকার জগতে। ১৯৯৪ থেকে জড়িয়ে পড়ে কিডনি পাচার চক্রে। জয়পুর থেকে বল্লভগড় হয়ে গুরুগ্রাম পর্যন্ত বিছিয়ে থাকা সেই চক্রের হয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ১২৫টি বেআইনি কিডনি প্রতিস্থাপন করে দেবেন্দ্র। প্রতি অ’স্ত্রোপচারের পারিশ্রমিক ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:  স্ত্রী'র ছবি বি'কৃত, প্রতিশোধ নিতে সাম'রিক হা'মলা চালালেন কিম

এ সবের মধ্যেই আলিগড়ে বেআইনি গ্যাসের ব্যবসা ধ’রা পড়ায় দেবেন্দ্র গ্রে’ফতার হয়। তা সত্ত্বেও সে ২০০১-এ উত্তরপ্রদেশের আম’রোহায় একই ব্যবসা ফেঁদে বসে এবং আবার গ্রে’ফতার হয়। তবে দ্বিতীয় বার গ্যাসের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পরে জয়পুরের ক্লিনিকে বসতে শুরু করেছিল সে। ডাক্তারি চলেছিল টানা প্রায় দু’বছর। কিন্তু কাকপক্ষীতেও টের পায়নি, চেম্বারে বসা এই ডাক্তারই তখন আলিগড়ে ট্যাক্সি-ছিনতাইয়ের গ্যাং‌ চালাচ্ছে। তার কলকাঠিতেই খু’ন হচ্ছেন একের পর এক ট্যাক্সিচালক।

২০০৪-এ কিডনি পাচার চক্রের মা’মলায় জে’লে যায় দেবেন্দ্র। ২০০২ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত অনেকগুলো খু’নের মা’মলায় গ্রে’ফতার হয়। তার মধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয় ৬ থেকে ৭টি মা’মলায়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @banglanewsmagazine আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

  • 10
    Shares