বিক্রি হওয়া ১৩ মাসের শিশুকে বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল পুলিশ

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ২ মাস আগে

এক লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া ১৩ মাসের এক শিশুকে ফিরিয়ে দিল চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে উদ্ধারের পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন শিশু জোবায়েরা আক্তারকে তার মা-বাবার কোলে তুলে দেন।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রায়হানুর রহমান বলেন, হাজীগঞ্জ পৌরসভার খাটরা-বিলওয়াই মজুমদার বাড়ির বশির মজুমদারের একটি পা সড়ক ‍দুর্ঘটনায় ভেঙে যায়। পরে তাঁর পায়ে রড লাগানো হয়। টাকার সংকটে সেই রড খুলতে পারছেন না তিনি। এ জন্য তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিওর কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ঋণ করেন।

চিকিৎসা খরচ ও ঋণের টাকা জোগাতে তেরো মাস বয়সী কন্যাশিশু জোবায়েরাকে রাজধানী ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকার নিঃসন্তান ওমর ফারুকের কাছে গত সোমবার চাঁদপুরের আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন।

এসআই নিজাম উদ্দিন বলেন, ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে ডিএমপি পুলিশের সহায়তায় আজ ভোরে শিশুটিকে দত্তক নেওয়া জনৈক ওমর ফারুকের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে ওই সময় ওমর ফারুক বাসায় ছিলেন না। তাঁদের কাজের বুয়ার কাছ থেকে শিশুকে উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ জোবায়ের সৈয়দকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন। হাজীগঞ্জ থানা–পুলিশ ওই নির্দেশ পেয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটি উদ্ধার করে তার মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দেয়।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জোবায়ের সৈয়দ বলেন, ‘আমরা শিশু জোবায়েরাকে উদ্ধার করে তার মা–বাবার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি। তবে ওই পরিবার শিশুটিকে অভাবের তাড়নায় বিক্রি করেছে বা দত্তক দিয়েছে, সেটা আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।’শিশুর বাবা বশির মজুমদার বলেন, ‘আমরা নিরুপায় হয়ে সন্তানকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছিলাম। তবে পুলিশ জেনে সেই সন্তানকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’