এক ব্র্যাক কর্মীর বাড়ীতে বিয়ের দাবীতে অনশন করেছে তার প্রেমিকা

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ২ মাস আগে

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় এক ব্র্যাক কর্মীর বাড়ীতে বিয়ের দাবীতে অনশন করেছে তার প্রেমিকা। প্রেমিক রুপি প্রতারক বাড়ী না আসায় মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) রাত ৯ টায় বিষপান করে অনশন ভঙ্গ করে ওই প্রেমিকা। ঘটনাটি কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের হামরাট গ্রামে ঘটে। প্রতারক ওই প্রেমিকের নাম সাইফুল ইসলাম। সে কালুখালীর হামরাট গ্রামের লুহাই আলীর পুত্র। তার প্রেমিকা ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার নাগপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্ত নারী।

ব্র্যাক কর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন আমাদের সব ঘটনা নিস্পত্তি হয়ে গেছে। এ নিয়ে লেখার দরকার নেই। তবে ওই নারী জানায়, এ ব্যাপারে কোন সুরাহা হয়নি। আমি কোন টাকা পয়সা চাই না। সাইফুল ৮ মাস স্ত্রী হিসেবে আমার সাথে বসবাস করেছে। সে আমার সংসার ভেঙ্গেছে। আমি সাইফুলের স্ত্রীর মর্যাদা চাই।

ওই নারী জানায়, কালুখালীর বোয়ালিয়া ইউনিয়নের হামরাট গ্রামের লুহাই আলীর পুত্র সাইফুল ইসলাম ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর ব্র্যাক কর্মী হিসেবে চাকুরী করতো। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে, সাইফুল তাকে বিয়ে করতে চায়। বিয়ে না করেই বিয়ের আশ্বাসেই স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে একই বাসায় বসবাস শুরু করে। এভাবেই কেটে যায় ৮ মাস। ও্ই নারীর কাছে সাইফুল রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাটিকাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা হিসাবে পরিচয় দিয়েছিল।

গত সপ্তাহে প্রতারক সাইফুল ইসলাম হেমায়েতপুর থেকে বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যায়। তার প্রেমিকার (কথিত স্ত্রীর) সাথেও বন্ধ করে দেয় সকল প্রকার যোগাযোগ। ওই প্রেমিকা সাইফুলের খোজে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাটিকাবাড়ী গ্রামের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন। কিন্তু কোথাও এমন মানুষ পাওয়া যায় না। অবশেষে হেমায়েতপুর ব্র্যাক অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারে সাইফুল ইসলাম কালুখালীর বোয়ালিয়া ইউনিয়নের হামরাট গ্রামের লুহাই আলীর পুত্র।

পরে বিকেলে ওই বাড়ীতে এসে স্ত্রীর মর্যাদার দাবীতে অনশন করে ওই নারী। রাত ৯ টায় বাড়ীর লোকেরা মারপিট করে ওই নারীর কাছ থেকে মোবাইল ও ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় ওই নারী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। হৈ চৈ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে পাংশা হাসপাতালে ভর্তি করে।

মঙ্গলবার স্থানীয় বোয়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ও ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি জানার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইউপি সদস্য আ.করিম জানায়, চেয়ারম্যান সাহেব মোবাইল ও টাকা ফেরত দিয়ে ওই নারীর স্বাক্ষর রেখেছে। তবে এখন পর্যন্তু কোন সুরাহা হয়নি।