প্রচ্ছদ গল্প সেই রাতের কথা আমি ভুলবো না ,সে জো*রপূর্বক আমার ট্রাউজারটা না*মিয়ে দিল..

সেই রাতের কথা আমি ভুলবো না ,সে জো*রপূর্বক আমার ট্রাউজারটা না*মিয়ে দিল..

নায়িকা হতে গিয়ে আজ সব থেকেও আমি একাকী

584
পড়া যাবে: 4 মিনিটে
advertisement

এসএসসি পাস করেছি মাত্র। আমার ফি*গার, দৈ*হিক গঠন, চেহারা ছিল আকর্ষণীয়। তাই স্কুলে পড়ার সময়ই বন্ধু-বান্ধবীরা মডেলিং করার কথা বলতো। কেউ কেউ ডাকতো নায়িকা বলে। এসব শুনে শুনে আমারও মনে একটু একটু করে স্বপ্ন জাগে । মডেল হবো। নায়িকা হবো। কত ভক্ত আমার অটোগ্রাফ নিয়ে লাইন ধরবে। ইস্‌ আমি দেশজুড়ে পরিচিত হবো।

advertisement

ভাবতে ভাবতে টাকা জমিয়ে একজন ফটোগ্রাফারের কাছে ফটোসেশন করি। এরপর তার অনুপ্রেরণায় বেশকিছু ম্যাগাজিনে আমার ছবি প্রকাশ হয়। কিন্তু বাসায় বাধা দিতে শুরু করেন মা। এক পর্যায়ে বাবাও রেগে যান। আমার বাবা একজন ব্যাংকার। পরিবারের একমাত্র মেয়ে আমি। কথাগুলো বলছিলেন ছদ্ম নামধারী মায়া। আসল নাম বলতে রাজি নন তিনি। ঢাকাই চলচ্চিত্রে নায়িকা হতে এসেছিলেন। প্রথমে মডেল এরপর নায়িকা হওয়ার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

মিডিয়াতে তার যাত্রা শুরু ২০০০ সালে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে মডেল হওয়ার সুবাধে বেশকিছু বন্ধুও তৈরি হয় তার। তিনি বলেন, তারা আমাকে একজন চলচ্চিত্র প্রযোজকের কাছে যেতে বলেন। সেই প্রযোজক হোটেল সোনারগাঁও ছাড়া দেখা করবেন না বলে জানান।

সেখানে যেতে মনে ভয় কাজ করে। তবুও যাই। বাসা থেকে কাউকে না বলে আমি ওই প্রযোজকের সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমাকে দেখার পর পছন্দ করে সাইনিং মানি হিসেবে বিশ হাজার টাকা দেন এবং পরের সপ্তাহে লোকেশন দেখার জন্য কক্সবাজারে যেতে বলেন। আমি তখন এইচএসসি ফাইনাল পরীক্ষাও দিয়েছি। জীবনে কেউ প্রথম এভাবে এত টাকা আমার হাতে দিলো। বুঝছিলাম না কি করব।

আরও পড়ুন:  সে কে ???? (১ম পর্ব)

কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বলেন, এরপর মাকে এক বান্ধবীর বাসায় যাবো বলে ওই প্রযোজকের সঙ্গে আমার এক বান্ধবীসহ বেরিয়ে যাই। বান্ধবী সঙ্গে যাবে বলে মনে তেমন ভয় কাজ করেনি। তবে কক্সবাজারে যাওয়ার পর ওই বান্ধবীকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেন প্রযোজকের এক বন্ধু।

সেই রা*তের কথা আমি ভুলবো না। আমাকে খাবারের মধ্যে কিছু মিশিয়ে খা*ওয়ানো হয়েছিল। আমি বুঝতে পারিনি সেদিন। জো*রপূর্বক আমার ট্রা*উজারটা না*মিয়ে দিল , এর পর আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। সেদিন আমি ব্যা*থায় কাতর হয়ে বিছানায় পড়ে ছিলাম ১ ঘণ্টা ,আমার সঙ্গে কি কি করা হয়েছে তা আর মুখে বলতে চাই না।

তারপরও ছবিতে কাজ করতে চেয়েছিলেন তিনি। মনে জেদ জন্ম নিয়েছিল। তবে শেষমেশ জানতে পারেন সেই প্রযোজক দেশের বাইরে চলে গেছেন। আরো খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, উনি মূলত কোনো ছবির প্রযোজক না। এতকিছুর পরও নায়িকা হওয়ার নে*শাটা তার মধ্যে ঠিকই ছিল। মায়া বলেন, এতকিছুর পর আরো একবার এক ছবির প্রযোজককে বিশ্বাস করেছিলাম। তিনিও ছবিতে নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:  দ্বিতীয় বা*সর ঘরে রাতে নতুন স্বামীর অপেক্ষায় আমি…

তবে সেই ছবিতে আমাকে ছোট্ট একটা চরিত্রে কাজ করতে বলেন। আমি কাজটা দুদিন করে চলে এসেছিলাম। কারণ বুঝতে পারছিলাম যে, আমাকে ঠকানো হচ্ছে। নায়িকা হওয়ার জন্য কতকিছুই না করেছি। তারপরও ছবির নায়িকা আর আমার হওয়া হয়নি। এখন আমি বিবাহিতা। আমার ঘরে দুই সন্তান রয়েছে।

আমি তাদের নিয়ে সুখেই আছি। আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। মডেল বা সিনেমার নায়িকা যারা হতে চান তাদের জন্য মায়ার পরামর্শ- এখানে অনেক ধরনের মানুষ আছে। না জেনে না বুঝে পরিবারকে না জানিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। যেমন এখন আমার কাছের কোনো বন্ধু-বান্ধব নেই। আমার সঙ্গে আমার পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। নায়িকা হতে গিয়ে আজ সব থেকেও আমি একাকী।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 1
    Share
advertisement