প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

শেখ হাসিনার কাছে যে কারণে আস্থাভাজন নন তোফায়েল

69
শেখ হাসিনার কাছে যে কারণে আস্থাভাজন নন তোফায়েল

পড়া যাবে: 2 মিনিটে

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা তোফায়েল আহমেদ দলে এবং দলের বাইরে অ’ত্যন্ত জনপ্রিয়। জননেতা হিসেবে তাঁর স্বীকৃতি রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য, কখনো তিনি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেননি, তিনি তাঁর পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করেন আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবথেকে ঘনিষ্ঠদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন।

অনেকেই মনে করতেন যে, তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টে বঙ্গবন্ধুর বিপর্যয়ের পর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৮১ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা, তারপর থেকে তোফায়েল আহমেদের গুরুত্ব আওয়ামী লীগে কমতে থাকে।

যদিও তিনি জাতীয় নেতা হিসেবে, অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে কিংবা তাঁর রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিতা বা মন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা ইত্যাদি কোনকিছু নিয়েই প্রশ্ন নেই, তারপরেও শেখ হাসিনা-তোফায়েল আহমেদ স’ম্পর্কের কোথায় যেন একটা চিড় আছে, কোথায় যেন একটা অবিশ্বা’সের জমাট র’ক্ত স’ম্পর্ককে স্বাভাবিক হতে দেয়নি। কেন এই অবস্থা?

অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, তোফায়েল আহমেদ শেখ হাসিনার কাছে আস্থাভাজন নন এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন লুকোচু’রি নেই। আওয়ামী লীগের একদম তৃণমূলের কর্মীটিও জানেন যে, তোফায়েল আহমেদ বড় নেতা, কিন্তু শেখ হাসিনার আস্থাভাজন নেতা নন। আর এই যে আস্থাভাজন নন তাঁর কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করেন যে, ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টেই তোফায়েল আহমেদ শেখ হাসিনার আস্থা হারিয়েছেন। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নি’র্মমভাবে হ’ত্যা করা হয় এবং ১৪ই আগস্ট রাত ১০ টা পর্যন্ত তোফায়েল আহমেদ জাতির পিতার সঙ্গেই ছিলেন। গণভবনে একটি অনুষ্ঠানের পরে তোফায়েল আহমেদকে বঙ্গবন্ধু ৩২ নম্বরে আসতে বলেন এবং বলেন যে, পরের দিন তাঁর সঙ্গেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন এবং ঐদিন ভোররাতে ইতিহাসের জঘন্যতম হ’ত্যাকা’ণ্ডটি ঘটে।

আরও পড়ুন:  মাহবুব কবীর মিলনের বদলি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কেন হৈচৈ?

প্রশ্ন ওঠে যে, তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন, এত ঘনিষ্ঠ থাকার পরেও কেন এই ঘটনা স’ম্পর্কে বিন্দুমাত্র জানেননি? রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে কোথায় কি ঘটছে খুঁটিনাটি সেই স’ম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া এবং নেতাকে তা অবহিত করা। কিন্তু তোফায়েল আহমেদ রাজনৈতিক সচিব হয়েও দলের ভেতর এতগুলো নেতা এমন ষড়যন্ত্র করছে তা তিনি জানতে পারেননি তা একটি দূর্ভাগ্যজনক ঘটনা বলে মনে করেন অনেকে।

দ্বিতীয়ত তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, বিশেষ করে রক্ষীবাহিনীর ঘনিষ্ঠতার কথা জানা যায়। রক্ষীবাহিনীর গঠন এবং এর নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তোফায়েল আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু তোফায়েল আহমেদ ঐ সঙ্কটের সময়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাদের ব্যবহার করে তাঁদেরকে নির্দেশনা দিতে সক্ষম কেন হননি তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মাঝে প্রশ্ন আছে, আর শেখ হাসিনার মধ্যে প্রশ্ন আছে তো বটেই।

তৃতীয়ত সকলেই জানে যে, ১৫ই আগস্টের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। আর এই জিয়াউর রহমানকেই জাতির পিতা রাষ্ট্রদূত করে বিদেশে বদলি করেছিলেন। কিন্তু পরে জিয়াউর রহমানের বদলি আদেশ বাতিল করতে যারা দেনদরবার করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। মূলত তোফায়েল আহমেদের কারণে জাতির পিতা জিয়াউর রহমানের বদলি করেননি বলে অনেকে মনে করেন। আর শেখ হাসিনার পক্ষে এটা মনে করা স্বাভাবিক যে, জিয়াউর রহমানকে যদি সেই সময় রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলি করা হতো তাহলে ষড়যন্ত্রকারীরা হয়তো বার্তাটি পেত এবং ষড়যন্ত্র হতো না। সেখানেও তোফায়েল আহমেদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

আরও পড়ুন:  মাদকমুক্ত পুলিশ গড়তে জিরো টলারেন্স: আইজিপি

তোফায়েল আহমেদ যে বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন না, তা নিয়ে কোন স’ন্দেহ নেই। এমনকি এই ষড়যন্ত্র প্রক্রিয়ার ধারেকাছেও তিনি ছিলেন না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে যে দায়িত্বশীলতা এবং দায়িত্ব পালনের কথা ছিল তা তিনি কতটুকু পালন করেছিলেন তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি প্রশ্ন আছে শেখ হাসিনার মধ্যেও। আর এই কারণে এক অজানা ব্যথা থেকে কিংবা ৭৫ এর স্মৃ’তিকাতরতা থেকেই হয়তো শেখ হাসিনার কাছে আস্থাভাজন হতে পারেননি তোফায়েল আহমেদ।

সুত্র: বাংলা ইনসাইডার

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন banglanewsmagazine আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

  • 31
    Shares