প্রচ্ছদ উদ্যোক্তা

১৪ টি শাড়ী বিক্রির টাকাই ব্যবসার প্রথম পুঁজি

19
১৪ টি শাড়ী বিক্রির টাকাই ব্যবসার প্রথম পুঁজি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

১৪ টি শাড়ী বিক্রির টাকাই ব্যবসার প্রথম পুঁজি

ছোট বেলা থেকেই চাকরি করার পক্ষপাতি ছিলেন না। স্বাধীনভাবে কিছু করার ইচ্ছে ঘুরত মনের ভেতর। ছবি আঁকার হাতে-খড়ি দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়াশোনার সময় থেকেই। ছাত্রজীবনে স্কুল ও একাডেমিতে বাচ্চাদের চিত্রাংকন শেখাতেন। নিজের ও বন্ধুদের জামা, টি-শার্টে এঁকে দিতেন নানা নকশা। পোশাক নিয়ে কাজ করার ইচ্ছাটা মনে সুপ্ত ছিল।

বাবা মায়ের ইচ্ছায় অর্থনীতিতে মাস্টার্স করলেও কোনদিন চাকরির জন্য কোথাও চেষ্টা করেননি। তিনি নুরুন্নাহার নীলা। একদিন নিজের বাসা থেকেই শুরু করলেন স্বপ্নের বাস্তবায়ন। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে নীলা তার এই সংগ্রামের গল্প শোনান। ভারতীয় জামা-শাড়ি খুব সহজলভ্য বলে এগুলো দিয়েই ব্যবসা শুরু করেন অনেকে।

কিন্তু শুরুতে নীলা খুবই অল্প টাকায় টাঙ্গাইলে গিয়ে কিনে আনলেন ১৪ টি শাড়ি। বাসায় এসে মোবাইলে কিছু ছবি তুলে একটা পেইজ সাজালেন। অনলাইনে ১৪টি শাড়ি নিয়েই পাঁচ বছর আগে শুরু হয়েছিল ‘সাতকাহন’ নামে প্রতিষ্ঠানের পথচলা। বন্ধুদের সবাই ভালো চাকরি করছে। আর তিনি অনলাইনে শাড়ি বিক্রি করছেন।

আরও পড়ুন:  অধিক লাভজনক ফিড মিল ব্যবসার আইডিয়া!

এ নিয়ে কিছু মানুষ সমালোচনা করলেও অধিকাংশ মানুষই উৎসাহ দিতো। আসলে আশে পাশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ-সহযোগিতার জন্যই শত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও কখনো পিছিয়ে পড়েননি নীলা। গুছিয়ে নিখুঁতভাবে কাজ করার চেষ্টা করেন নীলা। ব্যবসার শুরুতেই মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করলেন। বহু ক্রেতার কাছে শাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন টাকা ছাড়াই।

ক্রেতারা শাড়ি দেখে খুশি হয়ে পরে টাকা দিয়েছেন। এভাবে অল্প কিছু দিনের মাঝেই সাতকাহন লাভের মুখ দেখতে থাকে। বাড়তে থাকে অর্ডার। এক সময় একজন কর্মচারী নিয়োগ দিলেন। একবছর পর উত্তরায় নিজের আলাদা অফিস আর শো-রুম হলো সাতকাহনের। উত্তরা অনেক দূরে হয়ে যায় কাস্টমারের এমন অভিযোগের কারণে বসুন্ধরা সিটিতে সাতকাহনের দ্বিতীয় শো-রুমটি চালু করা হয়।

শাড়ির পাশাপাশি নিজের ডিজাইন করা পাঞ্জাবি, ব্লাউজ, কুর্তি, গহনা, টিপ, সালোয়ার-কামিজ নিয়েও কাজ শুরু হলো। নীলা জানান, আমার ব্যবসায় প্রথম ১৪টি শাড়ির টাকাই সাতকাহনের প্রথম এবং শেষ বিনিয়োগ। সাতকাহনের শাড়ির সব ডিজাইন নীলা নিজে করেন। প্রতিটি বাঙালি উৎসবকে সামনে রেখে নানা আয়োজন থাকে সাতকাহনের-ডিজাইন গুলোতে থাকে দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

আরও পড়ুন:  ছাত্র অবস্থায় পড়াশুনার পাশাপাশি করতে পারেন যে ১০ ব্যবসা!

নিজস্ব তাঁতিরা রাত দিন নিরলস পরিশ্রম করে শাড়ি বুনে যান আর নিজস্ব কারখানায় চলে রঙ্গিন ডিজাইনের কাজ। অনলাইন ছাড়াও শো রুমে ক্রেতারা সাতকাহনের পন্য কিনতে পারছেন। উত্তরা সাত নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কে ৬৩ নম্বর বাসায়ও শো রুম আছে সাতকাহনের। তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares