মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম লাইভ টেলিভিশনে পুতিনকে হত্যা করার আহ্বান জানিয়েছেন

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের নিন্দা করেছে এবং মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গেলেন এক মার্কিন সিনেটর। রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে, সিনিয়র মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম লাইভ টেলিভিশনে রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনকে হত্যা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়ার জনগণের উদ্দেশে মার্কিন সিনেটরের বার্তা , ”পুতিনকে হত্যার মাধ্যমে রাশিয়ার মানুষ নিজের দেশ এবং বিশ্বের মহান সেবা করতে পারেন। আপনার বাকি জীবনটা যদি অন্ধকারে কাটাতে না চান , নিদারুণ দারিদ্র্যের মধ্যে বাকি বিশ্বের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে না চান তাহলে আপনাদেরই এগিয়ে আসতে হবে ।

 ফক্স নিউজকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে লিন্ডসে বলেছেন,”এই সমস্যা (রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধ) মেটাতে পারে একমাত্র রাশিয়ার সাধারণ মানুষ। কোনও একজন রাশিয়ান যদি পুতিনকে সরিয়ে দিতে পারেন তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” পরবর্তীতে একাধিক টুইট বার্তায় তিনি সেই আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করেন।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম , বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কংগ্রেসে কাজ করেছেন এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। দিনের শুরুতেই “যুদ্ধাপরাধ” করার জন্য রাশিয়ান রাষ্ট্রপতি এবং তার সামরিক কমান্ডারদের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। 

তিনি ইতিহাসের বিভিন্ন হত্যাকারীদের নামও টেনে আনেন নিজের কথা বোঝানোর জন্য। টুইটে লেখেন,”রাশিয়ায় কি কোনও ব্রুটাস আছে? বা তুলনামূলক ভাবে সফল কর্নেল স্টফেনবার্গ?”বিখ্যাত রোমান শাসক জুলিয়াস সিজারকে হত্যা করেন তাঁরই সেনাপ্রধান ব্রুটাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে জার্মান একাধিনায়ক হিটলারকে হত্যা করার চেষ্টা করেন তাঁর সেনাবাহিনীর এক অফিসার।

যদিও কর্নেল স্টফেনবার্গের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। সেই কারণেই লিন্ডসে কর্নেল স্টফেনবার্গ’এর কথা উল্লেখ করেছেন। রাশিয়ার জনগণের উদ্দেশে মার্কিন সিনেটরের বার্তা , ”পুতিনকে হত্যার মাধ্যমে রাশিয়ার মানুষ নিজের দেশ এবং বিশ্বের মহান সেবা করতে পারেন। আপনার বাকি জীবনটা যদি অন্ধকারে কাটাতে না চান , নিদারুণ দারিদ্র্যের মধ্যে বাকি বিশ্বের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে না চান তাহলে আপনাদেরই এগিয়ে আসতে হবে । 

ইউক্রেন বলেছে যে, গত সপ্তাহে পুতিন আক্রমণ শুরু করার পর থেকে কমপক্ষে ৩৫০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে এবং ১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এই দাবির পক্ষে ব্যাপক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মস্কো দাবি করে যে তারা বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেনি । 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ঢুকে পড়েছে পুতিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ এবং আলিশার বুরহানোভিচ উসমানভ যিনি রাশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি এবং পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র।মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ঘোষণা করেছে যে , ১৯ জন রাশিয়ান অলিগার্চ এবং তাদের পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে আমেরিকা।

 বাইডেন প্রশাসন বৃহস্পতিবার নতুন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছে, রাশিয়ান ব্যবসায়ী অলিগার্চ এবং অন্যান্যদের রাষ্ট্রপতি পুতিনের অভ্যন্তরীণ বৃত্তে অবরুদ্ধ করেছে। বাইডেন এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার নিজেদের মধ্যে কথা বলেছেন , কিন্তু ততক্ষণে রাশিয়ান বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের শহর এনারহোদারে ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্রে গোলাবর্ষণ শুরু করে দিয়েছে । এমন আশংকা তৈরি হয়েছিল যে ক্ষতিগ্রস্ত পাওয়ার স্টেশন থেকে রেডিয়েশন ছড়িয়ে পড়তে পারে ইউক্রেনে।

নিকোলাই টোকারেভ, (রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন এবং বৈদ্যুতিক পাওয়ার সাপ্লাই লাইনের জন্য বৃহত্তম নির্মাণ সংস্থার সহ-মালিক), সের্গেই চেমেজভ, (সাবেক কেজিবি এজেন্ট যিনি দীর্ঘদিন ধরে পুতিনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন) , ইগর শুভালভ, (সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং স্টেট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান) এবং ইয়েভগেনি প্রিগোজিন( একজন রাশিয়ান ব্যবসায়ী যার সাথে পুতিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে) এর ওপর নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া নেমে এসেছে।