স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া নিয়ে শেষ পর্যন্ত শিক্ষকরাও হাতাহাতিতে জড়ালেন

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ২ মাস আগে

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া নিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দুটি সংগঠনের সদস্যরা। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতিসৌধ বেদিতে এ ঘটনা ঘটে। দুটি সংগঠন হলো বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট। এর আগেও বিভিন্ন দিবসে মারামারিতে জড়িয়েছিলেন সংগঠন দুটির সদস্যরা।

এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের সামনে মানববন্ধন করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের নেতারা। বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার জোদ্দার বলেন, ‘ঘটনা যা ঘটেছে তা খুবই বিব্রতকর। আমি ব্যথিত। শিক্ষকদের মধ্যে এমন হওয়া উচিত নয়। এতে শিক্ষার্থীদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতারা পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। অনেকের কাছে ভিডিও আছে, সেগুলো দেখলেই বোঝা যাবে কী হয়েছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতিসৌধের বেদিতে প্রশাসনের পর একে একে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলো।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ বেদিতে ফুল দেওয়ার পর জিয়া পরিষদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে শিক্ষক ইউনিটের সদস্যরা বেদির দিকে অগ্রসর হন। তখন সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম তাঁদের বাধা দেন। এরপরও তাঁরা বেদিতে উঠে পড়লে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আরফিনসহ সংগঠনের নেতারা তাঁদের ওপর চড়াও হন।

হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে শিক্ষক ইউনিটের পুষ্পস্তবক ভেঙে ফেলেন তাঁরা। এরপর উভয় পক্ষ হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২০ মিনিট তিন দফায় এমন হাতাহাতি চলে। একে অপরকে আপত্তিকর গালিগালাজ করতেও শোনা যায়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবুল আরফিন বলেন, ‘এটা তাঁদের (শিক্ষক ইউনিট) পরিকল্পিত ঘটনা। বিশৃঙ্খলা করতেই এটা করা হয়েছে। জুনিয়র শিক্ষকেরা আমাদের সিনিয়র শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেছেন। এটা লজ্জাজনক। আমি পরিস্থিতি ঠেকাতে গিয়েছি। তাঁদের অভিযোগ সত্য নয়।’এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য মাহবুবুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাঁরা সাড়া দেননি।