অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের সমান এক ড্র আদায় করলো পাকিস্তান

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ২ মাস আগে

১৭২ ওভার ব্যাটিং অথবা ৫০৬ রান- করাচিতে ড্র বা জয়ের যে কোনোটি করতে হলেই বিশ্বরেকর্ড গড়তে হতো পাকিস্তানকে। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটা ৪১৮ রানের। ‘টাইমলেস’ টেস্ট বাদ দিলে এর আগে কখনো চতুর্থ ইনিংসে এতো ওভার ব্যাটিং করে ম্যাচ বাঁচায়নি কোনো দল।

তবে করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ ব্যাটিং উপহার দিলেন বাবর আজমরা। এতে ‘জয়ের সমান’ এক ড্র আদায় করলো পাকিস্তান। অধিনায়ক বাবর খেললেন ১৯৬ রানের অসাধারণ ইনিংস। শেষ দিকে সেঞ্চুরি হাঁকালেন মোহাম্মদ রিজওয়ানও। এতে বুধবার ৪৪৩/৭ সংগ্রহ নিয়ে ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শেষ করে পাকিস্তান।

জিততে হলে গড়তে হতো রান তাড়ার রেকর্ড। কিন্তু তখন চোখ রাঙাচ্ছিল হারের শঙ্কা। পরে হাল ধরলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, তার দারুণ শতকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচিয়ে মাঠ ছাড়লো স্বাগতিকরা।রোমাঞ্চের নানা বাঁক পেরিয়ে বুধবার শেষ দিনের শেষ ওভারে এসে ড্র হলো করাচি টেস্ট। তিন টেস্টের সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচই শেষ হলো ড্রতে।

এদিন অস্ট্রেলিয়ার শেষবারের মতো ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুটা হয়েছিল বাবরের উইকেট দিয়ে।৫০০ মিনিটের ওপর ব্যাটিং করে, ৪২৫ বলে ১৯৬ রান করে লায়নকে আগ বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে ব্যাট-প্যাডে ক্যাচ তোলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বিশতক পাওয়া হয়নি, ম্যাচ ড্র করা থেকেও পাকিস্তান তখন দাঁড়িয়ে ১২.২ ওভার দূরে। এমন ইনিংসের পরও তাই হতাশই দেখাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার অভিনন্দনের মধ্য দিয়ে ফেরা বাবরকে। তখনো অবশ্য পাকিস্তানের হাতে ৫ উইকেট।

করাচিতে অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ৫৫৬ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর পাকিস্তান গুটিয়ে যায় স্রেফ ১৪৮ রানে। রেকর্ড ৪০৮ রানে এগিয়ে থেকে সফরকারীরা আবার ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংস ঘোষণা করে ২ উইকেটে ৯৭ রান নিয়ে। পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫০৬ রানের। টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তার চেয়েও ৮৮ রান বেশি করার দুরূহ চ্যালেঞ্জ। বাবর-রিজওয়ানের ব্যাটে একসময় সেই সম্ভাবনাই উঁকি দেয়। পঞ্চম দিনের শেষ ২০ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ১৩১ রান, হাতে তখনও ৬ উইকেট।

ন্যাথান লায়নের পরপর দুই বলে যখন বাবর ও ফাহিম আশরাফ বিদায় নিলেন, দিনের খেলা বাকি তখনও ১২.১ ওভার। সাজিদ খানের পর নুমান আলিকে নিয়ে দলকে ড্রয়ের পথে এগিয়ে নেন রিজওয়ান। এই কিপার-ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে অপরাজিত থাকেন ১০৪ রান করে।

বাবর ফেরার পর সেই পথে আর এগোতে পারেনি পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ৪৪৩ রান করতে পারে তারা। প্রায় দুই দিন ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জ সামলে পাকিস্তানকে জয়ের সমতুল্য ড্র এনে দেওয়ার নায়ক বাবর, পার্শ্বনায়ক আবদুল্লাহ শফিক ও রিজওয়ান। ইনিংস শুরু করতে নেমে শফিক অল্পের জন্য করতে পারেননি সেঞ্চুরি, আউট হন ৯৬ রানে।

তবে বাবরের সঙ্গে তার ২২৮ রানের জুটিই গড়ে দেয় ভিত।ম্যারাথন ইনিংস খেলার পর কিছুটা আক্ষেপ থাকার কথা বাবরেরও। টেস্ট ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে যে চতুর্থ ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডটি গড়া হলো না তার। তবে তার ক্যারিয়ার সেরা ১৯৬ রানের ইনিংসটি এখন এই তালিকায় সর্বোচ্চ।