প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

দেশে এসেছে কল্লাকা*টা-ছে*লেধরা,সবাইকে সাবধান হতে বললো পুলিশ

89
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

কিছুদিন ধরে বরিশাল নগরসহ জেলা ও জেলার আশপাশের অঞ্চলগুলোতে কল্লাকা*টা কিংবা ছেলেধ*রা সংশ্লিষ্ট কিছু খবর ছড়াচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার একটিরও কোনো প্রমাণ পায়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তাই আপাতত বিষয়টি সম্পূর্ণ গু*জব বলেই দাবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। যদিও মাঠ পর্যায়ে এ নিয়ে কাজ করছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে পুলিশের একটি সূত্র জানান, এসব খবর ছড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যস্ত রেখে অন্য কোনো অ*পরাধ সংগঠিত করার পাঁয়তারা চলছে কিনা তা যেমন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তেমনি কল্লাকা*টা অর্থাৎ, গ*লা কে*টে নিয়ে যাওয়া কিংবা ছে*লেধরা আ*তঙ্ক ছড়িয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে বিদ্যালয় কিংবা কোচিংয়ে পাঠিয়ে চু*রি বা ডা*কাতি সংগঠিত হওয়ার কোনো বিষয় রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত কল্লাকা*টা কিংবা ছে*লেধরার নামে যেসব গু*জবের কথা ছড়াচ্ছে প্রতিটি জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যাওয়ার চেষ্টা করছে। বেশ কিছু স্থান থেকে এমন ঘটনায় জনতার হাতে ধ*রা পড়া নারী-পুরুষকে আ*টক করে থানায় নিয়ে এসেছে। তবে শিশু চু*রি বা এ ধরনের অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে সাম্প্রতি বরিশাল নগরের গির্জা মহল্লা এলাকা থেকে এক শিশুর কান্নাকা*টি দেখে লোকজনের সন্দেহ হলে এক নারীকে আ*টক করে জনতা। সঠিক তথ্য যাচাই করে তাকে ছেলেধ*রা বলে আখ্যা দিয়ে না*জেহাল করে পুলিশে দেওয়ার পর জানা যায় ওই নারী শিশুটির স্বজন হন।

তবে অনেকে বলছেন, এসব লোকদের গায়ে এক ধরনের সিল মারা রয়েছে, যারা শিশুদের ধরে নিয়ে মাথা কা*টে। যা নিয়ে বিদ্যালয়, হাট-বাজার, দোকানপাট, বাসাবাড়ি সবজায়গাতেই চলেছে আলোচনা। এরকম কিছু খবর নিয়ে গত চার দিনে নগরের রুপাতলী, কাউনিয়া, গির্জা মহল্লা, হিরণ নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউই চোখে কিছু দেখেননি, সবাই শুনেছেন। আবার নামে-বেনামে অনেক আইডি থেকে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের গু*জবের খবরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এই শোনা কথা নিয়েই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, তেমনি উৎ*কণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরা। এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা বলেন, ‘বরিশালে কিছু ছিঁচ*কে চো*র রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান। এমনটা হতে পারে আমাদের দৃষ্টি অন্যদিকে ব্যস্ত রেখে অন্যদিকে কোনো অ*পরাধ সংগঠিত করা কিংবা দিনে গার্ডিয়ানরা বাসা খালি রেখে ভ*য়ে বাচ্চাদের সঙ্গে স্কুলে যাবে আর এ সুযোগে বাসায় চু*রি করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, ছিঁচ*কে চো*র বা অ*পরাধীদের পুলিশকে ব্যস্ত রাখার কৌশল হতে পারে আবার গু*জবে পদ্মাসেতুর বিষয়ে কিছু থাকলে তা রাজ*নৈতিকভাবে হে*য় করার বিষয়ও থাকতে পারে। তবে গরম গরম খবর হওয়ারও বিষয় কিন্তু থাকতে পারে। মনে রাখতে হবে এরকম একটা ঘটনা ঘটলে তা কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়ে যায়।’

‘আর মাথা কে*টে নিলে সে ঘটনায় একটি হ*ত্যা মা*মলা তো দায়ের হবে। সবার সামনেই বিষয়টি তো বেরিয়ে আসবে। দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, এখন যেখানে মানুষ মঙ্গলগ্রহে যায় এরমধ্যে এ ধরনের কুসংস্কারে বিশ্বাস করা মানে মানসিক স্তরে উন্নয়ন হয়নি এটার প্রতিফলন।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘সবাই শুনেছে কিন্তু বরিশাল নগরে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আশ্বস্ত করছি এবং এ ধরনের গু*জব যাতে বিশ্বাস না করে সেজন্য বলছি। আমরা সবাইকে সতর্ক হতে বলবো কিন্তু আ*তঙ্কিত নয়। আমি সবার কাছে অনুরোধ করবো শুধু ছে*লে ধরার বিষয় নয়, কারো অ*স্বাভাবিক কোনো আচরণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করুন। কারণ আপনাদের নি*রাপত্তায় আমরা কাজ করছি।’

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি গু*জব। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে কোনো এলাকায় সন্দেহজনক নতুন লোক দেখলে পুলিশকে জানানোর জন্যও আহ্বান জানাচ্ছি।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট